Image
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

দেশকে ভারতের তাঁবেদার করতে চেয়েছিল হাসিনা

দেশকে ভারতের তাঁবেদার করতে চেয়েছিল হাসিনা
৩০ কোটি ডলার পাচারের প্রমাণ পেয়েছে এফবিআই

বিরোধী দলগুলোর নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা ভারতের আনুকল্য এবং ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেশটির উত্তর-পূর্বাংশের সঙ্গে রেল, নৌ ও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। একতরফা সংযোগ দেওয়ার মাধ্যমে হাসিনা বাংলাদেশকে ভারতের তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।


শুক্রবার গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প ‘আউস্টেড প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা অফার্ড রেল-লিঙ্ক, রোডস, পোর্টস, ইন্টারন্টে অ্যান্ড পাওয়ার কানেকশন টু ইন্ডিয়া’স নর্থইস্টার্ন স্টেসস টু স্টে ইন পাওয়ার’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আখাউড়া-আগরতলা আন্তঃসীমান্ত রেল সংযোগ, খুলনা-মোংলা বন্দর রেললাইন এবং মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের ইউনিট টু প্রকল্প উদ্বোধন করেছিলেন। এসব প্রকল্প বাংলাদেশকে ভারতের পুতুল রাষ্ট্রে (পাপেট স্টেট) বা অধীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। রাশিয়া যেমনটা করেছে বেলারুশকে নিজের অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার মাধ্যমে।

এতে আরও বলা হয়, হাসিনা যখন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য বাংলাদেশের বিরোধী দল এবং পশ্চিমা দেশগুলো থেকে চাপের সম্মুখীন হচ্ছিলেন, তখন মোদি সরকারের অধীনে ভারত বাংলাদেশকে এমন প্রকল্পের মাধ্যমে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা করে যাতে ভারতের সেভেন সিস্টার্স খ্যাত সাত রাজ্য রাষ্ট্র এবং হাসিনার দুর্নীতিবাজ প্রশাসন উপকৃত হবে। প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের অনুদান এবং উচ্চ সুদে ঋণসহ বাংলাদেশকে একটি ঋণের ফাঁদ এবং তাঁবেদার অধস্তন রাষ্ট্রে পরিণত করা নিশ্চিত করতেই এ মেগা পরিকল্পনা করা হয়েছিল।


ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভাষণে মোদি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ভারত নিজের আকাক্সক্ষা পূরণ নিশ্চিত করাতেই বেশি জোর দিয়ে থাকে। দুই পক্ষই তিনটি নতুন বাস পরিষেবা এবং একাধিক রেল পরিষেবা চালু করে। তারা চারটি নতুন অভিবাসন চেকপোস্টও খুলেছেন এবং ২০২২ সালে কনটেইনার ও পার্সেল ট্রেন চালু করেছেন বলে মোদি উল্লেখ করেছিলেন।

গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প জানায়, বাংলাদেশের সব ধরনের আন্তর্জাতিক অর্থ পরিশোধ ভারতের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশি ব্যাঙ্কগুলো ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আখাউড়া-আগরতলা আন্তঃসীমান্ত রেল সংযোগের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

হাসিনা-জয়ের বিরুদ্ধে ৩০ কোটি ডলার পাচারের প্রমাণ পেয়েছে এফবিআই : ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রমাণ পেয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তারা বাংলাদেশ থেকে ৩০ কোটি বা ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। এফবিআই লন্ডন প্রতিনিধির মাধ্যমে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রমাণ পেয়েছে এবং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ২৪ ডিসেম্বর গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প ‘আমেরিকান এফবিআই সাবমিটেড অ্যাভিডেন্স অব শেখ হাসিনা অ্যান্ড সজীব ওয়াজেদ সিফোনিং ৩০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার ফ্রম বাংলাদেশ টু দি ইউএস ভায়া কেম্যান আইল্যান্ডস অ্যান্ড হংকং’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফবিআই উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ট্রায়াল অ্যাটর্নি লিনডা স্যামুয়েল স্পেশাল অ্যাজেন্ট লা প্রিভোটের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন বাংলাদশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছে। এদিকে ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক এবং অন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এফবিআইয়ের প্রতিনিধিদল দেখা করে বিপুল পরিমাণ নথি হস্তান্তর করেছে।

শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগে দুদক তদন্ত শুরু করেছে। ১৭ ডিসেম্বর দুদক মহাপরিচালক মো. আখতার হোসেন জানান, শেখ হাসিনা, জয়, হাসিনার বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক এবং অন্যরা নয়টি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৭ বিলিয়ন ডলার আÍসাৎ করেছেন। এসব নিয়ে দুদক তদন্ত শুরু করেছে।

সূত্র জানায়, নয়টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, আশ্রয়ণ এবং বেপজা ও বেজার অধীনে থাকা অন্যান্য প্রকল্প। ৭ বিলিয়নের মধ্যে শুধু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকেই ৫ বিলিয়ন ডলার আÍসাৎ করা হয়েছে। দুদক কর্মকর্তাদের মতে, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম প্রথম নজরে আসে ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বনাম রিজভী আহমেদের মামলায়। এফবিআইয়ের তদন্তে জয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অসদাচরণ প্রকাশ পেয়েছে। জয়ের নামে হংকং এবং কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি এবং লন্ডন ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তরিত করার তথ্য বিশেষভাবে সামনে এসেছে। এফবিআই তাদের লন্ডন প্রতিনিধির মাধ্যমে এসব নিশ্চিত করেছে। বিচার বিভাগের একজন সিনিয়র ট্রায়াল অ্যাটর্নি এবং একজন বিশেষ এজেন্ট নিশ্চিত করেছেনÑকেম্যান দ্বীপ এবং হংকংয়ের শেল কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ৩০০ মিলিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা হয়েছে। এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনাটি অনেকাংশে সত্য, আমরা ভবিষ্যতে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে পারি। এ বিষয়ে আমরা পরে সরাসরি কথা বলব।’

গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের প্রতিবেদন

 

মন্তব্য / প্রেরক

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ, বন্ধ শত শত কারখানা; উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে শ্রমিক-মালিক অসন্তোষ

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ, বন্ধ শত শত কারখানা; উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে শ্রমিক-মালিক অসন্তোষ
প্রতীকী ছবি — পোশাক শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ।

মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কালোতালিকা বা হোয়াইট লিস্টের নামে হয়রানি বন্ধের দাবিতে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। কয়েক দিন ধরে ঢাকা, মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। এতে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে পরিবার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি ও কালোতালিকাভুক্ত করার মতো পদক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

শিল্পাঞ্চলে অচলাবস্থা, বন্ধ শত শত কারখানা

শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকেরা।

শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ৩১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। একই সময়ে প্রায় ৭ লাখ শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে চলে যান বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরবর্তী দিনগুলোতেও বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে কারখানা বন্ধ ও সাধারণ ছুটি ঘোষণার ঘটনা ঘটেছে। ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরেই কয়েক শ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড

আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, সাভার ও আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কোথাও কোথাও কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এসব ঘটনায় শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি স্থানে ভাঙচুর, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। ৩ নভেম্বর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গাজীপুর ও মিরপুরে অন্তত ৮২ জনকে আটক বা গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়।

শ্রমিক নেতাদের আটক ও হয়রানির অভিযোগ

আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক নেতাদের আটক এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করলেই তাঁদের চাকরিচ্যুত করা, মামলায় জড়ানো কিংবা ভবিষ্যতে অন্য কারখানায় চাকরি পেতে বাধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।

বিশেষ করে শ্রমিকদের কালোতালিকাভুক্ত করা কিংবা হোয়াইট লিস্টের নামে হয়রানির অভিযোগ তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। আন্দোলনকারীরা এসব ব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও চাকরির নিশ্চয়তা দাবি করছেন।

তবে আন্দোলনে সহিংসতা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা জরুরি হয়ে পড়েছে।

নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, ডিসেম্বর থেকে নতুন কাঠামোর উদ্যোগ

