Image
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

ভারতকে পছন্দ করেন ৫৩.৬ শতাংশ, অপছন্দ করেন ৪১.৩ শতাংশ বাংলাদেশি

ভারতকে পছন্দ করেন ৫৩.৬ শতাংশ, অপছন্দ করেন ৪১.৩ শতাংশ বাংলাদেশি
লাল কেল্লায় ভারতের পতাকা উড়ছে। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের ৪১.৩ শতাংশ মানুষ ভারতকে অপছন্দ করে আর দেশ হিসেবে ভারতকে পছন্দ করেন ৫৩.৬ শতাংশ বাংলাদেশি।

শনিবার (০৭ ডিসেম্বর) ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার এক জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপটির ফলাফল থেকে দেখা গেছে, বাংলাদেশে, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। দেশের মানুষ অন্যান্য উন্নয়নসহযোগী দেশ সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করেন।

জরিপে ১,০০০ উত্তরদাতাকে কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশকে ১ থেকে ৫ স্কেলে ‘ভোট’ দিয়ে তাদের মতামত জানান। স্কেলের ১ এবং ২ মিলে হয় ‘পছন্দ’ আর ৪ এবং ৫ মিলে ‘অপছন্দ।’

ভারতকে পছন্দ করেন ৫৩.৬ শতাংশ, অপছন্দ করেন ৪১.৩ শতাংশ বাংলাদেশি

উত্তরদাতাদের ৫৯ শতাংশ পাকিস্তানকে ‘পছন্দ’ স্কেলে বাছাই করেন। অন্যদিকে, ভারতের ‘পছন্দ’ স্কোর ছিল ৫৩.৬ শতাংশ। তবে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই চরম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দুটোর মধ্যে ‘অপছন্দ’ স্কেলে বেশ বড় ব্যবধান লক্ষ করা যায়। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, উত্তরদাতাদের ২৮.৫ শতাংশ পাকিস্তানকে ‘অপছন্দ’ করে মত দেন। অন্যদিকে, ভারতের ‘অপছন্দ’ স্কোর ছিল ৪১.৩ শতাংশ।

প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে ‘অপছন্দ’ হচ্ছে মিয়ানমার, যা আগে বার্মা নামে পরিচিত ছিল। উত্তরদাতারা মিয়ানমারকে ‘অপছন্দ’ স্কেলে ৫৯.১ শতাংশ এবং ‘পছন্দ’ স্কেলে ২৪.৫ শতাংশ রায় দেয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচারের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

অন্যান্য বাছাই করা দেশের মধ্যে, ‘পছন্দ’ স্কেলে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি ভোট পায় (৬৮.৪ শতাংশ), এদিকে চীন (৬৬ শতাংশ), রাশিয়া (৬৪ শতাংশ) এবং যুক্তরাজ্য (৬২.৭ শতাংশ) বেশি দূরে ছিল না।

অক্টোবরের ১৩ থেকে ২৭ তারিখ, ভয়েস অব আমেরিকা দেশব্যাপী এই জরিপটি করে।

জরিপটি ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার এডিটোরিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করে গবেষণা ও জরিপ প্রতিষ্ঠান ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড। ভয়েস অব আমেরিকার ঠিক করে দেওয়া সুনির্দিষ্ট (ক্লোজ অ্যান্ড) প্রশ্নমালার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড টেলিফোন ইন্টারভিউইংয়ের মাধ্যমে দেশের আটটি বিভাগে ১৮ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সী এক হাজার মানুষের মধ্যে জরিপটি পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশের জনতত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জরিপের ১,০০০ উত্তরদাতা বাছাই করে নেওয়া হয়। সেখানে সমান সংখ্যার নারী এবং পুরুষ ছিলেন। তাদের মধ্যে ৯২.৭ শতাংশ ছিলেন মুসলিম। উত্তরদাতাদের অর্ধেকের একটু বেশি ছিল ৩৪ বছর বয়সের নিচে এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ শহুরে মানুষ।

ভারতকে পছন্দ করেন ৫৩.৬ শতাংশ, অপছন্দ করেন ৪১.৩ শতাংশ বাংলাদেশি
ভারতকে পছন্দ করেন ৫৩.৬ শতাংশ, অপছন্দ করেন ৪১.৩ শতাংশ বাংলাদেশি
ধর্ম এবং বয়সের পার্থক্য

