দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের অবকাশকালীন বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন ইসমাইল হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
আবেদনে বলা হয়েছে, ইসমাঈল হোসেন দায়িত্ব পালনকালে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে ঘুষ, বদলি, পদোন্নতি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। দুদকের মামলায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে ইসমাইল হোসেনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুদকের অনুমোদন আছে। তদন্তকালে জানা গেছে, ইসমাইল হোসেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের মানিলন্ডারিং সম্পৃক্ত অপরাধ ‘ঘুষ ও দুর্নীতি’ সংঘটনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার ক্ষেত্রে সহোযোগী ছিলেন।
দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম শুনানি করেন। পরে আদালত ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর সাধন চন্দ্র মজুমদারের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক হিসাবে ৪৩ কোটি ৪ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৫ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সাবেক খাদ্যমন্ত্রীর নামে ২৫ কোটি ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ মিলেছে, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
এছাড়া, সাধন চন্দ্র মজুমদার নিজের এবং তার প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ৬৫টি হিসাবে মোট ৪৩ কোটি ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৫ টাকা লেনদেন করেন। এসবের মধ্যে ২৩ কোটি ৪৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৫৭ টাকা জমা রেখেছেন ও ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ১১৮ উত্তোলন করেছেন। বর্তমানে এসব ব্যাংক হিসাবে ৩ কোটি ৯৬ লাখ ২৯ হাজার ৯৭০ টাকা আছে। তার এই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন সন্দেহজনক, যা খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বলে দুদকের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
Read_more
- চাঞ্চল্যকর দিনমজুর মাহাবুব হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
- বংশালে ফেনসিডিলসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
- সংখ্যালঘু হামলার ঘটনায় ৮৮ মামলা, গ্রেফতার ৭০
- আন্দোলনে গুলি করা ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- রাজবাড়ীতে আ.লীগ ও যুবলীগের ৪ নেতা গ্রেপ্তার
- ভারতে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যক্রম, কী বলছেন বিক্রম মিশ্রি
- দেশে ফিরেছেন মির্জা ফখরুল
- বিদেশি পিস্তল দিয়ে আন্দোলনে গুলি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার
- সচিবালয়ে লাগা আগুনের কারণ খুঁজতে কমিটি গঠন
- সচিবালয়ে আগুন : হুঁশিয়ারি সারজিস আলমের
- পুড়ল আসিফের দুই মন্ত্রণালয়, বিষণ্ন মনে দেখে গেলেন সবকিছু
- সড়কে পড়ে আছে ফায়ারকর্মী নয়নের হেলমেট ও তাজা রক্ত
- আগুনের সূত্রপাত নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি : ফায়ারের ডিজি
- ফায়ার ফাইটাররা যখন আগুন নেভাচ্ছিল পুলিশ কেন রাস্তা বন্ধ করেনি?
- সচিবালয়ে কীভাবে আগুন লাগলো— আজকেই জানতে চাই
- চোখের জলে এক বীরকে বিদায় দিল ফায়ার সার্ভিস
- সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন
- সচিবালয়ে আগুন: সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দাবি বিএনপির
- ১০ ঘণ্টা পর পুরোপুরি নিভল সচিবালয়ের আগুন
- বুধবার রাতে আগুন লেগেছিল সচিব নিবাসেও
- সচিবালয়ের অস্থায়ী প্রবেশ পাস বাতিল, সাংবাদিক প্রবেশেও বিধিনিষেধ
মন্তব্য / প্রেরক
ঘোড়াঘাটে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেফতার
-
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি বিক্রি ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের ঘটনায় প্রতারণা, টাকা আত্মসাৎ, চাঁদা নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ উজ্জ্বল মিয়া (৪১) এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিফাত কবীর (২৩) ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রিফাত কবীর ২০২২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য মিশরে যান। ২০২৫ সালে দেশে ফিরে নিজ এলাকায় উজ্জ্বল মিয়ার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে উজ্জ্বল মিয়া নিজেকে গরুর খামার ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে ঘোড়াঘাটে গরুর খামার এবং ঢাকার বিভিন্ন গরু ব্যবসায়ীর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কথা জানান।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোড়াঘাট থানাধীন সাগরপুর মৌজার ৫৭ শতক জমি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়। এর মধ্যে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করে বাকি ১২ লাখ টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জমিটি দলিল করে নেন উজ্জ্বল মিয়া। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বকেয়া টাকা পরিশোধ করেননি তিনি।
পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। রিফাত কবীরের দাবি, গত ৮ মার্চ থেকে ২ মে ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পূবালী ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে উজ্জ্বল মিয়ার সোনালী ব্যাংকের দুটি হিসাবে মোট ৪৮ লাখ টাকা পাঠান তিনি। এ সংক্রান্ত ব্যাংক লেনদেনের কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৮ জুন সকালে ওসমানপুর বাজারে উজ্জ্বল মিয়ার সঙ্গে দেখা হলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তিনি ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং অবশিষ্ট টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। এ সময় স্ট্যাম্পে জমির বায়নানামা, গরু ক্রয়ের বায়নানামা ও দায় স্বীকারোক্তিমূলক অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করা হয় বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
তবে পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ ও তালবাহানা করতে থাকেন উজ্জ্বল মিয়া। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে রাস্তাঘাটে পেলে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রিফাত। জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে তিনি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া একই দিন দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হুমায়ুন রাইস মিল থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় তাঁর পথরোধ করে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় মোঃ সানোয়ার হোসেন রতন, মোঃ শফিকুল ইসলাম ও লিয়ন রহমানসহ কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রিফাত কবীরের দাবি, জমি ও ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা অর্থ ফেরত না দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদা নিয়েছে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউর রহমান রেজা বলেন, আমার কথা হচ্ছে কেউ যদি অপরাধ করে সে যেই দলের হোক তাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মন্তব্য / প্রেরক
একদিনে চার পদোন্নতি: বিতর্কিত আমলা নজরুল ইসলাম ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের সুর
-
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর নিজেকে ‘বৈষম্যের শিকার’ দাবি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে একদিনে চার দফায় পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম এখন বহুমুখী কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সিন্ডিকেট গঠন, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য এবং রাজউকের বিধি লঙ্ঘন করে রাজধানীতে বহুতল ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসন ও আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়া এই সাম্রাজ্যের জাল ছড়িয়ে রয়েছে ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচং জুড়ে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের সুযোগ নিয়ে নাটকীয়ভাবে সচিব পদে আসীন হন। অভিযোগ রয়েছে, সচিব হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন নামসর্বস্ব সমিতি ও সংগঠনের ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষ ব্যবহার করে সভা-মিলনমেলা চালিয়ে যান।
এ বিষয়ে প্রশাসনিক মহলের দাবি, তাঁর পদোন্নতির প্রতিটি ধাপের আদেশ, গ্রেড এবং এর পেছনের প্রশাসনিক ভিত্তি কী ছিল—তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা জরুরি।
নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তাঁর কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত তোফায়েলকে ঘিরে রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর্টসের ছাত্র হয়েও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ উপায়ে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তোফায়েলের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আমলের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে আড্ডা এবং ক্ষমতার পালাবদলে খোলস পাল্টে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। বুড়িচংয়ে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় একটি হত্যাকাণ্ডে তোফায়েলের নাম এলেও পরবর্তীতে তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এছাড়া শিক্ষা ভবনের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কবির আহমেদের মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি এবং নিজের এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বদলি করানোর ঘটনায় তো তোলপাড় শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকায় ২৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত বহুতল ভবনটিতে রাজউকের ‘ফার’ (FAR) এবং সেটব্যাক নীতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। অকুপেন্সি সনদ নেওয়ার আগেই বসবাস শুরু করার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালে রাজউক অভিযান চালিয়ে অবৈধ অংশ ভেঙে দিলেও নজরুল ইসলাম সচিব হওয়ার পর পুনরায় নির্মাণকাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ। ২০১৭ সাল থেকে দুদকের তদন্ত ও রাজউকের জরিমানা অমান্য করে পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে এই ভবনে।
