Image
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

হাসিনা পালিয়ে দিল্লিতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক তলানিতে

হাসিনা পালিয়ে দিল্লিতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক তলানিতে

কয়েক দশক ধরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতের মধ্যে ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। কিন্তু চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে সেই সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।

 

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক অবস্থা তুলে ধরে এবিসি নিউজের করা এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে কোটার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভের ফলে শুরু হওয়া আন্দোলন শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ‘দেশব্যাপী আন্দোলনে’ পরিণত হয়।

ছাত্র-জনতার এই গণআন্দোলনকে “বিশ্বের প্রথম জেন-জি বিপ্লব” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দেওয়া এই আন্দোলনের ফলস্বরূপ শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান — এবং এরপর থেকে তিনি দিল্লিতেই নির্বাসিত রয়েছেন।


এর পরের মাসগুলোতে নানা ঘটনাবলীর প্রেক্ষপটে বাংলাদেশে এক হিন্দু নেতাকে গ্রেপ্তার এবং ভারতে বাংলাদেশের একটি কনস্যুলেটে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতার হামলার ঘটনা দুই দেশের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

এখন দক্ষিণ এশীয় এই দুই জায়ান্ট দেশের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে নেমেছে এবং সম্পর্কের মধ্যে ধর্মীয় উত্তেজনাও বিদ্যমান রয়েছে।

‘সহিংসতা আমাদের শত্রু’ 
‘আয়রন লেডি’ খ্যাত শেখ হাসিনার কট্টর ও স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে তার অন্যান্য দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল অংশীদার বলে মনে করেত।

যদিও আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা সকলেই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্থান-পতনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। কিন্তু হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামল গত আগস্টে আকস্মিকভাবে অবসান ঘটার পর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।

দিল্লিতে মেয়ের সঙ্গে থাকছেন হাসিনা, ঘুরতে দেখা গেছে পার্কে

দিল্লিতে মেয়ের সঙ্গে থাকছেন হাসিনা, ঘুরতে দেখা গেছে পার্কে

বাংলাদেশের ১৭৪ মিলিয়ন বা ১৭ কোটি ৪০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে হিন্দুদের সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ এবং তাদের অনেকেই ঐতিহাসিকভাবে হাসিনার আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিল। হাসিনা ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ অনেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রতীক এবং কিছু ক্ষেত্রে দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিন্দুদেরও টার্গেট করেছিল।

সেই সময়ে ড. ইউনূস সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে “অর্থহীন সহিংসতার” নিন্দা করেছিলেন এবং হামলা বন্ধ না হলে পদত্যাগ করার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সহিংসতা আমাদের শত্রু। দয়া করে আর শত্রু তৈরি করবেন না। শান্ত হোন এবং দেশ গড়তে প্রস্তুত হন।

তবুও ড. ইউনূসের সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট কাজ না করার অভিযোগ করেছে ভারত। ভারতে নির্বাসিত থাকা হাসিনাও দাবি করেছেন, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে “গণহত্যার” জন্য দায়ী এই সরকার।

পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ : যে শর্ত দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ : যে শর্ত দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গত সেপ্টেম্বরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে রাশিয়া-ইউক্রেন, ইসরায়েল-গাজার মধ্যে চলমান সংঘাত এবং বাংলাদেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির উল্লেখ করে “অপ্রত্যাশিত” পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কিন্তু গত নভেম্বরের শেষের দিকে বাংলাদেশে একজন হিন্দু সন্ন্যাসীকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এটি ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’
চলতি বছরের অক্টোবরে এক সমাবেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে অসম্মান করার অভিযোগে হিন্দু নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তার সমর্থকদের বিশ্বাস, হিন্দুদের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়ে সোচ্চার থাকায় তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

যদিও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতীয় এক সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার দাবিগুলো অতিরঞ্জিত করে সামনে আনা হয়েছে।

 

ইতোমধ্যেই ভারতে উগ্র কট্টরপন্থি হিন্দু গোষ্ঠী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশের ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি অনেক দলই ভারতের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে এবং উভয় দেশের সরকার — যারা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক উপভোগ করেছে — ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসিনা সরকারের পতনের অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশে ভারতকে নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের রিসার্চ ফেলো অমিত রঞ্জন বলেন, “বাংলাদেশি সমাজের সবসময়ই এই অনুভূতি থাকে যে— বাংলাদেশের বিষয়ে খুব বেশি হস্তক্ষেপ করে ভারত। বাংলাদেশিদের এই অনুভূতিও আছে যে— হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন টিকে ছিল ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্টের সমর্থনে।”

