Image
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

পরিচয় গোপন করে আকাশ কেন ইরফান, বেরিয়ে এলো আরও অজানা তথ্য

পরিচয় গোপন করে আকাশ কেন ইরফান, বেরিয়ে এলো আরও অজানা তথ্য

 নাম গোপন রেখে জাহাজে চাকরি নেওয়ার কারণ নৌপুলিশকে জানিয়েছেন ইরফান (২৬)। এর মধ্যে তদন্তে তার এলাকার জীবনের পেছনের নানান বিতর্কিত কর্মকাণ্ড উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন চাঁদপুর নৌপুলিশ সুপার কার্যালয়ের উপপরিদর্শক শেখ আব্দুস সবুর।

তিনি বলেন, রিমান্ডে ইরফান জানিয়েছেন— তিনি ভৈরবে নৌযানে কাজ করাকালে ওখানে কলেমা পড়ে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হন। মূলত তার পেছনের জীবনের ছোটখাটো অপরাধমূলক কাজকে আড়ালে রেখে ভালো ছেলে হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতেই ইরফান নাম দিয়ে জাহাজে খালাসি পদে চাকরি নেন। তবে তার আইডি কার্ডে এখনো আকাশ মণ্ডল নামটিই রয়েছে।

কুমিল্লার র‌্যাব ১১-এর উপপরিদর্শক মো. তারেক বলেন, ইরফানকে আমরা বাগেরহাটের চিলমারী থেকে গ্রেফতার করি। সেখানেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন বেতনভাতা, রাগ ও ক্ষোভের থেকে একাই তিনি এই সাতটি খুন করে ফেলেছেন। সবাইকে ঘুমের ওষুধ রাতের খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ান। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী জাহাজের মাস্টারকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার নৃশংস পরিকল্পনা। পরে ধরা পড়ার ভয়ে একে একে আরও ছয়জনকে তিনি হত্যা করে ফেলেন। আরেকজনকে একই কায়দায় আঘাত করলেও ওই সময় মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার মতো বড় আঘাত না হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান জুয়েল। তার শনাক্তের কারণেই চাঞ্চল্যকর সাত খুনের রহস্য উন্মোচিত ও খুনি চিহ্নিত হয়েছে।

যদিও কার্গো জাহাজ এমডি আল বাখেরার মালিক মাহবুব মোর্শেদ ডাবলু বলেন, ইরফান নাম দিয়ে আমার জাহাজে সে খালাসির পদে চাকরি নিয়েছিল। তাকে বেতনভাতাসহ অন্য সুবিধা দেওয়া হতো না— এমন অভিযোগ বানোয়াট। আমি সাত খুনের ঘটনায় ৮-১০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে ইতোমধ্যে হাইমচর থানায় মামলা করেছি।

থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে জানা যায়, ইরফান তার নিজ এলাকা বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামেও আকাশ মণ্ডল নামেই পরিচিত। তার বাবা জগদীশ মণ্ডল মারা যাওয়ার পরই তারসহ পুরো পরিবারের অধপতন শুরু হয়। তার মা অভাব-অনটন সহ্য করতে না পেরে তাদের দুই ভাইকে ফেলে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে মুসলিম যুবকের সঙ্গে বিয়ে করে চলে যান। পরে নানা-নানির কাছে সে থাকা শুরু করার একপর্যায়ে কিছু দিনের ব্যবধানে তারাও মারা যান। এরপর তার একমাত্র আপন বড়ভাই বিধান মণ্ডলও মুসলিম মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে আবির হোসেন নাম নিয়ে সেও আলাদা থাকতে শুরু করে।