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকার ছয় সদস্যের একটি নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ২ নভেম্বর সরকার ও পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিকদের দাবি ও মালিকপক্ষের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৪ নভেম্বর মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠকে ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। নতুন কাঠামোয় কত টাকা মজুরি নির্ধারণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তবে শ্রমিকদের আশঙ্কা, তাঁদের প্রত্যাশিত ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে সামান্য মজুরি বৃদ্ধি করা হতে পারে। এ কারণে বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও আলোচনার অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন তাঁরা।

মালিকপক্ষের উদ্বেগ, রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

অন্যদিকে পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে কম দামে পণ্য সরবরাহের চাপের মধ্যে হঠাৎ বড় অঙ্কের মজুরি বৃদ্ধি শিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, নির্ধারিত সময়ে পণ্য রপ্তানি এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করা প্রয়োজন।

সংকট সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু শ্রমিক ও মালিকপক্ষ নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, রপ্তানি আয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে মালিকপক্ষের বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করে গ্রহণযোগ্য মজুরি কাঠামো নির্ধারণ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, হয়রানিমূলক তালিকা বাতিল এবং শ্রমিক-মালিকের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

সরকার, শ্রমিক সংগঠন ও পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষের মধ্যে কার্যকর সংলাপই হতে পারে চলমান সংকট সমাধানের প্রধান পথ।

সব মিলিয়ে, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন এখন দেশের শিল্প ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত, শ্রমিকদের প্রত্যাশা এবং মালিকপক্ষের অবস্থানের মধ্যে কতটা সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশের পোশাকশিল্পে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসার বিষয়টি।

প্রতিবেদনের তথ্যসূত্র: রয়টার্স, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বিডিনিউজ২৪ ও বাসস।

মন্তব্য / প্রেরক

বিরামপুরে জাতীয় যুব দিবসে র‍্যালী, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ ‎

বিরামপুরে জাতীয় যুব দিবসে র‍্যালী, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ ‎
ফটো: প্রতিনিধি

‎দিনাজপুরের বিরামপুরে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
‎
‎রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়।
‎
‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে এবং একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আহসান হায়দার চৌধুরী।
‎
‎সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হুমায়ুন কবির, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিঞা মোঃ শফিকুল আলম মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজুসহ অন্যান্য অতিথিরা।
‎
‎বক্তারা যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের উন্নয়নে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ঋণসুবিধা কাজে লাগিয়ে বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান।
‎
‎অনুষ্ঠানে যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

মন্তব্য / প্রেরক

নবাবগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস পালিত, উদ্যোক্তাদের ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ

নবাবগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস পালিত, উদ্যোক্তাদের ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ
ফটো: প্রতিনিধি

“দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।


রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা, উদ্যোক্তাদের ঋণের চেক ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো.সাইফ উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.নাজমুল হুদা,
খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. মাছুমা খাতুন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো ইকবাল হোসেন ও বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যুব উন্নয়ন থেকে ঋণ গ্রহণকারী ও প্রশিক্ষণার্থী এবং ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন, “যুবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। দেশের উন্নয়নে দক্ষ ও উদ্যোমী যুবকদের কাজে লাগাতে হবে। বক্তারা যুবসমাজকে মাদক, বেকারত্ব ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে দক্ষতা অর্জন এবং আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্তব্য / প্রেরক

বিরলে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

বিরলে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন
ফটো: প্রতিনিধি

বিরলে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে র‍্যালি, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ও যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় র‍্যালি শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল ইসলাম।


উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মাহফুজার রহমান চৌধুরী এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাবুল হোসেন, জামায়াতের সেক্রেটারি আজমীর হোসাইন, জাতীয় ছাত্রশক্তি জেলা শাখার সিনিয়র সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন উপজেলা শাখার সভাপতি নাজমুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) আনিছুর রহমান সরকার, প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মোঃ রফিকুল ইসলাম, বিরল মহিলা কলেজ এর অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত)  মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। আলোচনা শেষে ১৬ জন প্রশিক্ষিত যুব উদ্যোক্তাকে মোট ১৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date