ধজা: মিঠুনের উত্তরসূরি থেকে আমেরিকান হিপ্পি (একটি রম্য রচনা)
-
মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন খান
আমার স্কুলজীবনের বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় প্রাণীটির নাম ধজা। ওকে মানুষ বললে মানুষ অপমানিত হতে পারে, আবার কিংবদন্তি বললেও কিংবদন্তিরা আপত্তি করতে পারে।
ক্লাস ফাইভ থেকে এসএসসি পর্যন্ত ও এমন নিষ্ঠার সঙ্গে ভালো রেজাল্ট করার উপকরণ সংগ্রহ করত যে, মনে হতো শিক্ষা বোর্ড ওর জন্য আলাদা একটা মেডেল চালু করবে—"শিক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিশেষ অবদান।"
শিক্ষকরা খাতা হাতে নিয়ে বলতেন,
—"ধজা, এই উত্তরটা কোথা থেকে লিখেছিস?"
ধজা বুক ফুলিয়ে বলত,
—"স্যার, নিজের মাথা থেকে।"
স্যার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতেন,
—"বাবা, ওই মাথাটাকে একটু বিশ্রাম দে!"
তবে ও নিজে যতই দুর্বল হোক, আত্মবিশ্বাসে সে ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। কারণ সে বিশ্বাস করত, পৃথিবীতে দুইজন মিঠুন আছে—একজন কলকাতায়, আরেকজন আমাদের স্কুলে।
পৃথিবীতে মানুষ দুই রকম। একদল মানুষ নিজের কৃতিত্ব নিয়ে চুপচাপ থাকে। আরেক দল মানুষ এমনভাবে কৃতিত্বের গল্প বলে যে, শুনতে শুনতে মনে হয় পৃথিবীর ইতিহাসটাই বুঝি তাদের জীবনী থেকে লেখা হয়েছে। আমার স্কুলবন্ধু ধজা নিঃসন্দেহে দ্বিতীয় দলের আজীবন সভাপতি।
স্কুলজীবনে ধজা ছিল আমাদের গর্ব, আতঙ্ক এবং ঈর্ষার এক বিরল সংমিশ্রণ। পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন আমরা যখন পাস নম্বরের আশায় মসজিদ-মন্দির সব জায়গায় মানত করে বসে থাকতাম, ধজা তখন এমন নম্বর পেত যে মনে হতো পরীক্ষক খাতা দেখে দাঁড়িয়ে স্যালুট মেরেছেন।
এসএসসি পরীক্ষায় ওর ফল এত ভালো হয়েছিল যে কয়েক মাস ওর হাঁটার ভঙ্গি বদলে গিয়েছিল। আমরা বলতাম,
— "কিরে, পা মাটিতে পড়ছে না নাকি?"
ধজা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলত,
— "মাটি তো সবার জন্য। ট্যালেন্টেড মানুষ একটু ওপরে হাঁটে!"
তখন ভারতীয় সিনেমার সুপারস্টার মিঠুন ছিল ওর ঈশ্বর। ওর চুল মিঠুন, হাঁটা মিঠুন, হাসি মিঠুন, এমনকি ক্লাসে স্যারের বকুনি খাওয়ার স্টাইলও মিঠুন।
একদিন স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখতে গেছি। সিনেমা শেষ হওয়ার পর ধজা সংসদ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে দুই হাত কোমরে রেখে বলল,
— "একটা ছবি তোল। ভবিষ্যতে যখন আমি বড় মানুষ হব, এই ছবিটা কোটি টাকায় বিক্রি হবে।"
আমরা তখন হেসে গড়াগড়ি খেয়েছিলাম।
আজ বুঝি, ধজা তখন থেকেই নিজের জীবনের প্রচার বিভাগ নিজেই চালু করে ফেলেছিল।
তারপর একদিন হঠাৎ ধজা উধাও!
কেউ বলে আমেরিকা গেছে।
কেউ বলে গবেষণা করতে গেছে।
কেউ বলে নাসা ডেকে নিয়ে গেছে।
আর আমাদের টং দোকানের মামা বলেছিলেন,
— "ওরে আমি শেষ দেখছি বাকিতে চা খাইয়া পালাইতে।"
উধাও তো উধাও এমন ভাবে উধাও যে, পাড়ার চায়ের দোকান পর্যন্ত বলল,
—"ধজা বলে কি সত্যিই কেউ ছিল, নাকি সবই মিছে কল্পনা!?"
