Image
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

মাদকবিরোধী প্রতিবাদের নির্মম পরিণতি—নিহত সাবেক শিক্ষক, স্ত্রী, মেয়ে ও স্কুলপড়ুয়া ছেলে

মাদকবিরোধী প্রতিবাদের নির্মম পরিণতি—নিহত সাবেক শিক্ষক, স্ত্রী, মেয়ে ও স্কুলপড়ুয়া ছেলে
ফটো: সংবাদ সম্মেলনে আরএমপি কমিশনার / ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় ৪ জনকে হত্যা

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নৃশংস এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, তাঁর স্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেয়ে ও স্কুলপড়ুয়া ছেলে নিহত হয়েছে। ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নকেই থামিয়ে দেয়নি, মাদকের ভয়াবহতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী (১২)। শনিবার রাতে ওই বাড়ি থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

যে রাত বদলে দিল একটি পরিবারের সবকিছু

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়ির ছাদে পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে ওঠেন দুই তরুণ—মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। সেখানে তাঁরা ইয়াবা সেবন করছিলেন বলে পুলিশের দাবি।

ছাদে শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গিয়ে ইয়াবা সেবনে বাধা দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ওই দুই তরুণের কথা-কাটাকাটি হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে গামছা পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।

স্বামীর চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদের দিকে এগিয়ে গেলে সিঁড়িতে তাঁকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে ঘরে ঢুকে ঘুমিয়ে থাকা ১২ বছর বয়সী আয়ুসকেও হত্যা করা হয়।

একটি পরিবারের চারজন মানুষ—একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, তাঁর জীবনসঙ্গী, স্বপ্নবাজ মেয়ে এবং ঘুমন্ত এক শিশু—এক রাতেই নিথর হয়ে গেলেন। যে বাড়িতে থাকার কথা ছিল পরিবারের হাসি-আনন্দ, সেখানে পড়ে রইল চারটি নিথর দেহ।

তালাবদ্ধ বাড়িতে মিলল চার মরদেহ

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে বাড়িটির বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে ঘরের ভেতর থেকে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

ঘটনার পর তদন্তে নামে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। বিভিন্ন আলামত ও তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে বেরিয়ে আসে হত্যার কারণ

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডের সূত্র পাওয়া গেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

পুলিশের এই বক্তব্য সামনে আসার পর ঘটনাটি ঘিরে নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একটি পরিবারের চার সদস্যকে একসঙ্গে হত্যার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মাদকের ছোবলে কতটা ভয়াবহ হতে পারে অপরাধ

একটি ইয়াবার আসর থেকে শুরু হয়ে চারটি প্রাণহানির ঘটনায় মাদকের ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব আবারও সামনে এসেছে। মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নষ্ট করে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে পরিবার, সমাজ এমনকি নিরপরাধ মানুষের জীবনও।

গণপতি চক্রবর্তী হয়তো ভেবেছিলেন, নিজের বাড়ির ছাদে মাদক সেবন বন্ধ করতে প্রতিবাদ করা তাঁর স্বাভাবিক সামাজিক দায়িত্ব। কিন্তু সেই প্রতিবাদের মূল্য তাঁকে দিতে হলো নিজের জীবন দিয়ে। একই সঙ্গে প্রাণ হারালেন তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও শিশুসন্তান।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয়—যে শিশুটির হয়তো আগামী দিনে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার কথা ছিল, ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার কথা ছিল, সেই আয়ুস চক্রবর্তীও এই নির্মমতার শিকার হলো।

প্রশ্ন রয়ে গেল—মাদক ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ দিতে হবে কেন?

এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের জন্য শোকের ঘটনা নয়; এটি সমাজের জন্যও একটি কঠিন সতর্কবার্তা। মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়া একজন নাগরিকের জন্য যদি প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে, তাহলে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

রংপুরের এই চার হত্যাকাণ্ড তাই শুধু একটি অপরাধের তদন্তে সীমাবদ্ধ থাকার নয়। এর পেছনে মাদকের বিস্তার, তরুণদের মাদকাসক্ত হয়ে পড়া, অপরাধের সঙ্গে মাদকের যোগসূত্র এবং জননিরাপত্তা—সবকিছুই নতুন করে ভাবার দাবি রাখে।

একটি পরিবার শেষ হয়ে গেছে। চারটি জীবন থেমে গেছে। আর রেখে গেছে একটাই নির্মম প্রশ্ন—মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে আর কত প্রাণ ঝরবে?

