বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে এক অভিনব প্রতারক চক্রের সন্ধান মিলেছে। চক্রটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার ভুয়া চিঠি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
সম্প্রতি এমন একটি চক্রকে ধরেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ। সেই চক্রের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পিয়নের সম্পৃক্ততা মিলেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, ডিসেম্বর মাসের ২৬ তারিখ কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ থেকে ১২টি কারিগরি ও মাদ্রাসাকে নতুন এমপিওভুক্ত করে একটি ভুয়া চিঠি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। চিঠিটি এমন একদিন প্রকাশ করা হয়, যার আগের দিন সচিবালয়ে আগুন লাগে এবং ওই দিন বিদ্যুৎ ছিল না। এমনকি ওই দিন বেশিরভাগ কর্মকর্তা নিরাপত্তার কারণে সচিবালয়ে আসেননি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চক্রটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ভুয়া চিঠি আপলোড করে।
বিষয়টি জানাজানির পর মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে চিহ্নিত করেছে।
প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার জন্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা করে চুক্তি হয়েছিল। এর মধ্যে চিঠি আপলোডের সময় অর্ধেক, বাকি টাকা এমপিও হওয়ার পর নেওয়ার চুক্তি ছিল। এই প্রজেক্ট সফল হলে আরও ১২টি মাদ্রাসার চিঠি প্রস্তুত ছিল
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি ভুয়া চিঠি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়ার মতো দুঃসাহস এর আগে কেউ দেখায়নি। নজিরবিহীন এ জালিয়াতির ঘটনায় তোলপাড় চলছে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে। এর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি কলেজের প্রিন্সিপাল পরিচয় দেওয়া রবিউল নামে একজনের সম্পৃক্ততা মিলেছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার জন্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা করে চুক্তি হয়েছিল। এর মধ্যে চিঠি আপলোডের সময় অর্ধেক, বাকি টাকা এমপিও হওয়ার পর নেওয়ার চুক্তি ছিল। এই প্রজেক্ট সফল হলে আরও ১২টি মাদ্রাসার চিঠি প্রস্তুত ছিল।
তাছাড়া একইভাবে স্কুল-কলেজ শাখায় ভুয়া চিঠিতে এমপিওভুক্ত করার চেষ্টা ভেস্তে যায় গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে।
জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। প্রকৃত ঘটনা কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলতে পারব। তবে এর সঙ্গে যারা যুক্ত তারা অবশ্যই শাস্তির আওতায় আসবে।
যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের নামে চিঠি হয়েছে, সবগুলো উত্তরবঙ্গের। তদন্তে রবিউল নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছি। তার নিজ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আটটি প্রতিষ্ঠান ছিল তালিকায়। বাকিগুলো রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের
সদস্য, তদন্ত কমিটি
যেভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয় ভুয়া চিঠি
গত ২৬ ডিসেম্বর কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের ওয়েবসাইট tmed.gov.bd-তে ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন করে এমপিওভুক্ত করা সংক্রান্ত একটি চিঠি আপলোড করা হয়। সেই চিঠিতে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ছিল। যদিও চিঠি আপলোড হওয়ার কিছুক্ষণ পর সেটি সরিয়ে ফেলা হয়।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে সচিবালয়ে একটি ভবনে আগুন লাগে। পরদিন ২৬ ডিসেম্বর সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ছিল না, কর্মকর্তাদের প্রবেশাধিকারও সীমিত করা হয়। স্বাভাবিক কোনো কাজকর্ম সেদিন হয়নি। ঠিক ওই দিনই এমপিওভুক্তকরণের ভুয়া সেই চিঠি অনলাইনে আপলোড করে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের আইটি সেল। চিঠিটি আপলোড করে কম্পিউটার অপারেটর শাহিন। তার ভাষ্য, ২৬ তারিখ তার টেবিলে চিঠিটি পড়েছিল। সচিবালয়ে বিদ্যুৎ না থাকায় চিঠিটি বাইরে থেকে আপলোড করা হয়।

ঘটনাটি ভুলবশত হয়েছে দাবি করে কম্পিউটার অপারেটর মো. শাহিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে চিঠিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাইরে নিয়ে আপলোড করেছি।
১২টি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে এমপিওভুক্তির চিঠি দেখার পর সেটি কেন যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজনবোধ করেননি— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, চিঠিটি দেখে ভুয়া মনে হয়নি। কারণ, একটি চিঠিতে যা যা থাকার কথা সবই এটিতে ছিল।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের ছুটি ছিল, পরদিন ২৬ ডিসেম্বর অগ্নিকাণ্ডের কারণে সচিবালয়ে অঘোষিত ছুটি, এরপর শুক্র ও শনিবার বন্ধ। অর্থাৎ মাঝে চারদিন বন্ধের সুযোগে ভুয়া চিঠিটি আপলোড করে চক্রটি। চিঠির বিষয়টি জানাজানির পর তা সরিয়ে ফেলা হয়।
