Image
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ড: নেপথ্যে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং!

বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ড: নেপথ্যে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং!

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি হত্যায় নড়েচড়ে বসেছে মুম্বাই পুলিশ। এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডে আটককৃত দুই সন্দেহভাজন দাবি করেছে, তারা মুম্বাইয়ের আলোচিত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য। তবে পুলিশ এখনও এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। আর গ্যাংটিও এখনও হত্যার দায় স্বীকার করে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানায়নি।

শনিবার (১২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

শনিবার রাতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে বলেন, ‘মুম্বাই পুলিশ প্রধান আমাকে জানিয়েছেন, দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর একজন উত্তরপ্রদেশের, অন্যজন হরিয়ানার। তৃতীয় হামলাকারী পলাতক থাকলেও পুলিশ তাকে ধরার চেষ্টা করছে’।

পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবা সিদ্দিকিকে খুনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল মাসখানেক আগে। গত ২৫-৩০ দিন ধরে রেকি করে তারা। শেষ পর্যন্ত শনিবার রাতে গুলি করে খুন করা হয় বাবা সিদ্দিকিকে।


শনিবার রাতে বান্দ্রা ওয়েস্ট এলাকায় বাবা সিদ্দিকিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। ছেলে জিশান সিদ্দিকির অফিসের বাইরে তাকে লক্ষ্য করে কমপক্ষে ছয়টি গুলি ছুঁড়া হয়, যার মধ্যে চারটি তার বুকে লাগে।

বিনোদন জগত এবং বলিউডে বেশ প্রভাব রয়েছে বাবা সিদ্দিকির। অভিনেতা শাহরুখ খান, সালমান খানের সঙ্গেও বেশ সুসম্পর্ক ছিল তার। এমনকি তার মধ্যস্থতাতেই শাহরুখ ও সালমানের মধ্যে বিবাদ মেটে বলে ধারণা করা হয়। হিন্দুস্তান টাইমস তাদের প্রতিবেদনে বলছে, বাবা সিদ্দিকি একরকম ‘পকেটে রাখতেন’ দুই খানকে। শুধু তাই নয়, বাবা সিদ্দিকির ইফতার পার্টিতে হাজিরা দিতেন বলিউডের প্রথম সারির তারকারা।

এর আগে সালমান খানকে খুনের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি, তার বাড়ির বাইরেও গুলি চালায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। জানা গেছে, বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ কৃষ্ণসার বা চিংকার হরিণকে পবিত্র বলে মনে করে, বলতে গেলে তারা পূজা করে। কৃষ্ণ হরিণ খুন মামলার জেরেই সালমান লরেন্সের টার্গেটে উঠে আসেন বলে জানা যায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, লরেন্স এই মুহূর্তে জেলে রয়েছে। কিন্তু জেলে থাকলেও চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে বড় বড় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করছে তার গ্যাং।

৬৬ বছর বয়সি বাবা সিদ্দিকি মহারাষ্ট্রের বান্দ্রা পশ্চিম নির্বাচনি এলাকা থেকে তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। একইসঙ্গে ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি খাদ্য ও বেসামরিক সেবা সরবরাহ এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এছাড়া কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে তিনি প্রায় পাঁচ দশক যুক্ত ছিলেন এই রাজনীতিক। তবে কংগ্রেস ছেড়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