নোট: হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিবরণে ওপরের তথ্যগুলো পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য ও প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে; তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায় তথ্যের পরিবর্তন বা নতুন তথ্য যুক্ত হতে পারে।

মন্তব্য / প্রেরক

বিরামপুরে ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে মেজো ভাই গ্রেফতার

বিরামপুরে ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে মেজো ভাই গ্রেফতার
ফটো: প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বিরামপুরে ছোট ভাইকে পিটিয়ে হত্যার প্রায় একমাস পর প্রধান অভিযুক্ত মেজো ভাই স্কুল শিক্ষক এটিএম শামসুজ্জামানকে এসআরবি ও পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে আটক করে করেছেন। সোমবার দিবাগত রাতে আটকের পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাকে দিনাজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


মামলা সূত্রে প্রকাশ, বিরামপুর পৌর এলাকার কৃষ্টচাঁদপুর গ্রামে আবাদি জমিতে ময়লা ফেলা নিয়ে কথা কাটাকাটির মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ও মেজো ভাইসহ সঙ্গীরা মিলে ছোট ভাই মুকুল হোসেনকে (৪০) পিটিয়ে হত্যা করে। এঘটনার পরদিন গত ০৬ অক্টোবর বিরামপুর থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষনিক একজনকে আটক করে এবং অন্য অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।


মামলার প্রধান অভিযুক্ত নিহতের মেজো ভাই স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও কৃষ্টচাঁদপুর গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে এটিএম শামসুজ্জামান আত্মগোপনে ছিলেন। দিনাজপুর এসআরবি-১৩ ও পুলিশ বিষেশ অভিযান চালিয়ে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকা থেকে সোমবার দিবাগত রাতে তাকে আটক করেন।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মুকুল হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত এটিএম শামসুজ্জামানকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিনাজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মন্তব্য / প্রেরক

ঘোড়াঘাটে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেফতার

ঘোড়াঘাটে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেফতার
ফটো: সংগৃহিত

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি বিক্রি ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের ঘটনায় প্রতারণা, টাকা আত্মসাৎ, চাঁদা নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ উজ্জ্বল মিয়া (৪১) এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিফাত কবীর (২৩) ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, রিফাত কবীর ২০২২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য মিশরে যান। ২০২৫ সালে দেশে ফিরে নিজ এলাকায় উজ্জ্বল মিয়ার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে উজ্জ্বল মিয়া নিজেকে গরুর খামার ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে ঘোড়াঘাটে গরুর খামার এবং ঢাকার বিভিন্ন গরু ব্যবসায়ীর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কথা জানান।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোড়াঘাট থানাধীন সাগরপুর মৌজার ৫৭ শতক জমি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়। এর মধ্যে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করে বাকি ১২ লাখ টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জমিটি দলিল করে নেন উজ্জ্বল মিয়া। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বকেয়া টাকা পরিশোধ করেননি তিনি।

পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। রিফাত কবীরের দাবি, গত ৮ মার্চ থেকে ২ মে ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পূবালী ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে উজ্জ্বল মিয়ার সোনালী ব্যাংকের দুটি হিসাবে মোট ৪৮ লাখ টাকা পাঠান তিনি। এ সংক্রান্ত ব্যাংক লেনদেনের কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৮ জুন সকালে ওসমানপুর বাজারে উজ্জ্বল মিয়ার সঙ্গে দেখা হলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তিনি ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং অবশিষ্ট টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। এ সময় স্ট্যাম্পে জমির বায়নানামা, গরু ক্রয়ের বায়নানামা ও দায় স্বীকারোক্তিমূলক অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করা হয় বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।

তবে পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ ও তালবাহানা করতে থাকেন উজ্জ্বল মিয়া। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে রাস্তাঘাটে পেলে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রিফাত। জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে তিনি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া একই দিন দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হুমায়ুন রাইস মিল থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় তাঁর পথরোধ করে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় মোঃ সানোয়ার হোসেন রতন, মোঃ শফিকুল ইসলাম ও লিয়ন রহমানসহ কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রিফাত কবীরের দাবি, জমি ও ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা অর্থ ফেরত না দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদা নিয়েছে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউর রহমান রেজা বলেন, আমার কথা হচ্ছে কেউ যদি অপরাধ করে সে যেই দলের হোক তাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।



মন্তব্য / প্রেরক

একদিনে চার পদোন্নতি: বিতর্কিত আমলা নজরুল ইসলাম ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের সুর

একদিনে চার পদোন্নতি: বিতর্কিত আমলা নজরুল ইসলাম ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের সুর
ফটো: সংগৃহিত

ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর নিজেকে ‘বৈষম্যের শিকার’ দাবি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে একদিনে চার দফায় পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম এখন বহুমুখী কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সিন্ডিকেট গঠন, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য এবং রাজউকের বিধি লঙ্ঘন করে রাজধানীতে বহুতল ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসন ও আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়া এই সাম্রাজ্যের জাল ছড়িয়ে রয়েছে ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচং জুড়ে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের সুযোগ নিয়ে নাটকীয়ভাবে সচিব পদে আসীন হন। অভিযোগ রয়েছে, সচিব হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন নামসর্বস্ব সমিতি ও সংগঠনের ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষ ব্যবহার করে সভা-মিলনমেলা চালিয়ে যান।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক মহলের দাবি, তাঁর পদোন্নতির প্রতিটি ধাপের আদেশ, গ্রেড এবং এর পেছনের প্রশাসনিক ভিত্তি কী ছিল—তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা জরুরি।

নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তাঁর কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত তোফায়েলকে ঘিরে রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর্টসের ছাত্র হয়েও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ উপায়ে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তোফায়েলের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আমলের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে আড্ডা এবং ক্ষমতার পালাবদলে খোলস পাল্টে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। বুড়িচংয়ে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় একটি হত্যাকাণ্ডে তোফায়েলের নাম এলেও পরবর্তীতে তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

এছাড়া শিক্ষা ভবনের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কবির আহমেদের মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি এবং নিজের এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বদলি করানোর ঘটনায় তো তোলপাড় শুরু হয়েছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকায় ২৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত বহুতল ভবনটিতে রাজউকের ‘ফার’ (FAR) এবং সেটব্যাক নীতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। অকুপেন্সি সনদ নেওয়ার আগেই বসবাস শুরু করার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালে রাজউক অভিযান চালিয়ে অবৈধ অংশ ভেঙে দিলেও নজরুল ইসলাম সচিব হওয়ার পর পুনরায় নির্মাণকাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ। ২০১৭ সাল থেকে দুদকের তদন্ত ও রাজউকের জরিমানা অমান্য করে পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে এই ভবনে।

অভিযোগ উঠেছে, নজরুল ইসলামকে ঘিরে গড়ে ওঠা বলয়ের সদস্যরা অল্প সময়ে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট পদে থেকেও নিয়ম ভেঙে ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ পেয়েছেন। ঘুষ দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক পদ বাগিয়ে নিয়ে উত্তরা, বসুন্ধরা ও কুমিল্লায় স্কুল, হাসপাতাল ও প্লটের মালিক হয়েছেন। খিলক্ষেতের স্টক এক্সচেঞ্জে চাকরি করলেও সাবেক সচিবের প্রভাব খাটিয়ে একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন এবং তদবির বাণিজ্য চালিয়েছেন। পাশাপাশি ‘কনটেক ডেভেলপার’, ‘কনফিডেন্স গ্রুপ’ এবং ‘বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’সহ বিভিন্ন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে আবাসন ব্যবসা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজউকের বিধি লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা। সাধারণ ক্রেতা ও সচেতন মহলের দাবি—রাজউকের বিতর্কিত ভবনগুলোর নকশা যাচাই, সম্পদ অর্জনের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রমাণিত অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জনস্বার্থে এই দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র দ্রুত জাতির সামনে আসুক—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

মন্তব্য / প্রেরক

যৌতুকের মামলার মধ্যেই স্বামীর গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ, সংসার ফিরে পেতে চান প্রথম স্ত্রী

যৌতুকের মামলার মধ্যেই স্বামীর গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ, সংসার ফিরে পেতে চান প্রথম স্ত্রী
ফটো: প্রতিনিধি

দিনাজপুরের খানসামায় স্ত্রী ও নয় বছরের কন্যাসন্তান থাকা সত্ত্বেও গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে আবু সাইদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও তা না পেয়ে প্রথম স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রীর দায়ের করা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযুক্ত আবু সাইদ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার লাটেরহাট তুলশীপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর প্রথম স্ত্রী আক্তারিনা (৩৪) খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের যুগীরঘোপা গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্ত্রী আক্তারিনার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন আবু সাইদ। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে ২০২৪ সালে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন আক্তারিনা। মামলাটি দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন আবু সাইদ। পরবর্তী সময়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিনি আদালতে হাজির হন। তবে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন তিনি।
বিষয়টি জানতে পেরে আক্তারিনা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে যান। সেখানে গিয়ে স্বামীকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। যদিও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন আবু সাইদ। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই বিয়ের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও রয়েছেন। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আবু সাইদ সেখান থেকে পালিয়ে যান এবং পরবর্তী সময়ে প্রথম স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আক্তারিনা বলেন, ‘আমি ও আমার স্বামী দুজনেই দুটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করি। আমাদের নয় বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমার স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে মারধর করেন। সংসার টিকিয়ে রাখতে অনেকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলার পর আমার স্বামী গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সংসার শুরু করেন। অথচ তিনি বিষয়টি অস্বীকার করছেন। তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও রয়েছে। আমরা সেখানে গিয়ে তাঁকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পাই। এরপর থেকে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এত কিছুর পরও আমি আমার স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সংসার করতে চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু সাইদের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী আক্তারিনা তাঁর ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের ও সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date