প্রায় তিরিশ বছর পর একদিন বিকেলে টং দোকানে বসে চা খাচ্ছি। হঠাৎ দেখি সামনে একটা লম্বা চুলওয়ালা, শুকনো, হাড়গিলে মানুষ দাঁড়িয়ে।
আমি মনে মনে ভাবলাম, "এটা কি মানুষ, নাকি হাঁটতে শেখা এক্স-রে রিপোর্ট?"
লোকটা একেবারে আমার সামনে এসে বলল,
— "হেই গাইজ... ডোন্ট ইউ রিকগনাইজ মি?"
মোটেই চিনতেই পারিনি লোকটাকে।
আমি বললাম,
— "বাংলায় বলেন ভাই।"
সে একটু ভেবে আরও একটু এগিয়ে এসে বলল,
—"হেই ব্রো... হাউ আর ইউ?"
আমি বললাম,
—"আগে বল, তুই কে?"
সে সানগ্লাস খুলে বলল,
— "আমি... মানে... আই অ্যাম... ধজা!"
আমরা চা খেতে খেতে প্রায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গেলাম।
আমি চমকে উঠে বললাম,
—"তুই ধজা? নাকি ধজার আত্মা?"
ওর শরীরে এত কম মাংস যে, জড়িয়ে ধরলে ভয় হচ্ছিল পাঁজরের সঙ্গে আমার শার্ট আটকে যাবে। সত্যি এই কি সেই ধজা? দেখে মনে হচ্ছে জোরে হাঁচি দিলেও উড়ে যাবে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
—"এই অবস্থা কেন?"
সে গম্ভীর মুখে বলল,
—"আমেরিকায় সবাই ফিট থাকে।"
আমি বললাম,
—"ফিট আর ফিতার মধ্যে পার্থক্য আছে। তুই এখন প্রায় জুতার ফিতা!"
এরপর শুরু হলো ভাষার কাণ্ড।
আমি বললাম,
—"চল, একটু চা খাই।"
সে বলল,
—"টি?"
আমি বললাম,
—"হ্যাঁ, টি।"
—"তারপর একটু আড্ডা দেব।"
সে চোখ কুঁচকে বলল,
—"আড্ডা মানে?"
আমি বললাম,
—"গল্প করব।"
সে বলল,
—"ওহ... কনভারসেশন!"
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেলাম ওর বাংলা শুনে।
আমি বললাম,
— "বাথরুমে যাবো"
সে বলল,
— "ওহ... ইউ মিন ব্যাথরুম?"
আমি বললাম,
— "হ্যাঁ, ওইটাই।"
সে আবার বলল,
— "আই অলসো নিড টু ইউজ দ্য ব্যাথরুম।"
সেদিন বুঝলাম, আমেরিকা শুধু মানুষকে ডলার দেয় না, ডলাও দেয় তার সাথে বাংলা ভাষাকেও বিদেশি বানিয়ে দেয়।
এরপর শুরু হলো নতুন বাংলা শেখার ক্লাস।
টং দোকান হয়েছে "টিষ্টল"।
ফুটপাত হয়েছে "ফুটপ্যাথ"।
বাসস্ট্যান্ড হয়েছে "বাস স্টেন্ড"।
চা হয়েছে "টি"।
আর সিগারেট হয়েছে "সিগার"।
মাঝে মাঝে মনে হয়, ওর সঙ্গে কথা বলার জন্য বাংলা একাডেমির না, অক্সফোর্ড অভিধানের দরকার।
আমি মনে মনে ভাবলাম, বিদেশে গিয়ে ছেলেটা ডলার যত না কামিয়েছে, বাংলা ততটাই খুইয়েছে।
আমি বললাম,
—"কিরে, ভাত খাস?"
সে বলল,
—"রাইস?"
আমি বললাম,
—"হ্যাঁ!"
সে বলল,
—"ওহ... আই প্রেফার ব্রাউন রাইস!"
আমি বললাম,
—"তুই আগে সাদা ভাত খেয়ে মানুষ হ। তারপর ব্রাউন রাইস খাস।"
শেষে আমি বললাম,
—"ধজা, তুই এখনও আগের মতোই আছিস।"
সে খুশি হয়ে বলল,
—"থ্যাংক ইউ!"