অভিযোগ উঠেছে, নজরুল ইসলামকে ঘিরে গড়ে ওঠা বলয়ের সদস্যরা অল্প সময়ে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট পদে থেকেও নিয়ম ভেঙে ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ পেয়েছেন। ঘুষ দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক পদ বাগিয়ে নিয়ে উত্তরা, বসুন্ধরা ও কুমিল্লায় স্কুল, হাসপাতাল ও প্লটের মালিক হয়েছেন। খিলক্ষেতের স্টক এক্সচেঞ্জে চাকরি করলেও সাবেক সচিবের প্রভাব খাটিয়ে একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন এবং তদবির বাণিজ্য চালিয়েছেন। পাশাপাশি ‘কনটেক ডেভেলপার’, ‘কনফিডেন্স গ্রুপ’ এবং ‘বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’সহ বিভিন্ন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে আবাসন ব্যবসা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজউকের বিধি লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা। সাধারণ ক্রেতা ও সচেতন মহলের দাবি—রাজউকের বিতর্কিত ভবনগুলোর নকশা যাচাই, সম্পদ অর্জনের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রমাণিত অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জনস্বার্থে এই দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র দ্রুত জাতির সামনে আসুক—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
মন্তব্য / প্রেরক
যৌতুকের মামলার মধ্যেই স্বামীর গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ, সংসার ফিরে পেতে চান প্রথম স্ত্রী
-
খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের খানসামায় স্ত্রী ও নয় বছরের কন্যাসন্তান থাকা সত্ত্বেও গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে আবু সাইদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও তা না পেয়ে প্রথম স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রীর দায়ের করা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত আবু সাইদ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার লাটেরহাট তুলশীপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর প্রথম স্ত্রী আক্তারিনা (৩৪) খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের যুগীরঘোপা গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্ত্রী আক্তারিনার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন আবু সাইদ। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে ২০২৪ সালে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন আক্তারিনা। মামলাটি দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন আবু সাইদ। পরবর্তী সময়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিনি আদালতে হাজির হন। তবে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন তিনি।
বিষয়টি জানতে পেরে আক্তারিনা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে যান। সেখানে গিয়ে স্বামীকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। যদিও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন আবু সাইদ। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই বিয়ের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও রয়েছেন। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আবু সাইদ সেখান থেকে পালিয়ে যান এবং পরবর্তী সময়ে প্রথম স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আক্তারিনা বলেন, ‘আমি ও আমার স্বামী দুজনেই দুটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করি। আমাদের নয় বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমার স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে মারধর করেন। সংসার টিকিয়ে রাখতে অনেকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলার পর আমার স্বামী গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সংসার শুরু করেন। অথচ তিনি বিষয়টি অস্বীকার করছেন। তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও রয়েছে। আমরা সেখানে গিয়ে তাঁকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পাই। এরপর থেকে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এত কিছুর পরও আমি আমার স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সংসার করতে চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু সাইদের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী আক্তারিনা তাঁর ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের ও সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য / প্রেরক
ঢাকায় হত্যার পর নীলফামারীর ডিমলায় পুঁতে রাখা হয় কলেজছাত্রের মরদেহ। নিখোঁজের ২০ দিন পর উদ্ধার, এআই ভিডিও বানিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ
-
ডিজিটাল ডেস্ক :
ঢাকায় নিখোঁজের প্রায় ২০ দিন পর রাকিবুল ইসলাম (১৯) নামে এক কলেজছাত্রের মরদেহ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ঢাকায় হত্যার পর মরদেহটি নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, নিহত রাকিবুল ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুরের বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছিল।
পুলিশের দাবি, রাকিবুলকে হত্যার পর তার মরদেহ ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বসুনিয়াপাড়া গ্রামের একটি বসতভিটার এলাকায় মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিব জীবিত আছেন—এমন ভিডিও তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিও দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে।
পুলিশের তদন্তে ঢাকার ঘটনার সঙ্গে ডিমলায় মরদেহ গোপন করার যোগসূত্র বেরিয়ে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং মুক্তিপণের অর্থ কীভাবে নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনাটি নীলফামারীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: পুলিশ ও আজ ৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন।
মন্তব্য / প্রেরক
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