ধর্মের ভিত্তিতে ভারত এবং পাকিস্তান সম্পর্কে জরিপে প্রকাশিত মতামতে পার্থক্য দেখা যায়। মুসলিম উত্তরদাতাদের মধ্যে ৪৪.২ শতাংশ ভারতকে ‘অপছন্দ’ করে মত দেন। অন্যদিকে, অমুসলিম (হিন্দু, ক্রিস্টান ও বৌদ্ধ) উত্তরদাতাদের মাত্র ৪.২ শতাংশ ভারতকে ‘অপছন্দ’ করেন।

তবে মুসলিম এবং অমুসলিমদের মধ্যে দু’দেশের প্রতিই ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়।

পাকিস্তানের পক্ষে ‘পছন্দ’ স্কেলে ভোট দেন মুসলিম উত্তরদাতাদের ৬০.১ শতাংশ আর অমুসলিম উত্তরদাতাদের ৪৪.১ শতাংশ। তবে, ভারতকে ‘পছন্দ’ স্কেলে মত দেন মুসলিম উত্তরদাতাদের ৫০.৭ শতাংশ আর অমুসলিম উত্তরদাতাদের ৯০.১ শতাংশ ।

বয়স ভেদেও কিছু তারতম্য লক্ষ করা গেছে। তরুণদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রতি ‘পছন্দ’ ভারতের থেকে অনেক বেশি। কিন্তু ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে পছন্দের স্কেলে পাকিস্তান থেকে ভারত কিছুটা এগিয়ে আছে।

উত্তরদাতাদের মধ্যে যারা ১৮-৩৪ বছরের বয়সী, তাদের ৪৭.৮ শতাংশ ভারতকে ‘পছন্দ’ এবং ৪৯.৩ শতাংশ ‘অপছন্দ’ করেছেন। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, ৬২.১ শতাংশ ‘পছন্দ’ এবং ২৬.৮ শতাংশ ‘অপছন্দ’ করেছেন।

তবে ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে যেসব উত্তরদাতা ছিলেন, তাদের মধ্যে ভারতকে ৫৯.৮ শতাংশ ‘পছন্দ’ আর ৩৫ শতাংশ ‘অপছন্দ’ করেছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানকে ‘পছন্দ’ করেছেন ৫৫.৭ শতাংশ এবং ৩০.৫ শতাংশ ‘অপছন্দ’ করেছেন।

নারী ও পুরুষের মনোভাব

পুরুষ উত্তরদাতাদের মধ্যে ভারতকে ‘পছন্দ’ করেন ৫২ শতাংশ, অন্যদিকে ৬৪.৪ শতাংশ পুরুষ পাকিস্তানকে ‘পছন্দ’ করেন। তবে নারী উত্তরদাতাদের মধ্যে ৫৫.৩ শতাংশ ভারতকে ‘পছন্দ’ করেন আর ৫৩.২ শতাংশ পাকিস্তানের ‘পছন্দ’ স্কেলে রায় দেন।

নারী ও পুরুষের মধ্যে ভারতকে ‘অপছন্দ’ করার মাত্রা প্রায় সমান ছিল (যথাক্রমে ৪০.৪ এবং ৪২.৩ শতাংশ) অন্যদিকে, পাকিস্তানকে ‘অপছন্দ’ করার মাত্রা নারী ও পুরুষ উত্তরদাতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল (যথাক্রমে ৩০.২ এবং ২৬.৭ শতাংশ)।

শহুরে এবং মফস্বলের উত্তরদাতাদের মনোভাবে খুব একটা পার্থক্য বের হয়ে আসেনি। শহুরেদের মধ্যে ৫০.৪ শতাংশ ভারতকে ‘পছন্দ’ স্কেলে রায় দিয়েছেন, আর পাকিস্তানকে দিয়েছেন ৬৩.৯ শতাংশ। অন্যদিকে, মফস্বলের উত্তরদাতাদের ৫৪.৭ শতাংশ ভারতকে ‘পছন্দ’ করেছেন আর পাকিস্তানকে ‘পছন্দ’ করেছেন ৫৭.৩ শতাংশ।

