অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এলাকাভিত্তিক আর কোনো বৈষম্য থাকবে না। আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি যে এলাকা থেকে নেতা হয়, সেখানেই উন্নয়ন হয়। যে এলাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী হয় সে এলাকায় উন্নয়ন হয়। আর বাকি এলাকা বৈষম্যের শিকার হয়।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ও স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো অবহেলিত ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আমরা উত্তরবঙ্গের অবহেলিত ও অনুন্নত এলাকাগুলোর জন্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো গ্রহণ করব, যাতে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শেষ হয়ে গেলেও আপনারা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না হন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনের সময় আমাদের স্লোগানে থাকতো টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। পুরো বাংলাদেশ এই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া হওয়ার কারণে এই তেঁতুলিয়াকে সবাই চিনে। আজকে আসার সুযোগ হলো, দেখার সুযোগ হলো। নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। বিজয়ের মাসে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। নতুন স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছি। আমরা ফ্যাসিবাদী সরকার থেকে মুক্তি পেয়েছি। তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
তিনি আরও বলেন, আমি উত্তরবঙ্গের প্রায় ১২টি জেলা ও ৫টি উপজেলা পরিদর্শন করব। শুধু একটি বিশেষ কারণে। আপনারা জানেন বিগত সময়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ অবহেলিত হয়েছে, বঞ্চিত হয়ে আসছে। আমি সরেজমিনে ঘুরে পরিদর্শন করতে চেয়েছি, আপনাদের কথা শুনতে চেয়েছি, আপনাদের দাবিগুলো জানতে চেয়েছি। উত্তরবঙ্গে যে বঞ্চনা এবং বৈষম্য হয়েছে সেটা নিরসনের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কাজ করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, এই অনুষ্ঠানে তেঁতুলিয়া উপজেলা ও পঞ্চগড় জেলার সরকারি কর্মকর্তারা যারা রয়েছেন, আপনাদের প্রতি আহ্বান থাকবে নাগরিক সেবাকে প্রায়োরিটি দিয়ে কাজ করবেন। জনগণকে কোনো প্রকার হেনস্তা কিংবা কালক্ষেপণ, ঘুষ ও দুর্নীতি- এ ধরনের কোনো কিছুর সঙ্গে জড়াবেন না। আর তেঁতুলিয়াবাসীর প্রতি আহ্বান থাকবে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি এ ধরনের আবদার করে ঘুষ খায়, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত আছে বলে মনে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে জানাবেন। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করার বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা একটি সাধারণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উত্তরবঙ্গের উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং আমাদের বিদ্যমান যে প্রকল্পগুলো আছে সেগুলো থেকে উত্তরবঙ্গে বরাদ্দ বৃদ্ধির করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবং ইতোমধ্যে প্রতিটি মিটিংয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিগত সময়ে যেসব এলাকা বৈষম্যের শিকার হয়েছে সেখানে আমরা উন্নয়ন কার্যক্রম বৃদ্ধি করবো।
তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশের ফসল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে। আমি যতগুলো উপজেলা ভিজিট করেছি আমি সেখানে দেখলাম যে, ৬০-৭০ শতাংশ বেশি ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। সুতরাং এখানে কৃষি ও শিল্পের বিকাশের সুযোগ রয়েছে। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উত্তরবঙ্গের কৃষিভিত্তিক শিল্প বিকাশে কাজ করবে। এর প্রথম উদ্যোগ হিসেবে সুগার মিলগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সব বাস্তবায়ন করা হবে। এর বাইরেও সরকারের অন্যতম অ্যাজেন্ডা হিসেবে উত্তরবঙ্গের কৃষি ভিত্তিক শিল্পের বিকাশ এবং উৎপাদনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যে সমস্যা তিস্তা নদীর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বন্যার মৌসুমে ভাসিয়ে দেওয়া, সেই সমস্যা সমাধানে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এই জানুয়ারি মাসেই আমাদের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও আমি আবারও উত্তরবঙ্গে আসব।