আমি বললাম,
—"না রে, ভুল বুঝিস না। আগে তুই বাংলা বলে মানুষকে হাসাতি, এখন বাংলা ভুলে গিয়ে হাসাস।"
ও আবার সেই পুরোনো মিঠুন স্টাইলে চুল ঝাঁকিয়ে বলল,
—"স্টাইল ইজ নেভার ওল্ড!"
আমি মনে মনে বললাম, "সত্যিই, স্টাইল পুরোনো হয়নি। শুধু মিঠুন হওয়ার স্বপ্ন দেখতে দেখতে ছেলেটা আমেরিকা গিয়ে হিপ্পি হয়ে ফিরেছে!"
তারপর অনেক দিন পর হঠাৎ একদিন আড্ডায় এসে ধজা ঘোষণা দিল,
— "আমি দুইটা পিএইচডি করেছি।"
আমরা সবাই একসঙ্গে চুপ।
মুবিন আস্তে করে বললো,
— "দুইটা!?"
— "ইয়েস... ডাবল ডক্টরেট।"
আমরা তখন থেকে ওর পাশে বসার আগে হাত ধুয়ে বসি।
যদি কোনোভাবে জ্ঞানের জীবাণু লেগে যায়!
তবে আশ্চর্যের বিষয়, এত ডিগ্রি থাকার পরও আড্ডার আলোচনার মূল বিষয়—
কে বেশি চা খায়,
কোন দোকানের সিঙ্গারা ভালো,
আর কোন রাজনৈতিক নেতা সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী।
ধজার আরেকটি বিরল প্রতিভা আছে।
দেশের এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ মানুষ নেই, যাকে সে ব্যক্তিগতভাবে চেনে না।
একদিন বলছে,
— "আজ সকালে একজন মন্ত্রীর সঙ্গে মিটিং ছিল।"
পরদিন,
— "বিকেলে দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পপতির সঙ্গে লাঞ্চ।"
তার পরদিন,
— "রাতে একজন বিদেশি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ডিনার।"
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
— "কোন রেস্টুরেন্টে?"
সে একটু থেমে বলল,
— "ওটা... সিকিউরিটি রিজন... বলা যাবে না।"
আমরা মাথা নাড়লাম।
কারণ আমরা জানি, পৃথিবীর সব গোপন তথ্য ধজার পকেটে থাকে।
আড্ডার মাঝখানে ওর ফোন বাজে।
সে সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ায়।
— "এক্সকিউজ মি... এসপি কলিং।"
পাঁচ মিনিট পরে আরেকটা ফোন।
— "ডিজি অন দ্য লাইন।"
আরও পাঁচ মিনিট পরে,
— "সরি গাইজ... মিনিস্টার ওয়েট করছে।"
আমরা একদিন কৌতূহল সামলাতে না পেরে বললাম,
— "দেখি তো ফোনটা।"
ধজা তৎক্ষণাৎ ফোন পকেটে ঢুকিয়ে বলল,
— "অফিসিয়াল সিক্রেট।"
আমরা পরে টের পেলাম, বেশিরভাগ সময় ফোন করছিল মোবাইল কোম্পানি—
"স্যার, আপনার জন্য বিশেষ ইন্টারনেট অফার..."
তবু ধজার আত্মবিশ্বাসে এতটুকু ভাটা পড়ে না।
ওর আত্মবিশ্বাস এমন যে, একদিন বলল,
— "আমেরিকায় আমি চাইলে তিন দিনের মধ্যে একটা কোম্পানি খুলে ফেলতে পারি।"
আমি বললাম,
— "তাহলে টং দোকানের মামার বাকি তিনশো টাকা আগে শোধ কর।"
ধজা হেসে বলল,
— "ভাই, আমার কাছে তো শুধু ডলার আর কার্ড।"
এই কথাটা আমরা গত দুই বছর ধরে শুনছি।
আমাদের টং দোকানের মামাও এখন মুখস্থ বলে,
— "ধজা ভাই, ডলার থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ভাঙাইয়া আইসেন, তারপরও চায়ের বিল দিয়েন।"
কিন্তু না।
ধজার মান-সম্মানের সঙ্গে টং দোকানের বিল বেমানান।
আমরাই বিল দিই।
ধজা শুধু আশীর্বাদ দেয়।
একদিন আমি ইচ্ছে করে বললাম,
— "আজ কিন্তু বিল তুই দিবি।"
ধজা পকেট থেকে বিশাল এক ওয়ালেট বের করল।
ভেতরে পাঁচটা আন্তর্জাতিক কার্ড।
দুটো বিদেশি আইডি।
একটা চকচকে ড্রাইভিং লাইসেন্স।
কিন্তু এক টাকাও নেই।
সে গম্ভীর হয়ে বলল,
— "ক্যাশ ক্যারি করি না।"
চা দোকনদার মামা হেসে উত্তর দিল,
— "সমস্যা নাই। আপনি কার্ডটা রেখে যান, পরে টাকা দিয়ে নিয়ে যাবেন।"
সেদিন ধজার মুখের অভিব্যক্তি দেখার মতো ছিল।
এখন ধজা আড্ডায় এলেই আমরা বুঝে যাই—আজকের চায়ের বিল আবার আমাদেরই। তবু ওকে আমরা ভালোবাসি। কারণ ও না এলে আমরা জানতামই না যে, "বাথরুম" আসলে "ব্যাথরুম", "টং দোকান" আসলে "টিষ্টল", আর পৃথিবীর অর্ধেক মন্ত্রী-মিনিস্টার, এসপি-ডিজি এবং শিল্পপতিরা নাকি প্রতিদিন একজন মানুষকে ফোন করেই দিন শুরু করেন—তার নাম ধজা।
তবে আমরা সবাই একটা দিনের অপেক্ষায় আছি।
যেদিন ধজা সত্যিই টং দোকানের এক কাপ চায়ের বিল নিজের হাতে দেবে।
সেদিন আমরা আর খবরের কাগজ পড়ব না।
সরাসরি জাতিসংঘে ফোন করে জানিয়ে দেব—