ডিসেম্বর মাসের ২৬ তারিখ কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ থেকে ১২টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসাকে নতুন এমপিওভুক্ত করে একটি ভুয়া চিঠি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। চিঠিটি এমন একদিন প্রকাশ করা হয়, যার আগের দিন সচিবালয়ে আগুন লাগে এবং ওই দিন বিদ্যুৎ ছিল না
এ প্রসঙ্গে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের প্রোগ্রামার মো. নুরুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ওই দিন আমি ছুটিতে ছিলাম। ঘটনাটি তিন দিন পর ২৯ ডিসেম্বর শুনেছি। এরপর তদন্ত কমিটি হয়েছে। চিঠি আপলোড করার অ্যাকসেস সীমিত করেছি। এমন জালিয়াতির ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।
এদিকে এমন জালিয়াতির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে মন্ত্রণালয়। তাৎক্ষণিক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। চার সদস্যের কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এই চিঠি ওয়েবসাইটে কীভাবে প্রকাশ হলো, তা উদঘাটন এবং এর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কেউ জড়িত কি না তা বের করতে কমিটিকে বলা হয়।
কমিটির আহ্বায়ক এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের যুগ্ম সচিব জহুরুল আলম চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে চিঠি আপলোডে যুক্তদের সঙ্গে কথা বলে তাদের জবানবন্দি নিয়েছেন। শুধু আইটি সেল নয়, এর সঙ্গে অন্য কোনো চক্র যুক্ত আছে কি না তাও খোঁজা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জালিয়াতির এ ঘটনার সঙ্গে মন্ত্রণালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা অধিদপ্তরের বড় একটি চক্র জড়িত। চিঠিতে যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে এসেছে সেই প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বললে চক্রকে চিহ্নিত করা সহজ হতো। কিন্তু কমিটি শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেই দায় সারছে। ফলে মূল চক্রটিকে বের করা যাচ্ছে না।
মন্ত্রণালয় ছাড়াও বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গত ৬ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তারা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে।
ভুয়া চিঠিতে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম
এমপিওভুক্তির ভুয়া যেই চিঠিটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয় সেটিতে স্বাক্ষর ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তারিখ ছিল ৩১ জুলাই, ২০২৪; অর্থাৎ শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পাঁচ দিন আগের। ওই দিনের তারিখ ব্যবহার করা চিঠিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি স্মারক নম্বর ব্যবহার করা হয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেনের স্বাক্ষর করা চিঠিটি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়।
চিঠিতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেথুলিয়া পীরগাছা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট কলেজ ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার দ্বীপনগর মহিলা টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট কলেজ, পবা উপজেলার পীয়ারলেস বিএম কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবপুরের সোনামসজিদ মাধ্যমিক কারিগরি ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ভোলাহাটের ঝোউবোনা কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, গোমস্তাপুরের রহনপুর কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, নাচোল উপজেলার নাচোল কৃষি ডিপ্লোমা কলেজ, নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার নুরুল্যাবাদ জোতপাড়া বি এম কলেজ, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর কৃষি ও কারিগরি কলেজ, দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার ইচ্ছামতি ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা অ্যান্ড ভোকেশনাল এবং গাইবান্ধার আব্দুল কদ্দুস সরকার কৃষি কলেজ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের নাম উল্লেখ রয়েছে।
প্রকৃত ঘটনা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলতে পারব। তবে এর সঙ্গে যারা যুক্ত তারা অবশ্যই শাস্তির আওতায় আসবে
ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব
এ ছাড়া অন্য আরেকটি চিঠি ঢাকা পোস্টের হাতে এসেছে। সেখানে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার ১২টি মাদ্রাসার নাম ছিল।
সূত্রে জানা যায়, জালিয়াতি করতে গিয়ে ধরা পড়া চিঠির প্রজেক্ট সফল হলে নতুন করে আরও ১২টি মাদ্রাসার নাম সম্বলিত চিঠি অনলাইনে আপলোড করা হতো।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের রহনপুর কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষক বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও করে দেবে– এমন শর্তে ৫০ লাখ টাকার চুক্তি হয়। পরে ২৬ ডিসেম্বর এমপিও’র চিঠি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোডের পর টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেয় চক্রের লোকজন। সেই চিঠি যাচাই-বাছাই করে দেখি পুরোটাই ভুয়া। আমরা টাকা না দিলেও অনেকেই টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট, দালালদের মধ্যে অন্যতম রবিউল