এ সময় খেলাধুলার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমি যেহেতু যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছি তাই খেলাধুলাকে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে যুব মন্ত্রণালয় অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সঠিক ও দায়িত্বশীল স্টেকহোল্ডার দিয়ে উপজেলা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে পুনর্গঠন করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত খেলাধুলাকে বিশেষভাবে প্রণোদনা দেওয়া হবে। আমি তেঁতুলিয়া উপজেলার সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও খেলাধুলাকে আগামী তারুণ্যের উৎসবে আয়োজন করার জন্য উপজেলা পরিষদে ৫০ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা করছি। আপনাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তরুণদের প্রতি আহ্বান থাকবে কোনো প্রকার বাজে সঙ্গ, মাদক এড়িয়ে চলবেন। খেলাধুলাসহ রাষ্ট্র সংস্কার কাজে এগিয়ে আসবেন। তারই অংশ হিসেবে জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তারুণ্য উৎসবে কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হবেন।
পঞ্চগড়ের পর্যটন শিল্প নিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, পঞ্চগড়ের আরেকটি সম্ভাবনার জায়গা হচ্ছে ট্যুরিজম। ট্যুরিজমকে প্রমোট করার জন্য যে প্রস্তাবনাগুলো জেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলো দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে। বাংলাদেশে কক্সবাজারসহ শুধু কয়েকটি জায়গাতেই ট্যুরিজমটা হয়। আমরা এই ট্যুরিজমটাকে উন্নয়ন করতে চাই। বাংলাদেশের এমন কোনো মানুষ নেই যে তেঁতুলিয়ার নাম শুনেনি। আমি যখন হেলিকপ্টারে আসছিলাম, খুব সুন্দর লেগেছে। মনে হয়েছে তেঁতুলিয়া ঘুরে ঘুরে দেখব।
এর আগে আজ সকালে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জেলার আটোয়ারীতে প্রোগ্রাম করেছেন। পরে হেলিকপ্টারযোগে তেঁতুলিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন। পরে উপদেষ্টাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠান শেষে শীতার্তদের শীতবস্ত্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাইকেল বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম, জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে রাব্বিসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।
Read_more
- দুবাই সফরে গেছেন আসিফ মাহমুদ
- খাগড়াছড়িতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সব পর্যটন কেন্দ্র খুলল সাজেকেও
- আদানির বকেয়া ১৭ কোটি ডলার এ মাসেই পরিশোধ করবে সরকার
- সবার সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন ড. ইউনূস
- ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব
- ধর্ম-বর্ণ-মতের ঊর্ধ্বে আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য : ড. ইউনূস
- ভারতের জনগণকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশের ১৪৫ নাগরিকের বিবৃতি
- শিথিলতার সুযোগে সরকার উৎখাতের চেষ্টা হচ্ছে : ফরহাদ মজহার
- সাজেকে থেকে ফেরার পথে খাদে পড়ে গেল পর্যটকবাহী জিপ
- সাবেক প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল সম্পদেও ‘লাল’
- দিল্লি থেকে দূতাবাস ঢাকা অথবা প্রতিবেশী অন্য দেশে স্থানান্তর করুন
- অন্য দেশ থেকে আলু-পেঁয়াজ কেনার কথা ভাবছে বাংলাদেশ, চিন্তায় ভারত
- নেচারের সেরা ১০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় ড. ইউনূস
- শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিকভাবে পার্বত্য অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে হবে
- ঢাকায় আসছেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট
- আসছে ফারুকীর সিনেমা ৮৪০, দেখে যা বললেন উপদেষ্টা নাহিদ-আসিফ
- ভারত-পাকিস্তানের কিছু ইস্যুর কারণে সার্ক সক্রিয় হচ্ছে না
- বিজয় দিবসের ছুটিতেও আশানুরূপ পর্যটক নেই কুয়াকাটায়
- পূর্ব তিমুরে ২০০-৩০০ বাংলাদেশির বসবাস
- সড়ক দুর্ঘটনায় আফগানিস্তানে ৫২ জন নিহত
- হাসিনা পালিয়ে দিল্লিতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক তলানিতে
- কমিশন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চাইলেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা
- শুধু একটা নির্বাচনের জন্যই এতগুলো মানুষ প্রাণ দেয়নি: আসিফ মাহমুদ
- যেখানেই অন্যায়, সিন্ডিকেট আর চাঁদাবাজি দেখব উপড়ে ফেলব : সারজিস
- ব্যাপক দুর্নীতি দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে
- পিলখানা হত্যাকাণ্ড : নিরপেক্ষ থেকে ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করা হবে
- ফায়ার ফাইটাররা যখন আগুন নেভাচ্ছিল পুলিশ কেন রাস্তা বন্ধ করেনি?