"পৃথিবীতে অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। বিজ্ঞান আপাতত ছুটি নিক!"
আর যদি কোনো দিন ধজা ঘোষণা দেয়,
— "ভাই, আজকের আড্ডা আমার পক্ষ থেকে।"
তাহলে আমরা নিশ্চিত বুঝে যাব—হয় সে সত্যিই আমেরিকা থেকে অনেক কিছু শিখে এসেছে, নয়তো ভুল করে অন্য কারও মানিব্যাগ নিয়ে বের হয়েছে!
তারপরও ধজা আমাদেরই বন্ধু—বন্ধুত্বের সেই চিরচেনা, অবিচ্ছেদ্য মানুষ। ওর আগমনে আমাদের আড্ডা যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়; হাসি, গল্প আর খুনসুটিতে মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে আরও রঙিন। আর মজার ব্যাপার হলো, ও চলে যাওয়ার পরও আড্ডা থেমে থাকে না; বরং ওর কীর্তিকলাপ, অতিরঞ্জিত গল্প আর অমর সব কর্মকাণ্ড নিয়েই আড্ডা আরও প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে।
এমন বন্ধুই তো জীবনের রঙ বাড়িয়ে দেয়। তাই আমাদের একটাই কামনা—ধজা ভালো থাকুক, সুখে থাকুক, কল্পনার রাজ্যে আরও শত দেশের রাজা উজিরের মুন্ডুপাত করুক, আর তার সেই অবিশ্বাস্য সব অভিযানের গল্প দিয়ে আমাদের আড্ডাকে আজীবন হাসিতে, আনন্দে আর উচ্ছ্বাসে মাতিয়ে রাখুক।
চলবে…
মন্তব্য / প্রেরক
দিনাজপুরে বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণে কবি নজরুল শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
-
দিনাজপুর প্রতিনিধি ঃ
দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সহযোগিতায় বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণে কবি নজরুল শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউট এর পরিচালক (উপসচিব) একেএম আল-আমিন।
জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস.এম হাবিবুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ মাজহারুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নজরুল পরিষদ দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নিজাম উদ্দিন আহমেদ রয়েল। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক লাল মিয়া। অনুষ্ঠানে বক্তারা কবি নজরুল এর জীবন ও কর্মের উপর ব্যাপক আলোচনা করেন।অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল কবি নজরুল ইনস্টিটিউট ঢাকা।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠানের অতিথিদের শুভেচ্ছা পুরস্কার ও সংগীত প্রশিক্ষণে অংশ অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ এবং সাহিত্য পাঠ প্রতিযোগিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শেষে একমনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন প্রভাষক মোঃ হারুন অর রশিদ।
মন্তব্য / প্রেরক
একজন আমলার স্মৃতি কথা
Memoirs of a Civil Servant
Dr. A K M Jahangir
লেখক পরিচিতি:
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর ১৯৮২ রেগুলার বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ১৫ ডিসেম্বর ১৯৮৩ তারিখে ময়মনসিংহ কালেক্টরেটে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগদান করেন। তিনি সহকারী কমিশনার ও অর্থ কর্মকর্তা এবং উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট -এিশাল উপজেলা, মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট- ঢাকা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার - সোনারগাঁও, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) - টাংগাইল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক - ঢাকা এবং জেলা প্রশাসক - ঝালকাঠি, নড়াইল ও পাবনা পদে চাকরি করেন।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব - পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বানিজ্য মন্ত্রনালয়, উপসচিব ( বোর্ড) বস্র মন্ত্রনালয়, যুগ্ম সচিব ( উন্নয়ন) পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, যুগ্ম সচিব ( প্রশাসন) অর্থ বিভাগ এবং যুগ্ম সচিব এপিডি- সংস্থাপন মন্ত্রণালয় পদে চাকরি করেন। তিনি নভেম্বর ২০০৬- মার্চ ২০০৭ পর্যন্ত মহাপরিচালক এান ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর পদের দায়িত্ব পালন করেন। ৩১-০৩-২০০৭ তাঁকে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের ওএসডি হিসাবে বদলী করায় তিনি ৪ এপ্রিল ২০০৭ যোগদান করেন।