শহুরে এবং মফস্বলের উত্তরদাতারা প্রায় সমানভাবে ভারতকে ‘অপছন্দের’ স্কেলে রায় দিয়েছেন – যথাক্রমে ৪৩.৬ এবং ৪০.৬ শতাংশ। পাকিস্তানকে ‘অপছন্দের’ স্কেলে ২৬.৭ শতাংশ শহুরে এবং ২৮.৯ শতাংশ গ্রামীণ উত্তরদাতা রায় দিয়েছেন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারত

ভারত এবং পাকিস্তান ‘পছন্দ’ স্কেলে প্রায় সমান হলেও, ‘অপছন্দের’ স্কেলে ভারতের পাল্লা বেশি ভারী। এর কারণ হিসেবে অনেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকাকে দায়ী করেন।

গত ৫ আগস্ট ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে হাসিনা সরকারের পতনের তিন দিন পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাব বিভিন্ন গোষ্ঠীর কর্মসূচিতে প্রকাশ পাচ্ছে। দেশের গণমাধ্যমেও আগের তুলনায় বেশি ভারতবিরোধী বক্তব্য স্থান পাচ্ছে।

ড. ইউনূস ভারত সম্পর্কে বাংলদেশের বৈরী মনোভাবের কারণ নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধান সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক এখন ‘নিম্ন পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।

তিনি অভিযোগ করেন যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে ভারত শুধু একটি দল, আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভর করেছে।

পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন ভারতের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ককে মূল্য দেয়, তেমনি নয়াদিল্লিকেও অবশ্যই আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য সব রাজনৈতিক দলকে ইসলামপন্থি হিসেবে চিত্রিত করা এবং শেখ হাসিনা ছাড়া দেশ আফগানিস্তানে পরিণত হবে এমন বক্তব্য পরিহার করতে হবে।’

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও জোর দিয়ে বলেন, দিল্লিকে অবশ্যই এই বক্তব্য পরিত্যাগ করতে হবে যে, কেবল হাসিনার নেতৃত্বই দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

ইউনূস বলেন, ‘ভারতকে এই আখ্যান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে যে, সবাই ইসলামপন্থি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ইসলামপন্থি, আর বাকি সবাই ইসলামপন্থি এবং তারা এই দেশকে আফগানিস্তান বানাবে। আর শেখ হাসিনার কাছেই বাংলাদেশ নিরাপদ। ভারত এই গল্পে মুগ্ধ। ভারতকে এই আখ্যান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্য যে কোনো দেশের মতো বাংলাদেশও আরেকটি প্রতিবেশী।’

সম্প্রতি বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে ভারতের উদ্বেগকে তিনি নাকচ করে দিয়ে বলেন, এটি একটি অজুহাত মাত্র। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের অবস্থা এত বড় আকারে তুলে ধরার চেষ্টা একটা অজুহাত মাত্র।

দিল্লিতে শেখ হাসিনা

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ অগাস্ট থেকেই ভারতে আছেন এবং ভারত সরকার তার জন্য ভিআইপির মর্যাদা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়টি বাংলাদেশের অনেকের কাছে ‘অবন্ধুসুলভ আচরণ’ বলেই মনে হয়।

গত ১৭ অক্টোবর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতেই আছেন। রাজধানী দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তার কারণে খুব অল্প সময়ের নোটিশে শেখ হাসিনা ভারতে চলে এসেছিলেন, এখনো আছেন।

তবে ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন, নির্দেশ দিচ্ছেন, এ রকম খবর স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়ছে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়কে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, যে ভারতে হাসিনার উপস্থিতি বাংলাদেশে জল্পনা-কল্পনাকে 'উসকে' দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে কেউই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না, কারণ "আমরা তাকে বিচারের জন্য আবার ফিরিয়ে আনতে চাই।

ড. ইউনূস অভিযোগ করেন যে, শেখ হাসিনা ভারতে থেকে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ দিচ্ছেন, যেটাকে তিনি 'অবন্ধুত্বসুলভ ইঙ্গিত’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন,‘তিনি ভারতে আছেন এবং মাঝে মাঝে কথা বলছেন, যা সমস্যার তৈরি করছে। তিনি যদি চুপ থাকতেন, তাহলে আমরা (বিষয়টি) ভুলে যেতাম, লোকজনও ভুলে যেতেন, কারণ তিনি নিজের জগতে থাকতেন। কিন্তু ভারতে বসে তিনি কথাবার্তা বলছেন ও নানা নির্দেশনা দিচ্ছেন। কেউ এটা পছন্দ করছেন না।’

