রংপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, বাড়তে পারে জলাবদ্ধতার শঙ্কা
-
আবহাওয়া দপ্তর:
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রংপুরে বাড়তে পারে বৃষ্টির তীব্রতা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতও হতে পারে। ফলে বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে নগরবাসী ও পথচারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
রংপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার নজির রয়েছে। অতীতে ভারী বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে যানবাহন চলাচল ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
জলাবদ্ধতার আশঙ্কা, ভোগান্তিতে পড়তে পারেন নগরবাসী
বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে নগরের নিচু এলাকা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার আশপাশ এবং সড়কের কিছু অংশে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রিকশা-অটোরিকশা চালক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে টানা বৃষ্টিতে রংপুর নগরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে বাসাবাড়ি, সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়েছিল।
কৃষিতেও পড়তে পারে প্রভাব
রংপুর বিভাগের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা হলে নিচু জমির ফসল, সবজি ও আমন ধানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল এমন কৃষিজমিতে অতিরিক্ত পানি জমে গেলে কৃষকদের বাড়তি সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ
বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় আবহাওয়া খারাপ হলে খোলা মাঠ, নদী, বিল বা উঁচু গাছের নিচে অবস্থান না করার পরামর্শ রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ভারী বৃষ্টির সময় বাইরে না বের হওয়া এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার ও জলমগ্ন স্থানের কাছ থেকে দূরে থাকাও জরুরি।
আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টির প্রবণতা
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী রংপুরে আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একটি স্থানীয় আবহাওয়া পূর্বাভাসে ২০ আগস্ট রংপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি এবং পরবর্তী কয়েক দিনও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষ সতর্কতা: ভারী বর্ষণের সময় সড়কে পানি জমলে দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকা, শিশুদের জলমগ্ন এলাকায় যেতে না দেওয়া এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা জরুরি।
মন্তব্য / প্রেরক
দিনাজপুরের সদর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতে সবজি। অধিকাংশ সবজি ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। অন্যদিকে মাছের বাজারেও চড়া দাম বিরাজ করছে। সোমবার রামডুবি হাটে ঘুরে দেখা গেছে সবজি, মাছ ও মুরগির বাজারে ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে তুলনামূলক বেশি টাকা। সবজি ব্যবসায়ী ধ্রুব রায় বলেন, বাজারে নতুন সবজি বা পণ্য উঠতে শুরুতেই দাম কিছুটা বেশি থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে সবজির দাম সদর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে দাম কম রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির বাজারে বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৬০-১৭০ টাকা অন্যদিকে সোনালী মুরগির দাম ৩০০-৩২০ টাকা। বয়লারের তুলনায় সোনালী মুরগি কিনতে ক্রেতাদের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। এদিকে মাছের বাজারেও দামের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে।
মন্তব্য / প্রেরক
নবাবগঞ্জে শীতকালীন সবজির সমাহার, চড়া দামে অসন্তোষ ক্রেতারা
-
মেহেদী হাসান, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
বাজারে উঠতে শুরু করেছে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, টমেটো ও মুলার মতো শীতকালীন নানাবিধ আগাম সবজি। তবে স্বস্তির খবর নিয়ে আসা এসব নতুন সবজি কিনতে গিয়ে চড়া দামেই পকেট খালি হচ্ছে ক্রেতাদের।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে আলু ৩০, বেগুন ৩৫, চিচিঙ্গা ৩০, পেপে ২০, মূলা ২০, করলা ৮০, সিম ১২০, শসা ৬০, টমেটো ১০০, মূলা ২০, বরবটি ৮০, ভেন্টি ৪০, কাঁচামরিচ ১০০ ও পটল ৪০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল শাক ১৫, ধনে পাতা ১০, ডাটা শাক ১৫, মুলা শাক ১০, পুঁইশাক ২০ ও লাউশাক ১৫ টাকা প্রতি মুঠো বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও প্রতি পিস চাল কুমড়া ৩৫, বাঁধাকপি ৩৫
ফুলকপি ৩৫, লাউ ৩৫, মিষ্ঠি কুমড়া ১০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
দাউদপুর এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজার করতে হয়। শাকসবজি কিনতে গেলেই টাকা শেষ হয়ে যায় মাছ-মাংসের দিকে তো যাওয়ারই উপায় নেই।