- ব্যবসায়ীকে কোপানোর ঘটনায় শাস্তির হুঁশিয়ারি উপদেষ্টা আসিফের
মন্তব্য / প্রেরক
বিরামপুরকে জেলা বাস্তাবায়ন ও নাগরিক দূর্ভোগ নিরসনে স্মারকলিপি প্রদান
-
বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
বিরামপুরকে জেলা বাস্তাবায়ন ও প্রথম শ্রেণির বিরামপুর পৌর নাগরিকদের দূর্ভোগ নিরসন ও শহরের শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবিতে সোমবার ২ নভেম্বর দুপুরে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বিরামপুর পেশাজীবি ঐক্য ফ্রন্টের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম সরকার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ তানজিনা খাতুনের নিকট এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় তার সাথে ছিলেন, বিরামপুর পেশাজীবি ঐক্য ফ্রন্টের সদস্য সচিব ও বিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাহমুদুল হক মানিক, দিনাজপুর দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোজাম্মেল হক, সাবেক ভিপি গোলাম মোর্শেদ সৈকত, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, হাফিজ উদ্দিন সরকার, মোবারক আলী, ফরিদ হোসেন, মানিক চৌধুরী, মাজহারুল ইসলাম তানিম।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, বিরামপুর শহরের উভয় পাশে এবং ঢাকামোড়ে অটোরিক্সা, মিশুক, টেম্পু, ভ্যান ও বাসের অবৈধ স্ট্যান্ড অপসারণ, যানজট নিরসন, অটোরিক্সার ভাড়া নির্ধারণ, শব্দ দুষন নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করণ, ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, এবং সপ্তাহে দু’দিন পৌর কার্যালয়ে প্রশাসকের কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
দাবির প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ তানজিনা খাতুন বলেন, অচিরেই ঢাকামোড় ও হাসপাতাল মোড় সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
মন্তব্য / প্রেরক
নীলফামারীর ইজতেমায় লক্ষাধিক মুসল্লির জুমার নামাজ আদায় দারোয়ানি টেক্সটাইল মাঠে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা, শনিবার আখেরি মোনাজাত
-
প্রতিবেদন: ঢাকামোড়২৪.কম (DM24NEWS)
উত্তরের জেলা নীলফামারীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে চলছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে জুমার নামাজ আদায় করতে সমবেত হন লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
জেলার সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কসংলগ্ন দারোয়ানি টেক্সটাইল মাঠে আয়োজিত এ ইজতেমায় নীলফামারী ছাড়াও ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন। জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি মূল মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মুসল্লিদের অংশগ্রহণ
এবারের ইজতেমায় বিদেশি মুসল্লিদেরও অংশগ্রহণ রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, সুদান ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এতে অংশ নিয়েছেন।
ইজতেমায় দ্বীনের দাওয়াত, মানবকল্যাণ, ধর্মীয় জীবনযাপন এবং আখিরাতের প্রস্তুতি বিষয়ে বয়ান পেশ করা হচ্ছে।
নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সাদাপোশাকের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি মুসল্লিদের সার্বিক সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার আখেরি মোনাজাত
আয়োজকদের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ জেলা ইজতেমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আখেরি মোনাজাতে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি এবং মানবকল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য / প্রেরক
নবাবগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
-
মেহেদী হাসান, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
এ মাসিক সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফ উদ্দিন, নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুভ্রত্ব কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দীপক কুমার বণিক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়া,
মাদক, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ নানা সামাজিক সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় হয়। মাসিক সভায় বক্তারা উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
মন্তব্য / প্রেরক
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, ঘোড়াঘাটে যুবদলের ৫ শতাধিক তালবীজ রোপণ
-
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা যুবদল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে উপজেলার ২ নম্বর পালশা ইউনিয়নের পশ্চিম পালশা সড়কের পাশে পাঁচ শতাধিক তালবীজ রোপণ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এমন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
তালগাছ প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় তালগাছের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও জনসচেতনতা রয়েছে। সড়কের পাশে রোপণ করা এসব তালবীজ যথাযথ পরিচর্যায় বেড়ে উঠলে ভবিষ্যতে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।
ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মোফাজ্জল হোসেন প্রধান বলেন, ‘যুবসমাজ দেশের শক্তি। দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই যুবদলের অন্যতম অঙ্গীকার। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিম পালশা সড়কে পাঁচ শতাধিক তালবীজ রোপণের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা চাই, এ উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতন ও উদ্বুদ্ধ হোক।’
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জহরুল ইসলাম শান্ত বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইনি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সড়কে পাঁচ শতাধিক তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, গাছ লাগানো শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবনেতা বাবলু মিয়া, মাসুদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন প্রধান, ২নং পালশা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি
জোবায়ের হোসেন এবং স্বেচ্ছাসেবক নেতা সাইদুল এরশাদসহ যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য / প্রেরক
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