বিজেপির ‘বাংলাদেশ কার্ড’

তবে বাংলাদেশে ভারতের প্রতি যে বৈরী মনোভাব বিদ্যমান, সেটা হঠাৎ করেই আসেনি বা অগাস্টের পটপরিবর্তনের কারণে ঘটেনি।

দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কিছু রাজনীতিবিদ, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের অনেক নেতা, দেশের নির্বাচনে বাংলাদেশকে ইস্যু হিসেবে উপস্থাপন করেন। তাদের অভিযোগ হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসন বা ‘অনুপ্রবেশের’ ঘটনা ঘটছে। এ’ধরনের কথাবার্তা মাঝেমধ্যে কূটনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করে।

সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঝাড়খণ্ড রাজ্য সফরে গিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেন, সেটাকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের “গুরুতর সংশয়, গভীর আঘাত ও চরম অসন্তোষের” কথা জানিয়েছে।

ভারতের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অমিত শাহ ২০ সেপ্টেম্বর ঝারখান্ড রাজ্যে এক নির্বাচনী সভায় হুমকি দেন যে, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করার পর “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের” উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হবে।

‘আমি আপনাদের সবাইকে আহ্বান করছি, ঝারখান্ডে বিজেপি সরকার গঠন করুন এবং আমরা প্রতিটি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করে দেবো,’ রাজ্যের সাহেবগঞ্জ জেলার সাঁওতাল পরগনায় এক জনসভায় শাহ’র বক্তব্য উদ্ধৃত করে কলকাতার দ্য টেলিগ্রাফ জানায়।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে আসা এ ধরনের মন্তব্য দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে।

ফেলানির স্মৃতি

সীমান্ত সংক্রান্ত যে বিষয় ভারতের প্রতি বাংলাদেশিদের মনে বড় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তা হলো সীমান্তে হত্যাকাণ্ড। অবৈধ অনুপ্রবেশ বা চোরাচালানি আটকাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ প্রায়ই গুলি ছোড়ে। যার ফলে, দু’দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।

সীমান্ত হত্যার যে ঘটনা বাংলাদেশের মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে তা হল, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফেলানি হত্যা।

সেদিন ভোরে কিশোরী ফেলানি তার বাবার সঙ্গে কুড়িগ্রাম সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বেয়ে দেশে ফিরছিল। বিএসএফ-এর সৈন্যরা ফেলানিকে কাটাতাঁরের বেড়ার উপড়ে গুলি করে হত্যা করে এবং তার মরদেহ সারাদিন বেড়াতে ঝুলে ছিল ।

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, প্রতি বছরই সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে বাংলাদেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক হিসেবে, ২০১৭ থেকে ২০২২ পর্যন্ত, মোট ১৬৪ জন নিহত হয়।

সীমান্ত হত্যাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্ক ভালো করার ক্ষেত্রে একটি অন্তরায় হিসেবে দেখেন।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা সার্ভিসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউনূস বলেন যে, ঘনিষ্ঠ, মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলা দু’দেশের লক্ষ্য হলেও, কোনো কোনো বিষয় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

“মাঝে মাঝে কতগুলা প্রশ্ন এসে যায় যেখানে সম্পর্কে একটু চির ধরে। যেমন সীমান্তে গুলি করল, বাচ্চা মেয়ে মারা গেল, বাচ্চা ছেলে মারা গেলো, এগুলো মনে কষ্ট দেয়। আমরা মনে করি না যে ভারতের সরকার ইচ্ছা করে এসব করেছে।

‘যে সমস্ত কারণে এসব ঘটে, সেসব কারণগুলো যেন আমরা উৎখাত করতে পারি, যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, যাতে নিরাপদে মানুষ জীবন নিয়ে চলাফেরা করতে পারে,’ ভিওএ’কে তিনি বলেন।