ইরফানদের প্রতিবেশী জিহাদুল ইসলাম ও মো. জুয়েল বলেন, আকাশ নামের ছেলেটি ২০১৮ সালের দিকে একটি মুসলিম মেয়ের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে এলাকা ছাড়া হয়। এরপর ২০২২ সালের দিকে পুনরায় এলাকায় এসে তার ভাইয়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হওয়ায় আবার নিরুদ্দেশ হয়। এখন ফেসবুকে দেখে জানলাম সে জাহাজে সাতজনকে খুন করেছে। তবে আকাশ অভাবের তাড়নায় এলাকায় মানুষের ক্ষেত, পুকুরে শাক ও মাছ চুরির অপরাধে জড়িয়েছিল। তবে কাউকে মারধর করা কিংবা আঘাত করার মতো দুঃসাহস কখনো দেখায়নি।

আকাশের বড়ভাই আবির হোসেন বলেন, আমার নানা-নানি থাকতেন সরকারি জায়গায় ঝুপড়িঘরে। তাদের মৃত্যুর পর আমিও সেখানেই থাকি। আমাদের পৈতৃক নিবাস মোল্লাহাট উপজেলার কোদালিয়া গ্রামে হলেও ছোটবেলায় বাবার মৃত্যুর পর মা ধর্মান্তরিত হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় আমরা দুই ভাই নানা-নানির কাছেই বেড়ে উঠি। আমি ফলতিতাবাজারে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির একটা ছোট দোকান দিয়েছিলাম। সেখানে কাজের সময় আকাশ একটি নারীর সঙ্গে প্রেমঘটিত ঘটনায় এলাকা ছাড়ে। এরপর আর ওই দোকান সেখানে বেশি দিন টেকেনি। গত শীতে একদিনের জন্য সে বাড়িতে আসলে তাকে বকাঝকা করে তাড়িয়ে দিই। এরপর থেকেই সে জাহাজে জাহাজে কাজ করে এবং আমার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই। তবে এলাকায় থাকাকালীন সে বিয়ে করেনি এবং মাছ ধরা ও দিনমজুরি কাজ করত।

এদিকে চিকিৎসাধীন জুয়েল নৌপুলিশকে জানিয়েছেন, এই ছেলেই ছিল সেই ঘাতক এবং সেই ছিল জাহাজের নিখোঁজ নবম ব্যক্তি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসকের চার সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্য চাঁদপুর নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, গলায় অসুস্থতায় কথা বলতে না পারলেও কাগজে ৯ জনের নাম লিখেছিলেন। সেখানে হতাহতের আটজন বাদে অন্য নামটি মূলত ইরফানই ছিল ওই ব্যক্তি যে তাকে গলায় জখম চালিয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জাহাজটিতে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। সবাই ঘুমন্ত ছিলেন এবং ওই দিন সবাই কক্ষের দরজা খোলা রেখেছিল অর্থাৎ দরজা টানা ছিল; ছিটকানি আটকানো ছিল না। দরজা ভাঙা না থাকায় বিষয়টি সহজভাবে বুজা গেছে এবং জুয়েলের কাছ থেকে এটি নিশ্চিত হয়েছি। তবে জুয়েল ভেতর থেকে দরজা লক করায় মূলত প্রাণে বেঁচে ছিলেন। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কাজ এগিয়ে নিচ্ছি আমরা।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আসিবুল ইসলাম আসিব বলেন, জাহাজে সাত খুনের প্রত্যেকটা মরদেহের ময়নাতদন্ত আমি করেছি। প্রত্যেকেরই কানের একটু ওপরে মাথায় কোপ দিয়ে মারা হয়েছে। যে একজনকে ধরা হয়েছে, সে নেশাগ্রস্ত ছিল কিনা সন্দেহ। তার উগ্র আচরণের বহিঃপ্রকাশেই এমন কাণ্ড হতে পারে।

একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক লোক কি এতগুলো মানুষকে রক্তাক্ত করে খুন করতে পারে? এ বিষয়ে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের প্রধান ডা. এএম ফরিদুজ্জামান বলেন, ইরফানের মোটিভ কি ছিলে এবং সে কি সাইকোপ্যাথ কিনা সেটি জানা এ ক্ষেত্রে জরুরি। ২৬-২৭ বয়সের যুবকরা এ ধরনের খুন করার ভালো সম্ভাবনা থাকে। মূলত এ বয়সি যুবকদের যারা ‘এন্টি সোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিজ-অর্ডারের মানুষ’ তারা দেশের বা সমাজের আইনকানুন মানতে চায় না। অর্থাৎ কোনো নিয়মে আবদ্ধ থাকতে চায় না। রাগ উঠলে এরা মারপিট, ভাঙচুর যে কোনো কিছু করতে পারে। পার্সোনালিটি যদি সিডিয়ার হয় সে ক্ষেত্রে এই বয়সি যুবকরা একজন সন্ত্রাসীতে পরিণত হতে পারে, কিংবা সে একজন সাইকোপ্যাথ হতে পারে। এই বয়সটাতে এদের অপরাধবোধ কাজ করে না। এরা যে কাজ করে, সেটা কেন করে সেটাও তারা জানে না বা বুজতে চায় না। এরা খুব ছোটখাটো বিষয়েও ভাঙচুর ও মারধর পর্যন্ত করতে পারে। তার মারধরের স্বীকার লোকটি মারা গেল কিনা সেটিও তারা বুজতে চায় না বা তার বিবেককে নিয়ন্ত্রণ করে না। আবার এ বয়সের ছেলেগুলো অনেক সময় তাদের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ইউরিন টেস্ট করলেই সে নেশা করত কিনা বেরিয়ে আসবে। ওই পার্সোনালিটি যুবকদের ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটি থাকে। সিবিআর হলে মার্ডার করাটা স্বাভাবিক। সে মূলত রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরেই এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটাতে পারে এবং এটা সুস্থ মস্তিষ্কে ঠান্ডা মাথাতেই করা সম্ভব।

এদিকে চাঁদপুর জেলা জজকোর্টের এপিপি ও সাংবাদিক অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আরাফাত জানান, আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফান বিচারককে বলেন, মানুষ ভুল করে। আমিও ভুল করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দিন।

এই সাত খুনের ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হরিণা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. কালাম খান বলেন, ইরফান আমাদের কাছেই রয়েছে। সাত দিনের রিমান্ডের প্রথম দিনে তার থেকে অনেক তথ্যই পেয়েছি। বাকি দিনগুলোতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য বের করব। আহত জুয়েলের সঙ্গেও আমার যোগাযোগ রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌযান পরিবহণের চাঁদপুর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক শআ মাহফুজ উল আলম মোল্লা বলেন, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহাজটিতে পাইলট ছিলেন না। এমনকি তাতে স্কট, সিসি ক্যামেরা, ভিএইচএফ যন্ত্রপাতিও ছিল না। সে ক্ষেত্রে জাহাজটি কীভাবে এতদিন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নদীতে চলাচল করেছে? সে নিয়েও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছি। কেননা, অবৈধ রেজিস্ট্রেশনবিহীন কার্গো জাহাজের বিরুদ্ধে প্রায়ই আমরা জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।