 

বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির গবেষক খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শুধুমাত্র “হাসিনার আওয়ামী শাসনামলের সাথে উষ্ণ ছিল, সাধারণ মানুষের সাথে নয়। এখানে বাংলাদেশে আমরা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বলে উপহাস করতাম।”

হাসিনার পতনের পর ভারতীয় কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা ড. ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে এবং বাংলাদেশের পতাকা অবমাননা করেছে। আর উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের এমন ছবি যা বাংলাদেশে ভারতের প্রতি ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এবং চলতি ডিসেম্বর মাসের শুরুতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে সম্প্রতি হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা সেখানে ভাঙচুর চালায় এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি অবমাননা করে।
আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে হামলার পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে এবং এই হামলাকে ভিয়েনা কনভেনশনের লঙ্ঘন বলে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় সাত বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনাটিকে “গভীরভাবে দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করেছে।

এছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে সম্পর্কের আরও উত্তাপ কমাতে এবং একইসঙ্গে উভয় দেশের মধ্যে প্রথম শীর্ষ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে চলতি মাসে ঢাকা সফর করেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।

পলাতক হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রশ্ন
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন ২০২৫ সালের শেষ দিকে বা ২০২৬ সালের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত হবে। হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে সহায়ক ভূমিকা রাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সম্ভবত বেশ ভালোভাবেই ওই নির্বাচনে জয় পাবে এবং সরকার গঠন করতে পারে।

 

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা জেনসের সিনিয়র বিশ্লেষক শিবানী গায়কওয়াদ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকে বিএনপি তার চীনপন্থি অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, “চীনপন্থি এবং ইসলামপন্থি অবস্থান নিয়ে বিএনপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা খুব সম্ভবত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে।”

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, চলতি বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অন্যান্য আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারের পরোয়ানা জারি করেছে।

বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির গবেষক খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান বলছেন, হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার যে কোনও প্রচেষ্টা ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি এবং বিরোধীদল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস উভয়ের দ্বারাই প্রতিরোধের সম্মুখীন হবে।

 

তিনি বলেন, “ভারত চাইবে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হোক, পুনর্গঠিত হোক এবং মূলধারার রাজনীতিতে ফিরে আসুক।”

তবুও বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ভারত সরকার তাকে (হাসিনাকে) বাংলাদেশ সরকারের হস্তান্তর করতে প্রস্তুত কিনা তার ওপর।

অস্ট্রেলিয়ায় সাত বছর নির্বাসনের পর বাংলাদেশের শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার কর্মী মোবাশ্বর হাসান সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পতনের পরিপ্রেক্ষিতে তার জন্মভূমি বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন।

ডা. হাসান এবিসির দ্য ওয়ার্ল্ডকে বলেছেন, “ভারত যদি শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করতে অস্বীকার করে, তাহলে আমরা বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণভাবে আরও ভারতবিরোধী মনোভাবের বৃদ্ধি দেখতে পাব। তারা পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকারকে ফ্যাসিবাদী বলে আখ্যায়িত করে থাকে এবং সেই সরকার ভারত সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনেই টিকে ছিল বলে মনে করে।”

মন্তব্য / প্রেরক

রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার দাবি। সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্কবার্তা

রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার দাবি। সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্কবার্তা
ফটো প্রতিকি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।

হুথিদের দাবি অনুযায়ী, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। একইসঙ্গে সৌদি আরবের রাবিঘ এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনা, দক্ষিণাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইত এলাকার সামরিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

বিমান চলাচলে বিঘ্নের দাবি

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলার ফলে বিমান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। সোমবার রাতে রিয়াদের আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎসের তথ্যেও কয়েকটি ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন বা বিলম্বের কথা উঠে এসেছে। তবে বিমানবন্দরে হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বা পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম বন্ধের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