গঙ্গা থেকে তিস্তা

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে অগ্রগতির অভাব বাংলাদেশে উদ্বেগ সৃষ্টি করে যা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী থাকলেও, শুধু মাত্র একটি –গঙ্গা– নিয়ে পানি বণ্টন চুক্তি আছে।

বাংলাদেশ ২০১০ সাল থেকে তিস্তা নদী নিয়ে চুক্তি করার জন্য চেষ্টা করছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে সেখানে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

গত জুন মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে তিস্তা নিয়ে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় বিরোধীদল বিএনপি তার তীব্র সমালোচনা করে।

‘আমাদের সমস্যা সমাধানে কোনো চুক্তি সই হয়নি। আমরা তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছি না, আর, এ বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি,’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩ জুন এক অনুষ্ঠানে বলেন।

অগাস্টে সরকার পরিবর্তনের পর দু’দেশের মধ্যে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ভারত অভিযোগ করেছে যে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তা পাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশ সেই দাবি অতিরঞ্জিত খবর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সম্প্রতি ইসকনের প্রাক্তন সদস্য এবং সম্মিলিত সনাতনী জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার ঘিরে দু’দেশের বাগ্‌বিতণ্ডা, পতাকা অবমাননার অভিযোগ, ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভবনের নিরাপত্তা লঙ্ঘন ইত্যাদি ঘটনা ভিওএ’র জরিপের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরে ঘটে।

অপরদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ করা গেছে।

প্রাক্তন আওয়ামী লীগ সরকার একাধিকবার জানায়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের জন্য পাকিস্তান ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক শীতল থাকবে। তবে ড. ইউনূসের সরকার সে রকম কোনো দাবি সামনে আনছে না।

বাংলাদেশে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ২ সেপ্টেম্বর জানান যে, তার দেশ ১২২ দেশের নাগরিকের জন্য ফি ছাড়া ভিসা দেবে, এবং সেই তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমধ্যমের খবর অনুযায়ী, তিনি আশা করেন দু’দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান ভ্রমণ শীঘ্রই চালু হবে, যা ২০১৮ সালের পর বন্ধ হয়ে যায়।

গত ১৩ নভেম্বর প্রথমবারের মোট পাকিস্তান থেকে একটি পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি বাংলাদেশে আসে, যেটাকে পর্যবেক্ষকরা ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করেন।

৬৮ দশমিক ৪ শতাংশ বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রকে পছন্দ করেন

যুক্তরাষ্ট্রকে পছন্দ করেন ৬৮ দশমিক ৪ শতাংশ বাংলাদেশি। যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে তাদের অনুভূতি জানতে চাইলে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে খুব পছন্দ করেন এবং ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ মোটামুটি পছন্দ করেন বলে জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে পছন্দ অপছন্দ কোনোটাই করেন না বলে জানিয়েছেন ৫ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা, ৫ দশমিক ৭ শতাংশ এ ব্যাপারে জানেন না বলেছেন, অপছন্দ করেন বলেছেন ৭ দশমিক ৭ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে খুব অপছন্দ করেন বলেছেন ১২ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা।

মন্তব্য / প্রেরক

রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার দাবি। সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্কবার্তা

রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার দাবি। সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্কবার্তা
ফটো প্রতিকি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।

হুথিদের দাবি অনুযায়ী, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। একইসঙ্গে সৌদি আরবের রাবিঘ এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনা, দক্ষিণাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইত এলাকার সামরিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

বিমান চলাচলে বিঘ্নের দাবি

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলার ফলে বিমান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। সোমবার রাতে রিয়াদের আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎসের তথ্যেও কয়েকটি ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন বা বিলম্বের কথা উঠে এসেছে। তবে বিমানবন্দরে হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বা পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম বন্ধের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

সৌদি আকাশসীমা নিয়ে হুথিদের সতর্কবার্তা

হামলার আগে হুথিরা সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকেও সতর্ক করে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বলা হয়, মক্কা ও মদিনার পবিত্র আকাশসীমা বাদে সৌদি আরবের বাকি আকাশসীমাকে তারা সম্ভাব্য হামলার আওতায় বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সৌদির কঠোর প্রতিক্রিয়া