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত, স্কুল-কলেজ অনুমোদন, বদলিসহ নানা বাণিজ্যের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পিয়নরা জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সুবাদে তারা শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাজ ভাগিয়ে আনেন এমন কয়েকজন দালাল নিয়মিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাতায়াত করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম একজন রবিউল ইসলাম। এমপিওভুক্তির ভুয়া এই চিঠির সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকার তথ্য মিলেছে।

কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে চিঠি আপলোডে যুক্তদের সঙ্গে কথা বলে তাদের জবানবন্দি নিয়েছে। শুধু আইটি সেল নয়, এর সঙ্গে অন্য কোনো চক্র যুক্ত আছে কি না তাও খোঁজা হচ্ছে
জহুরুল আলম চৌধুরী, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের যুগ্ম সচিব
তদন্ত কমিটির একজন সদস্য ঢাকা পোস্টকে বলেন, যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের নামে চিঠি হয়েছে, সবগুলো উত্তরবঙ্গের। তদন্তে রবিউল নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছি। তার নিজের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আটটি প্রতিষ্ঠান ছিল তালিকায়। বাকিগুলো রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের। ওই ব্যক্তি নিজেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি কলেজের প্রিন্সিপাল দাবি করে নিয়মিত সচিবালয়ে যাতায়াত করতেন। তিনি মূলত একজন দালাল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের কাজ বাগিয়ে এনে মন্ত্রণালয়ের লোকদের দিয়ে করিয়ে নেন। রবিউল ছাড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি বা এমপিও কাজ করা সম্ভব নয় বলেও রাজশাহী অঞ্চলে প্রচার করা হয়েছিল।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রবিউল সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের একজন এপিএসের ছত্রছায়ার মন্ত্রণালয়ে কাজের সুযোগ পান। এরপর দীপু মনি, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সময়েও তা চালিয়ে যান। মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন পিয়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারী রবিউলের সিন্ডিকেটে সক্রিয়। রবিউল বিভিন্ন উপহারের বিনিময়ে এদের কাছ থেকে কাজ হাসিল করতেন। মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল তার।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল ইসলাম কখনও নিজেকে শিক্ষক, কখনও সাংবাদিক একপর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগত কাজে সচিবালয়ে যাই। এই ভুয়া চিঠির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
আপনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোন কলেজের প্রিন্সিপাল— জানতে চাইলে রবিউল বলেন, সেটি আপনাকে বলতে চাইছি না।দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত, স্কুল-কলেজ অনুমোদন, বদলিসহ নানা বাণিজ্যের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পিয়নরা জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সুবাদে তারা শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন
স্কুল-কলেজ এমপিওতে একই চক্র
সর্বশেষ ২০২১ সালে নতুন করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। এরপর থেকে সেই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কখন নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে, তাও প্রায় অনিশ্চিত।
অভিযোগ রয়েছে, রবিউল চক্রটি ২০২২ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে দেবে বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়। সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় অনলাইনে চিঠি আপলোড করে অভিনব এক প্রতারণার আশ্রয় নেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল— এই চিঠি দেখিয়ে আঞ্চলিক অফিস থেকে শিক্ষকদের এমপিও ভাগিয়ে নেওয়া।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ (মাউশি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে মাউশি থেকে ২০টি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া চিঠি করিয়ে নেওয়ার জন্য এমপিও শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে চাপ দেয় চক্রটি। ওই কর্মকর্তা এতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় চক্রের সদস্যরা এবং তাকে ওই শাখা থেকে বদলি করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এমপিও শাখার একজন উপসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে একই ধরনের প্রতারণা করে এমপিওর চিঠি এই বিভাগ থেকে অনলাইনে আপলোড করার চেষ্টা হয়েছিল। বিষয়টি আমরা জেনেছি ডিসেম্বর মাসে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
Read_more
- ঢাবি থেকে সাত কলেজের পৃথকীকরণ— সম্ভব কি?