সৌদি আকাশসীমা নিয়ে হুথিদের সতর্কবার্তা

হামলার আগে হুথিরা সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকেও সতর্ক করে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বলা হয়, মক্কা ও মদিনার পবিত্র আকাশসীমা বাদে সৌদি আরবের বাকি আকাশসীমাকে তারা সম্ভাব্য হামলার আওতায় বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সৌদির কঠোর প্রতিক্রিয়া

হুথিদের হামলার দাবির পর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানায়। সরকারি বিবৃতিতে রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব এলাকায় সৌদি নৌযান লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে সৌদি সরকার দেশের ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব, সম্পদ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সৌদি সরকারের এই অবস্থানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে তীব্র হয়েছে। ৫ অক্টোবর সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। এর পরই সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি সামনে আসে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা

রিয়াদে হামলার দাবি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। সৌদি আরবের পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘও ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রিয়াদ মিশন ৫ অক্টোবর সৌদি আরবে সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি নিয়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি: হুথিরা রিয়াদ বিমানবন্দরসহ একাধিক সৌদি স্থাপনায় হামলার দাবি করলেও বিমানবন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে রিয়াদের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা এবং সম্ভাব্য বিমান চলাচল বিঘ্নের তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ফলে সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের নতুন এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মন্তব্য / প্রেরক

জাতিসংঘ ‘অকার্যকর সংস্থা’, এর কর্মকর্তারা ‘অহংকারী পরজীবী’: আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট

জাতিসংঘ ‘অকার্যকর সংস্থা’, এর কর্মকর্তারা ‘অহংকারী পরজীবী’: আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
ফটো: সংগৃহিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তীব্র ভাষায় জাতিসংঘের সমালোচনা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। তিনি জাতিসংঘকে একটি ‘অকার্যকর সংস্থা’ এবং এর কর্মকর্তাদের ‘অহংকারী পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ভাষণে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলা দেশগুলো কোনো ন্যায্যতা বা পুরস্কার পাচ্ছে না, অন্যদিকে যারা নিয়ম ভঙ্গ করছে তাদেরও কোনো জবাবদিহিতা বা শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিশ্বসংস্থাটি সম্মিলিত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষা করার ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর পরিবর্তে সেখানে বিশৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার কাছে যা ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত) নিয়ে যুক্তরাজ্যের সাথে দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখেনি এবং চোখ বন্ধ করে রয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাভিয়ের মিলেই। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান যে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দিকে তাকিয়ে বসে না থেকে আর্জেন্টিনা নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় নিজেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

মন্তব্য / প্রেরক

বুলডোজারে মাটি সরাতেই মিলল ৯ কেজির সোনার পিণ্ড

বুলডোজারে মাটি সরাতেই মিলল ৯ কেজির সোনার পিণ্ড
ফটো: ইন্টারনেট

দিনটি ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। বুলডোজার দিয়ে মাটি সরানোর কাজ করছিলেন এক খনি শ্রমিক। হঠাৎ মাটির নিচে চোখে পড়ে চকচকে একটি বস্তু। প্রথম দেখায় পাথর মনে হলেও কাছে যেতেই বোঝা যায়—এটি কোনো সাধারণ পাথর নয়, বিশাল এক প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড!

ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের রুবি শহরের কাছে সুইফট ক্রিক এলাকায়। খনি শ্রমিক ব্যারি ক্লে মাটি কাটার সময় আবিষ্কার করেন প্রায় ৯ দশমিক ১৪ কেজি ওজনের বিশাল ওই সোনার পিণ্ড। পরবর্তী সময়ে এটি পরিচিতি পায় ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’ নামে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পিণ্ডটির ওজন ছিল ২৯৪ দশমিক ১০ ট্রয় আউন্স—অর্থাৎ ২০ পাউন্ডের কিছু বেশি। আকারে এটি প্রায় একটি শিশুর মাথার সমান। আবিষ্কারের পর এটি আলাস্কায় পাওয়া সবচেয়ে বড় অক্ষত প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড হিসেবে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

নামকরণে রয়েছে ইতিহাস

আলাস্কার বিখ্যাত ক্লনডাইক সোনার সন্ধানের শতবর্ষ পূর্তিকে স্মরণ করে পিণ্ডটির নাম দেওয়া হয় ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’। বিশাল আকৃতি, প্রাকৃতিক অবস্থার অক্ষুণ্নতা এবং বিরলতার কারণে এটি দ্রুতই খনি ও সোনার ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেয়।