হুথিদের হামলার দাবির পর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানায়। সরকারি বিবৃতিতে রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব এলাকায় সৌদি নৌযান লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে সৌদি সরকার দেশের ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব, সম্পদ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সৌদি সরকারের এই অবস্থানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে তীব্র হয়েছে। ৫ অক্টোবর সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। এর পরই সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি সামনে আসে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা

রিয়াদে হামলার দাবি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। সৌদি আরবের পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘও ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রিয়াদ মিশন ৫ অক্টোবর সৌদি আরবে সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি নিয়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি: হুথিরা রিয়াদ বিমানবন্দরসহ একাধিক সৌদি স্থাপনায় হামলার দাবি করলেও বিমানবন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে রিয়াদের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা এবং সম্ভাব্য বিমান চলাচল বিঘ্নের তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ফলে সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের নতুন এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মন্তব্য / প্রেরক

জাতিসংঘ ‘অকার্যকর সংস্থা’, এর কর্মকর্তারা ‘অহংকারী পরজীবী’: আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট

জাতিসংঘ ‘অকার্যকর সংস্থা’, এর কর্মকর্তারা ‘অহংকারী পরজীবী’: আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
ফটো: সংগৃহিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তীব্র ভাষায় জাতিসংঘের সমালোচনা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। তিনি জাতিসংঘকে একটি ‘অকার্যকর সংস্থা’ এবং এর কর্মকর্তাদের ‘অহংকারী পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ভাষণে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলা দেশগুলো কোনো ন্যায্যতা বা পুরস্কার পাচ্ছে না, অন্যদিকে যারা নিয়ম ভঙ্গ করছে তাদেরও কোনো জবাবদিহিতা বা শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিশ্বসংস্থাটি সম্মিলিত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষা করার ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর পরিবর্তে সেখানে বিশৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার কাছে যা ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত) নিয়ে যুক্তরাজ্যের সাথে দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখেনি এবং চোখ বন্ধ করে রয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাভিয়ের মিলেই। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান যে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দিকে তাকিয়ে বসে না থেকে আর্জেন্টিনা নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় নিজেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

মন্তব্য / প্রেরক

বুলডোজারে মাটি সরাতেই মিলল ৯ কেজির সোনার পিণ্ড

বুলডোজারে মাটি সরাতেই মিলল ৯ কেজির সোনার পিণ্ড
ফটো: ইন্টারনেট

দিনটি ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। বুলডোজার দিয়ে মাটি সরানোর কাজ করছিলেন এক খনি শ্রমিক। হঠাৎ মাটির নিচে চোখে পড়ে চকচকে একটি বস্তু। প্রথম দেখায় পাথর মনে হলেও কাছে যেতেই বোঝা যায়—এটি কোনো সাধারণ পাথর নয়, বিশাল এক প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড!

ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের রুবি শহরের কাছে সুইফট ক্রিক এলাকায়। খনি শ্রমিক ব্যারি ক্লে মাটি কাটার সময় আবিষ্কার করেন প্রায় ৯ দশমিক ১৪ কেজি ওজনের বিশাল ওই সোনার পিণ্ড। পরবর্তী সময়ে এটি পরিচিতি পায় ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’ নামে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পিণ্ডটির ওজন ছিল ২৯৪ দশমিক ১০ ট্রয় আউন্স—অর্থাৎ ২০ পাউন্ডের কিছু বেশি। আকারে এটি প্রায় একটি শিশুর মাথার সমান। আবিষ্কারের পর এটি আলাস্কায় পাওয়া সবচেয়ে বড় অক্ষত প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড হিসেবে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

নামকরণে রয়েছে ইতিহাস

আলাস্কার বিখ্যাত ক্লনডাইক সোনার সন্ধানের শতবর্ষ পূর্তিকে স্মরণ করে পিণ্ডটির নাম দেওয়া হয় ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’। বিশাল আকৃতি, প্রাকৃতিক অবস্থার অক্ষুণ্নতা এবং বিরলতার কারণে এটি দ্রুতই খনি ও সোনার ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেয়।

তৎকালীন হিসাবে, পশ্চিম গোলার্ধে আবিষ্কৃত প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ডগুলোর মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম। এর চেয়ে বড় ‘বুট অব কর্টেজ’ নামের একটি সোনার পিণ্ড ১৯৮৯ সালে মেক্সিকোতে পাওয়া যায়, যার ওজন ছিল প্রায় ২৪ পাউন্ড।