তিনি বলেন, ঘটনার খবর শুনেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পরে দেখলাম জাহাজটি নোঙর করা ছিল না, বরং চরে আটকে ছিল। ওটাতে পাইলটও ছিল না। যার কারণে নির্দিষ্ট ক্যানেলের বাইরে দেখতে পাই জাহাজটি। ইরফান খালাসি পদে কাজ করতেন। মূলত খালাসিরা সাধারণত লস্করের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। তারা জাহাজের ডেকে মালামাল স্থানান্তর করত এবং ডেকে বা যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করে থাকে। কোনোভাবেই মাস্টারের ভূমিকায় জাহাজ চালানোর কথা না। তবে দেখে দেখে হয়তো জাহাজ কিছু সময় চালাতে পারে, তবে দক্ষ চালক বা মাস্টারের মতো কখনই চালাতে পারে না। এ জন্যই হয়তো ইরফান যে সময়টুকু জাহাজটি চালিয়েছে, সেই সময়েই জাহাজটি নির্দিষ্ট ক্যানেলের বাইরে চলে যায় এবং চরে আটকা পড়ে এবং নোঙর করা ছিল না।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, ৭২০ টন ইউরিয়া সার ছিল কার্গো জাহাজটিতে। তা অক্ষত হওয়ায় এবং এগুলো সরকারি সার হওয়ায় দ্রুত তা ওই জাহাজ থেকে আনলোড করে স্থানান্তরিত করতে অন্য একটি জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওই জাহাজ থেকে মাল আনলোডের কাজ শুরু হবে। তদন্ত টিমও তাদের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এর আগে আমরা আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের প্রত্যেককে ২০ হাজার এবং নৌপুলিশের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকার চেক দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত চাঁদপুরের এই সাত খুনের ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে এবং রহস্য উন্মোচনে শ্রম মন্ত্রণালয় ৫ সদস্য, জেলা প্রশাসন ৪ সদস্যের এবং জেলা পুলিশ তিন সদস্যের পৃথক তদন্ত টিম গঠন করেছে। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে ২৩ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার পর্যন্ত যে কোনো সময়ে চাঁদপুরের হাইমচরের ঈশানবালাস্থ মনিপুর টেক খালপাড় সংলগ্নে জাহাজে সাতজন খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বলে মামলা হয়। এমডি আল বাখেরা কার্গো জাহাজটি ২২ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম কাফকো জেটি থেকে ইউরিয়া সার বোঝাই করে চাঁদপুর মেঘনা নদী হয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। জাহাজটিতে মাস্টারসহ ৯ জন স্টাফ ছিল। ২৩ ডিসেম্বর সকালে খুনের ওই ঘটনা সামনে আসে। এতে এমডি আল বাখেরা জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়া, গ্রিজার সজিবুল ইসলাম, লস্কর মাজেদুল ইসলাম, শেখ সবুজ, আমিনুর মুন্সী, ইঞ্জিনচালক সালাউদ্দিন ও বাবুর্চি রানা কাজী খুন হন। এ ছাড়া গুরুতর আহত ব্যক্তি হন জাহাজটির সুকানি জুয়েল।

 

মন্তব্য / প্রেরক

বিরামপুরকে জেলা বাস্তাবায়ন ও নাগরিক দূর্ভোগ নিরসনে স্মারকলিপি প্রদান

বিরামপুরকে জেলা বাস্তাবায়ন ও নাগরিক দূর্ভোগ নিরসনে স্মারকলিপি প্রদান
ফটোঃ প্রতিনিধি

বিরামপুরকে জেলা বাস্তাবায়ন ও প্রথম শ্রেণির বিরামপুর পৌর নাগরিকদের দূর্ভোগ নিরসন ও শহরের শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবিতে সোমবার ২ নভেম্বর দুপুরে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বিরামপুর পেশাজীবি ঐক্য ফ্রন্টের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম সরকার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ তানজিনা খাতুনের নিকট এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় তার সাথে ছিলেন, বিরামপুর পেশাজীবি ঐক্য ফ্রন্টের সদস্য সচিব ও বিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাহমুদুল হক মানিক, দিনাজপুর দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোজাম্মেল হক, সাবেক ভিপি গোলাম মোর্শেদ সৈকত, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, হাফিজ উদ্দিন সরকার, মোবারক আলী, ফরিদ হোসেন, মানিক চৌধুরী, মাজহারুল ইসলাম তানিম।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, বিরামপুর শহরের উভয় পাশে এবং ঢাকামোড়ে অটোরিক্সা, মিশুক, টেম্পু, ভ্যান ও বাসের অবৈধ স্ট্যান্ড অপসারণ, যানজট নিরসন, অটোরিক্সার ভাড়া নির্ধারণ, শব্দ দুষন নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করণ, ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, এবং সপ্তাহে দু’দিন পৌর কার্যালয়ে প্রশাসকের কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
দাবির প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ তানজিনা খাতুন বলেন, অচিরেই ঢাকামোড় ও হাসপাতাল মোড় সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

