৩৮ বছরেও কাটেনি তেঁতুলিয়ার শালবাহান তেলকূপের রহস্য ! তা হলে কি আমাদানিকারক বাধা? নতুন করে অনুসন্ধানের দাবি এলাকাবাসীর
-
অনলাইন ডেস্ক : সম্পাদনায় : মো: রফিকুল ইসলাম সরকার
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান-জুগিগছ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি তেলকূপকে ঘিরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় চার দশক আগে তেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষামূলক উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কূপটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সিল করে দেওয়া হয়। কেন প্রকল্পটি বন্ধ করা হয়েছিল—সে প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর আজও স্থানীয়দের কাছে অমীমাংসিত।
১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে উত্তরাঞ্চলে পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক ও ভূকম্পন জরিপে শালবাহান এলাকায় হাইড্রোকার্বনের সম্ভাবনার কথা উঠে আসে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেখানে অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়। ১৯৮৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শালবাহানে কূপ খনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই প্রকল্পে তৎকালীন প্রায় ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
তবে প্রকল্পের কার্যক্রম বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। স্থানীয়দের বক্তব্য ও সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে তেল উত্তোলনের পর প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে কূপটি ‘ড্রাই হোল’ বা শুষ্ক কূপ হিসেবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
কেন বন্ধ হয়েছিল?
শালবাহান তেলকূপ বন্ধের কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করেন, সেখানে সম্ভাব্য তেল বা হাইড্রোকার্বন মজুদের বিষয়ে নতুন করে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রয়োজন। আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন স্থানীয় আলোচনায় আন্তর্জাতিক চাপ, ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ কিংবা তেল আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাবের কথাও বলা হয়।
তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে না দেখে অভিযোগ ও জনমতের অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
চার দশক পর নতুন প্রযুক্তিতে অনুসন্ধানের দাবি
২০২৫ সালে তেঁতুলিয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের উদ্যোগে শালবাহান তেলকূপ পুনরায় চালু ও বন্ধের কারণ অনুসন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালেও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা হয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নতুন করে তেলের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য সরকার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানোর কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
এদিকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নটি বর্তমানে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতে দেশের ব্যয় হয়েছে রেকর্ড ১০.৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দাবি—পুরোনো তথ্য ও কয়েক দশক আগের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে শালবাহান এলাকায় আধুনিক ভূকম্পন জরিপ, প্রয়োজন হলে ৩ডি সিসমিক সার্ভে এবং নতুন অনুসন্ধান কূপের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হোক।
দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরোনো অনুসন্ধান এলাকায় পুনরায় কাজ করছে। পাবনার মোবারকপুরে আগের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার পর আরও গভীরে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এখন মূল প্রশ্ন
শালবাহানের মাটির নিচে আদৌ বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য তেল বা অন্য কোনো হাইড্রোকার্বন রয়েছে কি না—এর উত্তর অনুমান বা গুজব দিয়ে নয়, আধুনিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানেই পাওয়া সম্ভব।
তাই স্থানীয়দের দাবি, শালবাহান কূপের পুরোনো নথি, সে সময়ের অনুসন্ধান-তথ্য ও পরীক্ষামূলক উত্তোলনের ফলাফল প্রকাশ্যে এনে নতুন করে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন করা হোক। সম্ভাবনা থাকলে বাপেক্সের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে পুনরায় অনুসন্ধান করা হোক; আর সম্ভাবনা না থাকলে সেটিও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জনগণের সামনে স্পষ্ট করা হোক।
৩৮ বছর ধরে প্রশ্নটি ঝুলে থাকার চেয়ে একটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানই পারে শালবাহান তেলকূপের প্রকৃত রহস্যের অবসান ঘটাতে।
মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত
সূত্র: বিডিনিউজ২৪, যুগান্তর, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও অন্যান্য প্রকাশিত প্রতিবেদন।
মন্তব্য / প্রেরক
বিরামপুরে জাতীয় যুব দিবসে র্যালী, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ
-
মোঃ নজরুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি বিরামপুর দিনাজপুর
দিনাজপুরের বিরামপুরে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে এবং একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আহসান হায়দার চৌধুরী।
সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হুমায়ুন কবির, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিঞা মোঃ শফিকুল আলম মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজুসহ অন্যান্য অতিথিরা।
বক্তারা যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের উন্নয়নে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ঋণসুবিধা কাজে লাগিয়ে বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
মন্তব্য / প্রেরক
নবাবগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস পালিত, উদ্যোক্তাদের ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ
-
মেহেদী হাসান, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
“দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা, উদ্যোক্তাদের ঋণের চেক ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো.সাইফ উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.নাজমুল হুদা,
খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. মাছুমা খাতুন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো ইকবাল হোসেন ও বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যুব উন্নয়ন থেকে ঋণ গ্রহণকারী ও প্রশিক্ষণার্থী এবং ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন, “যুবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। দেশের উন্নয়নে দক্ষ ও উদ্যোমী যুবকদের কাজে লাগাতে হবে। বক্তারা যুবসমাজকে মাদক, বেকারত্ব ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে দক্ষতা অর্জন এবং আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য / প্রেরক
বিরলে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে র্যালি, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ও যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় র্যালি শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল ইসলাম।
উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মাহফুজার রহমান চৌধুরী এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাবুল হোসেন, জামায়াতের সেক্রেটারি আজমীর হোসাইন, জাতীয় ছাত্রশক্তি জেলা শাখার সিনিয়র সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন উপজেলা শাখার সভাপতি নাজমুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) আনিছুর রহমান সরকার, প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মোঃ রফিকুল ইসলাম, বিরল মহিলা কলেজ এর অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। আলোচনা শেষে ১৬ জন প্রশিক্ষিত যুব উদ্যোক্তাকে মোট ১৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।
মন্তব্য / প্রেরক
বিরলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচীর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সরজমিন পরিদর্শন
-
বেলাল হোসেন, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি।।
বিরলের প্রত্যন্ত গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচীর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সরজমিন পরিদর্শন করেছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহ মোহাম্মদ মাহবুব। এসময় তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীগণ আপনাদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। আপনাদের বাড়ীর বাহিরে এসে কোন তথ্য প্রদান করতে হবে না, এমনকি আপনাদের কাউকে কোন টাকা পয়সাও দিতে হবে না। শুধুমাত্র আপনারা সঠিক তথ্য প্রদানের মধ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকালে বিরল উপজেলার ১২ নং রাজামপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের হাসিলা সন্যাসীপুকুর আদর্শ গ্রামে তথ্য সংগ্রহকালে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন।
এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুল মতিন, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মুনির হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রাজুল ইসলাম, রাজারামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল চন্দ্র রায়, ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মহসিন আলী, বিরল প্রেস ক্লাব সভাপতি আতিউর রহমান, ইউপি সদস্য মিলন চন্দ্র প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য / প্রেরক
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