দীর্ঘদিন ব্যক্তিগত মালিকানায়

অবিশ্বাস্য এই আবিষ্কারের পরপরই ব্যারি ক্লে পিণ্ডটি বিক্রি করে দেননি। দুই দশকেরও বেশি সময় এটি ব্যক্তিগত মালিকানায় ছিল।

পরে ২০২১ সালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ক্লের কাছ থেকে পিণ্ডটি সংগ্রহ করেন এক বিক্রেতা। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অবস্থিত হেরিটেজ নিলাম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এটি নিলামে তোলা হয়।

অনলাইন নিলামে এক সংগ্রাহক ৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’ কিনে নেন।

শুধু সোনার দামেই নয়, বিরলতাতেও মূল্যবান

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় আকারের এবং তুলনামূলকভাবে অক্ষত অবস্থায় থাকা প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড অত্যন্ত বিরল। ফলে এর মূল্য কেবল এতে থাকা সোনার বাজারদর দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বিরলতার কারণেও সংগ্রাহকদের কাছে এর বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে।

হেরিটেজ নিলামের পক্ষ থেকেও নিলামের আগে জানানো হয়েছিল, ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’ আলাস্কায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় সোনার পিণ্ড।

একজন খনি শ্রমিকের সাধারণ কর্মদিবসে বুলডোজারের নিচে হঠাৎ পাওয়া সেই চকচকে বস্তুটি শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে আলাস্কার খনি ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত আবিষ্কার। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা সেই সোনার পিণ্ড শুধু ব্যারি ক্লের ভাগ্যই বদলায়নি, বরং স্বর্ণ অনুসন্ধানের ইতিহাসে যোগ করেছে এক বিস্ময়কর অধ্যায়।

সূত্র: এনডিটিভি

মন্তব্য / প্রেরক

সুইডেনের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে বামঘেঁষা জোট, ফিরতে পারেন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন ১৭৬ আসন পেয়েছে চারদলীয় বিরোধী জোট, ক্রিস্টারসনের জোটের আসন ১৭৩; পদত্যাগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

সুইডেনের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে বামঘেঁষা জোট, ফিরতে পারেন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন ১৭৬ আসন পেয়েছে চারদলীয় বিরোধী জোট, ক্রিস্টারসনের জোটের আসন ১৭৩; পদত্যাগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ফটো: ইন্টারনেট

সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে গেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বামপন্থী বিরোধী জোট। চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষে চারদলীয় বিরোধী জোট ৩৪৯ আসনের রিক্সড্যাগে পেয়েছে ১৭৬টি আসন। বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন ডানঘেঁষা জোট পেয়েছে ১৭৩টি আসন।

ফলাফল প্রকাশের পরই প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা জানান।

অল্প ব্যবধানে পাল্টে গেল ক্ষমতার সমীকরণ

সুইডেনের ২০২৬ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দুই শিবিরের মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত কম। ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন জোট।

সুইডিশ নির্বাচন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট পেয়েছে ১৭৬ আসন এবং ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন সরকারপন্থী চার দলের জোট পেয়েছে ১৭৩ আসন। বিদেশ থেকে আসা ভোটসহ বাকি ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর এই ব্যবধান নিশ্চিত হয়।

তবে আসনসংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও নতুন সরকার গঠন অ্যান্ডারসনের জন্য সরল হবে না। তাঁর সম্ভাব্য মিত্র দলগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও রাজনৈতিক পার্থক্য রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আসন সোশাল ডেমোক্র্যাটদের

নির্বাচনে একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের সোশাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। দলটি পেয়েছে ৯৯টি আসন। তবে আগের পার্লামেন্টের তুলনায় দলটির আসন কমেছে আটটি।

অ্যান্ডারসন ২০২১ সালে সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর তিনি ক্ষমতা হারান। এবারের নির্বাচনী ফল তাঁকে আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ফেরার সুযোগ তৈরি করেছে।

ফলাফল ঘোষণার পর অ্যান্ডারসন বলেন, সুইডিশ জনগণ দেশের জন্য নতুন দিক বেছে নিয়েছে এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