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর ৪ এপ্রিল ২০০৭ থেকে ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ সময়ে ওএসডি ও পদোন্নতি বঞ্চিত অবস্হায় ছিলেন। তাঁর চাকরি ২৫ বছর হওয়ায় সরকারি কর্মচারী অবসর গ্রহন আইন -১৯৭৪ এর ৯(২) ধারা অনুসারে তাঁকে ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে বাধ্যতামূলক অবসর আদেশ করে।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স সহ এমএ ডিগ্রী অর্জন করেন ১৯৭৬ সালে। তিনি ১৯৯২ সালে নেদারল্যান্ডসের আইএসএস থেকে পোস্ট গ্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ডিগ্রী করেন। আমারিকার প্রেস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৯ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর এর লেখা, মাঠ প্রশাসন, ফৌজদারি বিচার প্রশাসন, চাকরির বিধি বিধান ( যৌথ প্রয়াস), Development Planning in Bangladesh, এলমে তরিকত ও মারেফত, আলোকিত মানব। দেশের বিভিন্ন জার্নালে তাঁর লেখা ৭ টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর এর স্ত্রী প্রফেসর হোসনে আরা বেগম, পুএ - প্রকৌশলী এ এইচ তাহজিব এবং কন্যা ডাক্তার ফাইকা তাবাসসুম। ৩ নাতি যথাক্রমে আযযান তেহজিব, আলীয়ান তেহজিব এবং আয়াদ শামস্।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশ এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে যোগদানের পূর্ব ১ লা জানুয়ারী ১৯৭৯ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৮১ পর্যন্ত "এসোসিয়েটেড সার্ভিসেস" আর্থ সামাজিক প্রতিষ্ঠানে গবেষণা কর্মকর্তা এবং ১১ ফেব্রুয়ারী ১৯৮১ থেকে ১৪ ডিসেম্বর ১৯৮৩ পরযন্ত শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রনালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা পরিকল্পনা পদে চাকরি করেন।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর এর লেখা বই প্রকাশের অপেক্ষায়, " পূর্ব বঙ্গে ইসলাম" এবং " কুমিল্লার অতীত ঐতিহ্য"।
মন্তব্য / প্রেরক
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত
-
বেলাল হোসেন, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি॥
মন্তব্য / প্রেরক
পাঁচবিবিতে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
-
পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নজরুল বর্ষ উদর্যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০ টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা পরিষদ হলরুমে নজরুল বর্ষ উদর্যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাশপিয়া তাসরিন।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ তামবিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির আহবায়ক আবু হাসনাত হেলাল মন্ডল ,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জসিম উদ্দিন, একাডেমী সুপারভাইজার জহুরুল ইসলাম, উপজেলা জামাতে ইসলামী আমির সুজাউল করিম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, পৌর প্রেসক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আহসান হাবিব, জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংগীতশিল্পী এম আই মিঠু, পৌর ছাত্র দলের আহবায়ক আর আই রকিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/ শিক্ষার্থী। পরে স্থানীয় সংঙ্গীত শিল্পীরা সম্মিলিত কন্ঠে নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান।
মন্তব্য / প্রেরক
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