- চট্টগ্রাম ইপিজেডে কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৭ ইউনিট
- জলসায় গিয়ে নিখোঁজ, লিচু বাগানে মিলল স্কুলছাত্রীর লাশ
- স্কুলে ভর্তির জন্য নির্বাচিত ৩ লাখ ৬ হাজার শিক্ষার্থী
- যে কারণে সব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়নি
- কড়াইল বস্তিতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৭ ইউনিট
- শিক্ষার্থীদের কাছে নতুন বই কবে পৌঁছাতে পারে, জানালেন শিক্ষা উপদেষ্টা
- বাতিল হচ্ছে শেখ হাসিনার আমলের শিক্ষানীতি
- বেসরকারি শিক্ষকদের শূন্য পদে বদলির নীতিমালা জারি
- অবৈধ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে দিল্লির সব স্কুলে নির্দেশনা জারি
- গাজীপুরে কারখানায় আগুনে নিহত ১
- উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন
- তাবলীগের দুপক্ষকে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে সংলাপের আহ্বান
- সচিবালয়ে লাগা আগুনের কারণ খুঁজতে কমিটি গঠন
- সচিবালয়ে আগুন : হুঁশিয়ারি সারজিস আলমের
- পুড়ল আসিফের দুই মন্ত্রণালয়, বিষণ্ন মনে দেখে গেলেন সবকিছু
- সড়কে পড়ে আছে ফায়ারকর্মী নয়নের হেলমেট ও তাজা রক্ত
- আগুনের সূত্রপাত নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি : ফায়ারের ডিজি
- ফায়ার ফাইটাররা যখন আগুন নেভাচ্ছিল পুলিশ কেন রাস্তা বন্ধ করেনি?
- সচিবালয়ে কীভাবে আগুন লাগলো— আজকেই জানতে চাই
- চোখের জলে এক বীরকে বিদায় দিল ফায়ার সার্ভিস
- বুধবার রাতে আগুন লেগেছিল সচিব নিবাসেও
মন্তব্য / প্রেরক
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ, বন্ধ শত শত কারখানা; উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে শ্রমিক-মালিক অসন্তোষ
-
ডিজিটাল ডেস্ক : সম্পাদনা: মো; রফিকুল ইসলাম সরকার
মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কালোতালিকা বা হোয়াইট লিস্টের নামে হয়রানি বন্ধের দাবিতে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। কয়েক দিন ধরে ঢাকা, মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। এতে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে পরিবার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি ও কালোতালিকাভুক্ত করার মতো পদক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
শিল্পাঞ্চলে অচলাবস্থা, বন্ধ শত শত কারখানা
শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকেরা।
শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ৩১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। একই সময়ে প্রায় ৭ লাখ শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে চলে যান বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরবর্তী দিনগুলোতেও বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে কারখানা বন্ধ ও সাধারণ ছুটি ঘোষণার ঘটনা ঘটেছে। ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরেই কয়েক শ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল।
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড
আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, সাভার ও আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কোথাও কোথাও কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এসব ঘটনায় শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি স্থানে ভাঙচুর, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। ৩ নভেম্বর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গাজীপুর ও মিরপুরে অন্তত ৮২ জনকে আটক বা গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়।
শ্রমিক নেতাদের আটক ও হয়রানির অভিযোগ
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক নেতাদের আটক এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করলেই তাঁদের চাকরিচ্যুত করা, মামলায় জড়ানো কিংবা ভবিষ্যতে অন্য কারখানায় চাকরি পেতে বাধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
বিশেষ করে শ্রমিকদের কালোতালিকাভুক্ত করা কিংবা হোয়াইট লিস্টের নামে হয়রানির অভিযোগ তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। আন্দোলনকারীরা এসব ব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও চাকরির নিশ্চয়তা দাবি করছেন।
তবে আন্দোলনে সহিংসতা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা জরুরি হয়ে পড়েছে।
নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, ডিসেম্বর থেকে নতুন কাঠামোর উদ্যোগ
শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকার ছয় সদস্যের একটি নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ২ নভেম্বর সরকার ও পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিকদের দাবি ও মালিকপক্ষের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৪ নভেম্বর মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠকে ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। নতুন কাঠামোয় কত টাকা মজুরি নির্ধারণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তবে শ্রমিকদের আশঙ্কা, তাঁদের প্রত্যাশিত ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে সামান্য মজুরি বৃদ্ধি করা হতে পারে। এ কারণে বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও আলোচনার অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন তাঁরা।