সরকার গঠনেই বড় পরীক্ষা অ্যান্ডারসনের

অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে সোশাল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি, লেফট পার্টি ও সেন্টার পার্টি। চার দলের রাজনৈতিক অবস্থান এক নয়। বিশেষ করে সেন্টার পার্টি ও লেফট পার্টির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে।

সেন্টার পার্টি জানিয়েছে, তারা এমন কোনো সরকারে যোগ দিতে চায় না যেখানে লেফট পার্টিও সরাসরি অংশীদার থাকবে। ফলে অ্যান্ডারসনকে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সমঝোতার কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে।

রাজনৈতিকভাবে একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে—লেফট পার্টিকে মন্ত্রিসভার বাইরে রেখে পার্লামেন্টে তাদের সমর্থন নিশ্চিত করা। তবে এই সমীকরণ চূড়ান্ত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

ক্রিস্টারসনের জোটে বড় ধাক্কা

উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২২ সাল থেকে তিনদলীয় মধ্য-ডান জোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় ছিল। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে তাদের বাইরে থেকে সুইডেন ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

এবার সেই সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে। সুইডেন ডেমোক্র্যাটরা ৬২টি আসন পেয়েছে—আগের তুলনায় ১১টি কম। দলটি এবার ক্রিস্টারসনের সম্ভাব্য নতুন সরকারে মন্ত্রিসভায় সরাসরি অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু নির্বাচনী ফল সেই পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে।

এখন কী হবে?

সুইডেনের সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় পার্লামেন্টের স্পিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। স্পিকার প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থী মনোনয়ন করবেন এবং রিক্সড্যাগে সেই প্রার্থীর বিষয়ে ভোট হবে।

অ্যান্ডারসন এখন সরকার গঠনের জন্য সম্ভাব্য মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করতে পারেন, অথবা কিছু দলের সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনার চেষ্টা করতে পারেন।

তবে কোনো প্রার্থীকে চারবার প্রত্যাখ্যান করা হলে সুইডেনের নিয়ম অনুযায়ী নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

অভিবাসন ও অপরাধনীতি নিয়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনা

নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অভিবাসন ও অপরাধনীতি। ক্রিস্টারসনের সরকার গত চার বছরে অভিবাসন ও অপরাধ দমনে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এসব নীতির কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তনের কথা বলেছে এবং কল্যাণব্যবস্থা, পরিবেশ ও সামাজিক বৈষম্যের বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

তবে সুইডেনের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির বেশ কিছু বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে বিস্তর ঐকমত্য রয়েছে। ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং ন্যাটোর সদস্যপদ তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সুইডেন ২০২৪ সালে ন্যাটোর ৩২তম সদস্য হয়।

ইউরোপীয় রাজনীতিতেও নজর সুইডেনের দিকে

সুইডেনের নির্বাচনের ফল ইউরোপীয় রাজনীতিতেও বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধী দলগুলোর প্রভাব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। সুইডেনে এবার সেই প্রবণতার বিপরীতে মধ্য-বামপন্থী জোট অল্প ব্যবধানে এগিয়ে এসেছে।

তবে মাত্র তিন আসনের ব্যবধানে পাওয়া এই ফলকে সরাসরি একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। নতুন সরকার কীভাবে গঠিত হবে এবং কোন দলগুলো মন্ত্রিসভায় থাকবে—তার ওপরই আগামী দিনের রাজনৈতিক দিক অনেকটা নির্ভর করবে।

আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন স্টকহোমে

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর সুইডেনে শুরু হয়েছে সরকার গঠনের আলোচনা। ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরতে পারবেন কি না, তা এখন নির্ভর করছে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের অভ্যন্তরীণ সমঝোতা এবং পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করার ওপর।

অন্যদিকে ক্রিস্টারসনের পদত্যাগের পর তাঁর জোটও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা করবে। ফলে নির্বাচনে ১৭৬–১৭৩ আসনের ফলাফল প্রকাশ হলেও সুইডেনের পরবর্তী সরকার কেমন হবে, তার চূড়ান্ত উত্তর এখনো বাকি।

তথ্য : ইন্টারনেট

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date