মন্তব্য / প্রেরক

গুরু শফি মন্ডলের হাত থেকে অ্যাওয়ার্ড নিলেন রাজু মন্ডল

গুরু শফি মন্ডলের হাত থেকে অ্যাওয়ার্ড নিলেন রাজু মন্ডল
ফটো: সংগৃহিত

স্বপ্নধারা হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন' আয়োজিত 'স্বপ্নধারা হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬' এ সেরা গুণী সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে অ্যাওয়ার্ড পেলেন এই প্রজন্মের সবচেয়ে ব্যাস্ততম ও গুণী লোকসঙ্গীত শিল্পী রাজু মন্ডল। দেশের লোকসংগীতের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র বাউল শফি মন্ডলের হাত থেকে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন তিনি। গত (২২ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানী ঢাকায় এই গুণীজন সংবর্ধনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি শেষে সঙ্গীতশিল্পী রাজু মন্ডল নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বললেন, "অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসা জানাই আরজু ভাই কে এবং ইব্রাহিম ভাইকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য।"
তিনি আরও বলেন, "আমি যখন গুরুজীর কাছে গান শিখি, আজ থেকে একযুগ আগের কথা। গুরুজীর সাথে আমার অনেক জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। তো বাবা যখন কোনো অ্যাওয়ার্ড পেতেন, তখন আমি তাকিয়ে থাকতাম আর ভাবতাম, আমি যদি এমন একটা অ্যাওয়ার্ড পেতাম। যদি এমন একটা মঞ্চে দাঁড়াতে পারতাম, গান গাইতে পারতাম। সত্যিই মন থেকে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে ফিরিয়ে দেয় না শুকরিয়া মালিকে দরবারে।"
গুরুজী শফি মন্ডলের হাত থেকে অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি প্রসঙ্গে রাজু মন্ডল জানালেন, "গতকালকে আমি আমার গুরুজীর হাত থেকে সম্মাননা পেয়েছি এটা আমার জীবনের অনেক বড় অর্জন এবং অনেক বড় প্রাপ্তি। এখানে সাংস্কৃতি মন্ত্রী মহোদয় ছিলেন আমি কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম যে এই পুরস্কারটা আমি আমার গুরুজীর হাত থেকে নিতে চাই। আয়োজকরা আমার এই ইচ্ছাটা পূরণ করেছেন। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।"
উল্লেখ্য, 'স্বপ্নধারা হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন' (কিংবা স্বপ্নধারা হিউম্যান ওয়েলফেয়ার সোসাইটি) বিভিন্ন সময়ে সমাজসেবা, মানবাধিকার রক্ষা, সংস্কৃতি এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে গুণীজন সংবর্ধনা ও মানবাধিকার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এই আয়োজনে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা গুণী ব্যক্তিদের 'স্বপ্নধারা হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড' সম্মাননা ক্রেস্ট ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়।

মন্তব্য / প্রেরক

মডেল রিধিকার মৃত্যুর ঘটনায় ‘প্রেমিক’ গ্রেফতার

মডেল রিধিকার মৃত্যুর ঘটনায় ‘প্রেমিক’ গ্রেফতার
ফটো: সংগৃহিত

রাজধানীর ভাটারা এলাকায় মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় হাসিবুর রহমান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য, হাসিবুর রিধিকার কথিত প্রেমিক।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, রিধিকার মা শনিবার ভাটারা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় হাসিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার দিন হাসিবুর ঘটনাস্থলে রিধিকাকে দেখতে এসেছিলেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এমনটা উল্লেখ করে ওসি বলেন, ‘আমরা তাকে সেখান থেকেই গ্রেফতার করি। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।’

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে রিধিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর আগে হাসিবুরের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

পরে রিধিকাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মন্তব্য / প্রেরক

কক্সবাজারে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ঃ প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে প্রাণ গেল তরুণ পর্যটক শৌভিকের। নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন

কক্সবাজারে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ঃ প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে প্রাণ গেল তরুণ পর্যটক শৌভিকের।  নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
ফটো: কালেকটেড

বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে এসেছিলেন কক্সবাজারে। সমুদ্রের নীল জলরাশি আর আকাশের বুক চিরে উড়ে বেড়ানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্নই মুহূর্তের মধ্যে রূপ নেয় বিভীষিকায়। শত শত পর্যটকের চোখের সামনে আকাশ থেকে সমুদ্রে ছিটকে পড়ে প্রাণ হারান ৩০ বছর বয়সী তরুণ পর্যটক অক্ষর শৌভিক রায়।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতে ঘটে হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনা। নিহত শৌভিক খুলনা সিটি করপোরেশনের বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা শেখর রায়ের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বন্ধুদের সঙ্গে সৈকতে ঘুরতে এসে দুই হাজার টাকা দিয়ে প্যারাসেইলিংয়ের টিকিট কাটেন শৌভিক। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে প্যারাসুটে বেঁধে স্পিডবোটের মাধ্যমে আকাশে ওড়ানো হয়। প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই ঘটে বিপর্যয়। অজ্ঞাত কারণে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে ছিটকে পড়েন। মুহূর্তেই আনন্দমুখর পরিবেশে নেমে আসে আতঙ্ক।

নিহতের এক বন্ধু অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়নি। ঘটনাস্থলে কোনো প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড বা জরুরি উদ্ধার দল উপস্থিত ছিল না। পরে একটি স্পিডবোটের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা হচ্ছিল। পর্যটকদের নিরাপত্তার চেয়ে ব্যবসায়িক লাভকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং প্যারাসেইলিং পরিচালনায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তিন দিন আগেই সব ধরনের প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দরিয়ানগর সৈকতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পর্যটন নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর, উদ্ধার জলযান, লাইফগার্ড এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না করে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত।