তৎকালীন হিসাবে, পশ্চিম গোলার্ধে আবিষ্কৃত প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ডগুলোর মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম। এর চেয়ে বড় ‘বুট অব কর্টেজ’ নামের একটি সোনার পিণ্ড ১৯৮৯ সালে মেক্সিকোতে পাওয়া যায়, যার ওজন ছিল প্রায় ২৪ পাউন্ড।

দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত মালিকানায়

অবিশ্বাস্য এই আবিষ্কারের পরপরই ব্যারি ক্লে পিণ্ডটি বিক্রি করে দেননি। দুই দশকেরও বেশি সময় এটি ব্যক্তিগত মালিকানায় ছিল।

পরে ২০২১ সালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ক্লের কাছ থেকে পিণ্ডটি সংগ্রহ করেন এক বিক্রেতা। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অবস্থিত হেরিটেজ নিলাম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এটি নিলামে তোলা হয়।

অনলাইন নিলামে এক সংগ্রাহক ৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’ কিনে নেন।

শুধু সোনার দামেই নয়, বিরলতাতেও মূল্যবান

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় আকারের এবং তুলনামূলকভাবে অক্ষত অবস্থায় থাকা প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড অত্যন্ত বিরল। ফলে এর মূল্য কেবল এতে থাকা সোনার বাজারদর দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বিরলতার কারণেও সংগ্রাহকদের কাছে এর বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে।

হেরিটেজ নিলামের পক্ষ থেকেও নিলামের আগে জানানো হয়েছিল, ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’ আলাস্কায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় সোনার পিণ্ড।

একজন খনি শ্রমিকের সাধারণ কর্মদিবসে বুলডোজারের নিচে হঠাৎ পাওয়া সেই চকচকে বস্তুটি শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে আলাস্কার খনি ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত আবিষ্কার। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা সেই সোনার পিণ্ড শুধু ব্যারি ক্লের ভাগ্যই বদলায়নি, বরং স্বর্ণ অনুসন্ধানের ইতিহাসে যোগ করেছে এক বিস্ময়কর অধ্যায়।

সূত্র: এনডিটিভি

মন্তব্য / প্রেরক

সুইডেনের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে বামঘেঁষা জোট, ফিরতে পারেন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন ১৭৬ আসন পেয়েছে চারদলীয় বিরোধী জোট, ক্রিস্টারসনের জোটের আসন ১৭৩; পদত্যাগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

সুইডেনের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে বামঘেঁষা জোট, ফিরতে পারেন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন ১৭৬ আসন পেয়েছে চারদলীয় বিরোধী জোট, ক্রিস্টারসনের জোটের আসন ১৭৩; পদত্যাগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ফটো: ইন্টারনেট

সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে গেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বামপন্থী বিরোধী জোট। চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষে চারদলীয় বিরোধী জোট ৩৪৯ আসনের রিক্সড্যাগে পেয়েছে ১৭৬টি আসন। বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন ডানঘেঁষা জোট পেয়েছে ১৭৩টি আসন।

ফলাফল প্রকাশের পরই প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা জানান।

অল্প ব্যবধানে পাল্টে গেল ক্ষমতার সমীকরণ

সুইডেনের ২০২৬ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দুই শিবিরের মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত কম। ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন জোট।

সুইডিশ নির্বাচন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট পেয়েছে ১৭৬ আসন এবং ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন সরকারপন্থী চার দলের জোট পেয়েছে ১৭৩ আসন। বিদেশ থেকে আসা ভোটসহ বাকি ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর এই ব্যবধান নিশ্চিত হয়।

তবে আসনসংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও নতুন সরকার গঠন অ্যান্ডারসনের জন্য সরল হবে না। তাঁর সম্ভাব্য মিত্র দলগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও রাজনৈতিক পার্থক্য রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আসন সোশাল ডেমোক্র্যাটদের

নির্বাচনে একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের সোশাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। দলটি পেয়েছে ৯৯টি আসন। তবে আগের পার্লামেন্টের তুলনায় দলটির আসন কমেছে আটটি।

অ্যান্ডারসন ২০২১ সালে সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর তিনি ক্ষমতা হারান। এবারের নির্বাচনী ফল তাঁকে আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ফেরার সুযোগ তৈরি করেছে।