মন্তব্য / প্রেরক

নীলফামারীর ইজতেমায় লক্ষাধিক মুসল্লির জুমার নামাজ আদায় দারোয়ানি টেক্সটাইল মাঠে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা, শনিবার আখেরি মোনাজাত

নীলফামারীর ইজতেমায় লক্ষাধিক মুসল্লির জুমার নামাজ আদায় দারোয়ানি টেক্সটাইল মাঠে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা, শনিবার আখেরি মোনাজাত
নীলফামারীর দারোয়ানি টেক্সটাইল মাঠে জেলা ইজতেমায় জুমার নামাজে অংশ নিয়েছেন বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। ছবি: সংগৃহীত।

উত্তরের জেলা নীলফামারীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে চলছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে জুমার নামাজ আদায় করতে সমবেত হন লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।

জেলার সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কসংলগ্ন দারোয়ানি টেক্সটাইল মাঠে আয়োজিত এ ইজতেমায় নীলফামারী ছাড়াও ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন। জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি মূল মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।

 

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মুসল্লিদের অংশগ্রহণ

এবারের ইজতেমায় বিদেশি মুসল্লিদেরও অংশগ্রহণ রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, সুদান ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এতে অংশ নিয়েছেন।

ইজতেমায় দ্বীনের দাওয়াত, মানবকল্যাণ, ধর্মীয় জীবনযাপন এবং আখিরাতের প্রস্তুতি বিষয়ে বয়ান পেশ করা হচ্ছে।

নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সাদাপোশাকের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি মুসল্লিদের সার্বিক সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

শনিবার আখেরি মোনাজাত

আয়োজকদের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ জেলা ইজতেমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আখেরি মোনাজাতে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি এবং মানবকল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য / প্রেরক

নবাবগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

নবাবগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
ফটোঃ প্রতিনিধি

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এ মাসিক সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফ উদ্দিন, নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুভ্রত্ব কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দীপক কুমার বণিক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়া,
মাদক, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ নানা সামাজিক সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় হয়। মাসিক সভায় বক্তারা উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

মন্তব্য / প্রেরক

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, ঘোড়াঘাটে যুবদলের ৫ শতাধিক তালবীজ রোপণ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, ঘোড়াঘাটে যুবদলের ৫ শতাধিক তালবীজ রোপণ
ফটো: প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা যুবদল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে উপজেলার ২ নম্বর পালশা ইউনিয়নের পশ্চিম পালশা সড়কের পাশে পাঁচ শতাধিক তালবীজ রোপণ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

আয়োজকেরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এমন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তালগাছ প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় তালগাছের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও জনসচেতনতা রয়েছে। সড়কের পাশে রোপণ করা এসব তালবীজ যথাযথ পরিচর্যায় বেড়ে উঠলে ভবিষ্যতে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।

ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মোফাজ্জল হোসেন প্রধান বলেন, ‘যুবসমাজ দেশের শক্তি। দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই যুবদলের অন্যতম অঙ্গীকার। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিম পালশা সড়কে পাঁচ শতাধিক তালবীজ রোপণের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা চাই, এ উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতন ও উদ্বুদ্ধ হোক।’

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জহরুল ইসলাম শান্ত বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইনি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সড়কে পাঁচ শতাধিক তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, গাছ লাগানো শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবনেতা বাবলু মিয়া, মাসুদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন প্রধান, ২নং পালশা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি
জোবায়ের হোসেন এবং স্বেচ্ছাসেবক নেতা সাইদুল এরশাদসহ যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date