স্থানীয়দের দাবি, দরিয়ানগর সৈকতে এর আগেও একাধিক প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রতিটি ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে একই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে এবং ঝরে যাচ্ছে মূল্যবান প্রাণ।

একটি আনন্দভ্রমণ, একটি পরিবারের অসংখ্য স্বপ্ন আর একজন তরুণের জীবন—সবকিছুই শেষ হয়ে গেল কয়েকটি অসতর্ক মুহূর্তে। শৌভিকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি নয়, এটি দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতারও এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। এখন সবার প্রশ্ন—আর কত প্রাণ হারালে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে?

মন্তব্য / প্রেরক

অষ্টপ্যাডের সুরে আন্তর্জাতিক পরিচিতি গড়েছেন শিল্পী মো. রাজু

অষ্টপ্যাডের সুরে আন্তর্জাতিক পরিচিতি গড়েছেন শিল্পী মো. রাজু
ফটো: কালেকটেড

বাংলাদেশের যন্ত্রসংগীত অঙ্গনের পরিচিত মুখ মো. রাজু। টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার সন্তান তিনি। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাউল ও লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে ধারণ করে মন্দিরা ও অষ্টপ্যাডের সুরে দেশ-বিদেশের দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে আসছেন। ১৯৮৭ সালের ১৫ এপ্রিল জন্ম নেওয়া মো. রাজুর সংগীতজীবনের শুরু পারিবারিক পরিবেশ থেকেই। মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে বাউল গানের আসরে মন্দিরা বাজানোর মাধ্যমে তার সংগীতজীবনের সূচনা। পরে বেহালা গিটার শেখার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মঞ্চে গিটারিস্ট হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে আধুনিক পারকাশন যন্ত্র অষ্টপ্যাডের প্রতি আগ্রহী হয়ে এটিকেই নিজের প্রধান পরিচয়ে পরিণত করেন। ২০০৭ সালে অষ্টপ্যাড শেখার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলামের কাছে। পরবর্তীতে দেশজুড়ে নিয়মিত স্টেজ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খ্যাতিমান পারকাশন শিল্পী হানিফ আহমেদের কাছ থেকেও দীর্ঘ সময় প্রশিক্ষণ নেন। সংগীত পরিচালক ও পারকাশন শিল্পী হৃদয়ের জাদুকর হিসেবে পরিচিত হৃদি মানিক আহমেদের সান্নিধ্য তার সংগীতজীবনকে আরও সমৃদ্ধ করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন মো. রাজু। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের সঙ্গে একাধিক সফল মঞ্চ পরিবেশনায় অংশ নেন। সেখানে কণ্ঠশিল্পী শারমিন দীপ্যুর সঙ্গে নিয়মিত পরিবেশনা করে প্রশংসা অর্জন করেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দক্ষ পারকাশন শিল্পী হিসেবে। দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের সঙ্গে অসংখ্য স্টেজ শোতে পারফর্ম করেছেন মো. রাজু। তাদের মধ্যে রয়েছেন খুরশেদ আলম, ফেরদৌস ওয়াহিদ, তপন চৌধুরী, সুবীর নন্দী, ন্যান্সি, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, কণকচাঁপা, আসিফ আকবর, মিজান, হিরো আলম, শফি মণ্ডল, বাঁধন সরকার পূজা, দিলীপ সরকারসহ আরও অনেকে। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। এরপর থেকে বিটিভি এবং দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংগীতানুষ্ঠানে নিয়মিত পারকাশন শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। সংগঠনেও রয়েছে তার সক্রিয় ভূমিকা। বাংলাদেশ মিউজিশিয়ান ফাউন্ডেশন (বিএমএফ)-এর ২০২২ ও ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে প্রচার সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। পাশাপাশি সংগীতশিল্পীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিয়মিত কাজ করছেন। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মো. রাজু বলেন, “আমি আন্তর্জাতিক মানের একজন যন্ত্রসংগীতশিল্পী হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। সংগীতের মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য।” দীর্ঘ সাধনা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যন্ত্রসংগীতের অঙ্গনে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন মো. রাজু। নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের কাছে তার পথচলা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date