মালিকপক্ষের উদ্বেগ, রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা
অন্যদিকে পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে কম দামে পণ্য সরবরাহের চাপের মধ্যে হঠাৎ বড় অঙ্কের মজুরি বৃদ্ধি শিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, নির্ধারিত সময়ে পণ্য রপ্তানি এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করা প্রয়োজন।
সংকট সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু শ্রমিক ও মালিকপক্ষ নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, রপ্তানি আয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে মালিকপক্ষের বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করে গ্রহণযোগ্য মজুরি কাঠামো নির্ধারণ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, হয়রানিমূলক তালিকা বাতিল এবং শ্রমিক-মালিকের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।
সরকার, শ্রমিক সংগঠন ও পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষের মধ্যে কার্যকর সংলাপই হতে পারে চলমান সংকট সমাধানের প্রধান পথ।
সব মিলিয়ে, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন এখন দেশের শিল্প ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত, শ্রমিকদের প্রত্যাশা এবং মালিকপক্ষের অবস্থানের মধ্যে কতটা সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশের পোশাকশিল্পে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসার বিষয়টি।
প্রতিবেদনের তথ্যসূত্র: রয়টার্স, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বিডিনিউজ২৪ ও বাসস।
মন্তব্য / প্রেরক
বিরামপুরে জাতীয় যুব দিবসে র্যালী, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ
-
মোঃ নজরুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি বিরামপুর দিনাজপুর
দিনাজপুরের বিরামপুরে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে এবং একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আহসান হায়দার চৌধুরী।
সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হুমায়ুন কবির, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিঞা মোঃ শফিকুল আলম মামুন, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজুসহ অন্যান্য অতিথিরা।
বক্তারা যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের উন্নয়নে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ঋণসুবিধা কাজে লাগিয়ে বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
মন্তব্য / প্রেরক
নবাবগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস পালিত, উদ্যোক্তাদের ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ
-
মেহেদী হাসান, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
“দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা, উদ্যোক্তাদের ঋণের চেক ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো.সাইফ উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.নাজমুল হুদা,
খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. মাছুমা খাতুন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো ইকবাল হোসেন ও বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যুব উন্নয়ন থেকে ঋণ গ্রহণকারী ও প্রশিক্ষণার্থী এবং ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন, “যুবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। দেশের উন্নয়নে দক্ষ ও উদ্যোমী যুবকদের কাজে লাগাতে হবে। বক্তারা যুবসমাজকে মাদক, বেকারত্ব ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে দক্ষতা অর্জন এবং আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য / প্রেরক
বিরলে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে র্যালি, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ও যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় র্যালি শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল ইসলাম।
উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মাহফুজার রহমান চৌধুরী এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাবুল হোসেন, জামায়াতের সেক্রেটারি আজমীর হোসাইন, জাতীয় ছাত্রশক্তি জেলা শাখার সিনিয়র সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন উপজেলা শাখার সভাপতি নাজমুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) আনিছুর রহমান সরকার, প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মোঃ রফিকুল ইসলাম, বিরল মহিলা কলেজ এর অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। আলোচনা শেষে ১৬ জন প্রশিক্ষিত যুব উদ্যোক্তাকে মোট ১৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।
মন্তব্য / প্রেরক
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