সবজির দাম বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে এক সবজি বিক্রেতা বলেন “ আমাদের বেশি দামে সব কিনে আনতে হচ্ছে। তাই একটু বেশি দামে বিক্রি করি। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করলেতো আমাদের লস হবে।” মাছ ও মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়,মাছ ও মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই।
উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের দলারদর্গা হাটে আসা এক ক্রেতা আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, “ শীতের নতুন সবজি বাজারে দেখা গেলেও দাম অনেক চড়া।”
এদিকে নবাবগঞ্জ বাজারে আসা মোঃ সাজেদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষক
জানান “ শীতকালীন সবজি বাজারে উঠতে শুরু করায় বৈচিত্র্য বাড়লেও সবজির দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বিশেষ করে টমেটো, শিম, কাঁচা মরিচ ও গাজরের দাম তুলনামূলক বেশি। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী সবজি কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছে নতুন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পুরনো সবজির ওপর চাপ কমবে তখন সবজির দাম কমে যাবে।
মন্তব্য / প্রেরক
ঘোড়াঘাটে সাবিত সীডস কোম্পানির বীজ বিক্রেতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত
-
রাফছানজানী শুভ, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভা এলাকায় ডিলার ও রিটেইলারদের নিয়ে ‘বীজ বিক্রেতা সমাবেশ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় পৌর এলাকার সিপি রোড সংলগ্ন স্থানে সাবিত সীডস কোম্পানির আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন, সাবিত সীডস কোম্পানির প্রোপাইটর লিপন মিয়া, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন, সাব্বির আহম্মেদ, জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বীজ ব্যবসায়ীরা।
সমাবেশে সাবিত সীডস কোম্পানির উন্নত মানের ভুট্টা বীজ এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত বীজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ডিলার ও রিটেইলারদের সঙ্গে বীজের মান, বিপণন এবং কৃষকদের কাছে উন্নত মানের বীজ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত মানের বীজ কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করাই এ ধরনের সমাবেশের অন্যতম উদ্দেশ্য।
মন্তব্য / প্রেরক
নবাবগঞ্জে আঙুর চাষে সফল তৌহিদুল, কৃষিতে নতুন দ্বার উন্মোচন
-
মেহেদী হাসান, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
মাদকের ভয়াল থাবায় ও মোবাইলে অনলাইন জুয়া খেলে অনেকেই নিঃস্ব হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে হয়েছেন স্বাবলম্বী। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে জীবনের গল্প। ঠিক তেমনি ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সফল আঙুর চাষের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের বাসিন্দা কলেজ পড়ুয়া তরুণ যুবক মো. তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ।
শখের বসে মাত্র পাঁচটি আংগুর চারা রোপণের মাধ্যমে তার প্রথম আঙুর চাষে পথচলা। প্রথমবার সফলতার মুখ না দেখলেও পরবর্তীতে ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
আঙুর চাষ সম্পর্কে নানাবিধ জ্ঞান অর্জন করেন। ২০২৬ সালে তৌহিদুল মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে ১৫ জাতের প্রায় ৮৫টি চারা রোপণ করেন করে গড়ে তোলেন
আঙুরের বাগান
শুরুতে স্থানীয়রা তার উদ্যোগকে ভালোভাবে নেয়নি। তবে ধীরে ধীরে বাগান দৃশ্যমান হলে অনেকেই অবাক হন। এখন থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা আঙুর দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন আশপাশের মানুষ। অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন নতুন করে আঙুর চাষে নামার।
মো.তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, ‘প্রথমে কারও সহযোগিতা পাইনি। ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে নিজের মতো করে শুরু করি। অনেকে কটাক্ষ করলেও থেমে যাইনি। বরং চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম আঙুর চাষকে। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আমার বাগান দেখতে আসছেন। ফল দেখে মুগ্ধ হয়ে হচ্ছে। তিনি জানান আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ভালো দাম পেলে ভবিষ্যতে ৪ বিঘা জমিতে আঙুর চাষ করবেন।তৌহিদুলের বাবা মোহাম্মদ আলী বলেন, আমার ছেলে কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি মোবাইলে ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ শুরু করে। আমি যতটা পারি তাকে সহযোগিতা করছি। শুরুতে গ্রামের লোকজন এটাকে গুরুত্ব না দিলেও এখন সবাই গর্ব করছে।” উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তৌহিদুলের বাগান পরিদর্শন করে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তার সফলতা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন, “ উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তৌহিদুলকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারমূল্য ঠিক থাকলে সে ভালো লাভবান হবেন এবং কৃষিতে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে বলে আশা করেন।”
মন্তব্য / প্রেরক
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