ফলাফল ঘোষণার পর অ্যান্ডারসন বলেন, সুইডিশ জনগণ দেশের জন্য নতুন দিক বেছে নিয়েছে এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

সরকার গঠনেই বড় পরীক্ষা অ্যান্ডারসনের

অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে সোশাল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি, লেফট পার্টি ও সেন্টার পার্টি। চার দলের রাজনৈতিক অবস্থান এক নয়। বিশেষ করে সেন্টার পার্টি ও লেফট পার্টির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে।

সেন্টার পার্টি জানিয়েছে, তারা এমন কোনো সরকারে যোগ দিতে চায় না যেখানে লেফট পার্টিও সরাসরি অংশীদার থাকবে। ফলে অ্যান্ডারসনকে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সমঝোতার কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে।

রাজনৈতিকভাবে একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে—লেফট পার্টিকে মন্ত্রিসভার বাইরে রেখে পার্লামেন্টে তাদের সমর্থন নিশ্চিত করা। তবে এই সমীকরণ চূড়ান্ত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

ক্রিস্টারসনের জোটে বড় ধাক্কা

উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২২ সাল থেকে তিনদলীয় মধ্য-ডান জোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় ছিল। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে তাদের বাইরে থেকে সুইডেন ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

এবার সেই সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে। সুইডেন ডেমোক্র্যাটরা ৬২টি আসন পেয়েছে—আগের তুলনায় ১১টি কম। দলটি এবার ক্রিস্টারসনের সম্ভাব্য নতুন সরকারে মন্ত্রিসভায় সরাসরি অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু নির্বাচনী ফল সেই পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে।

এখন কী হবে?

সুইডেনের সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় পার্লামেন্টের স্পিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। স্পিকার প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থী মনোনয়ন করবেন এবং রিক্সড্যাগে সেই প্রার্থীর বিষয়ে ভোট হবে।

অ্যান্ডারসন এখন সরকার গঠনের জন্য সম্ভাব্য মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করতে পারেন, অথবা কিছু দলের সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনার চেষ্টা করতে পারেন।

তবে কোনো প্রার্থীকে চারবার প্রত্যাখ্যান করা হলে সুইডেনের নিয়ম অনুযায়ী নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

অভিবাসন ও অপরাধনীতি নিয়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনা

নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অভিবাসন ও অপরাধনীতি। ক্রিস্টারসনের সরকার গত চার বছরে অভিবাসন ও অপরাধ দমনে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এসব নীতির কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তনের কথা বলেছে এবং কল্যাণব্যবস্থা, পরিবেশ ও সামাজিক বৈষম্যের বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

তবে সুইডেনের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির বেশ কিছু বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে বিস্তর ঐকমত্য রয়েছে। ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং ন্যাটোর সদস্যপদ তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সুইডেন ২০২৪ সালে ন্যাটোর ৩২তম সদস্য হয়।

ইউরোপীয় রাজনীতিতেও নজর সুইডেনের দিকে

সুইডেনের নির্বাচনের ফল ইউরোপীয় রাজনীতিতেও বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধী দলগুলোর প্রভাব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। সুইডেনে এবার সেই প্রবণতার বিপরীতে মধ্য-বামপন্থী জোট অল্প ব্যবধানে এগিয়ে এসেছে।

তবে মাত্র তিন আসনের ব্যবধানে পাওয়া এই ফলকে সরাসরি একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। নতুন সরকার কীভাবে গঠিত হবে এবং কোন দলগুলো মন্ত্রিসভায় থাকবে—তার ওপরই আগামী দিনের রাজনৈতিক দিক অনেকটা নির্ভর করবে।

আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন স্টকহোমে

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর সুইডেনে শুরু হয়েছে সরকার গঠনের আলোচনা। ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরতে পারবেন কি না, তা এখন নির্ভর করছে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের অভ্যন্তরীণ সমঝোতা এবং পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করার ওপর।

অন্যদিকে ক্রিস্টারসনের পদত্যাগের পর তাঁর জোটও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা করবে। ফলে নির্বাচনে ১৭৬–১৭৩ আসনের ফলাফল প্রকাশ হলেও সুইডেনের পরবর্তী সরকার কেমন হবে, তার চূড়ান্ত উত্তর এখনো বাকি।

তথ্য : ইন্টারনেট

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date