বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকার আহম্মেদ মোল্লা সড়কের বাসিন্দা শামীম হোসেন তার পনেরো বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে। বমি, পাতলা পায়খানা কমছে না কিছুতেই। ডাক্তার জানিয়েছেন, দূষিত পানি পান করায় পেটে ব্যাকটেরিয়া ঢুকে পড়েছে। নিয়মিত ওষুধ সেবনের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি পানের পরামর্শ ডাক্তারের।
শামীম বলেন, রোববার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পরিবারের সবাই মিলে রূপাতলীরই একটি রেস্তোরাঁয় নাশতা করি। সেখানে গ্লাসে দেওয়া পানি পান করি। এরপর থেকে ঘরের তিনজনেরই পেটে ব্যথা। আমি আর স্ত্রীর বেশি কিছু না হলেও ছেলেটা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে।
শামীম হোসেনের দেওয়া তথ্যে যোগাযোগ করা হয় সেই রেস্তোরাঁয়। রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক বলেন, সাবমারসিবল পাম্প দিয়ে মাটির গভীরের পানি তুলে খাবারের জন্য রাখা হয়। সেই পানি আবার ট্যাংকিতে জমিয়ে ব্যবহার করা হয় প্লেট-গ্লাস ধুতে। পানিতে সাধারণত সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্তু হতেও পারে।
পানিতে বিষাক্ত কিছু মিশে যাচ্ছে কিনা কিংবা ব্যাকটেরিয়া আছে কিনা তা জানার জন্য তাদের কাছে কোনো উপায় নেই স্বীকার করে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেও করপোরেশনের লোক এসে হোটেলের পানি নিয়ে পরীক্ষা করতেন। এখন তারাও আসেন না, আমাদেরও যাওয়া হয় না। দূষিত পানি খেলেও করার কিছু নেই।
শামীম হোসেনের তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেলো অন্যসব খাবার হোটেলে। নগরীতে ব্যবসা পরিচালনা করা এমন তিন হাজারের বেশি হোটেল-রেস্তোরাঁ তাদের ভোক্তাদের কি বিষাক্ত নাকি বিশুদ্ধ পানি দিচ্ছেন তা জানেন না। এমনকি বাসাবাড়িতে সরবরাহকৃত পানি পরিশোধিত কিনা তা জানারও কোনো উপায় নেই। শুধু যে বরিশাল শহর—এমনই নয় বিভাগের সবগুলো জেলা-উপজেলা শহরের একই অবস্থা।
বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরে পানির গুণগত মান পরীক্ষার একমাত্র ল্যাবটি তিন বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বিভাগের প্রায় ১ কোটি মানুষ।
জাকির হোসেন নামে এক বাসিন্দা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট বা বাসাবাড়িতে সরবরাহকৃত পানির স্যাম্পল কালেকশন করে তা পরীক্ষা করে দেখা উচিত। পানি ভালো আছে কিনা, পানিতে জীবাণু মিশ্রিত কিনা। কিন্তু গত প্রায় ১০ বছরেও আমি দেখিনি সিটি করপোরেশন পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে।
বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের লাইনের পানি গায়ে লাগলে চুলকায়। এই পানি অনেকেই রান্নাবান্না বা খাবারের জন্য নেয়। আমি মনে করি, সিটি করপোরেশন পরীক্ষা না করিয়ে যে পানি দিচ্ছে তাতেই পানিবাহিত রোগ ছড়াচ্ছে। এর প্রধান কারণ পানির গুণগত মান পরীক্ষা করে না দেখা। পানি বিশুদ্ধ উত্তোলন হলেও পরবর্তীতে যে পাইপের মাধ্যমে যাচ্ছে বা যে ট্যাংকিতে রাখা হচ্ছে সেটি দূষিত করছে কিনা সেটিও দেখা উচিত।
তিনি বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠান পানি পরীক্ষা বন্ধ রাখছে। অন্য জেলার পৌরসভাগুলো পানি পরীক্ষা করাবে এটা অকল্পনীয়। তার ওপরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ল্যাব বন্ধ। অর্থাৎ বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার প্রায় ১ কোটি মানুষ দূষিত পানি খেলেও কেউ তা দেখবে না। আমরা মারাত্মক ঝুঁকিতে আছি।
বর্তমানে সিটি করপোরেশনে পানি পরীক্ষার কার্যক্রমের চেয়েও বড় কার্যক্রম নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল। তিনি বলেন, আমানতগঞ্জের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন প্রশাসক স্যার। সেটি চালু হলে দূষিত পানি সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। তা ছাড়া এখনো ২৯টি প্রডাকশন টিউবওয়েল মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন বস্তি এলাকায় খোঁজ নিচ্ছি এবং ডার্মাটোলজিস্টের কাছ থেকেও জানতে পেরেছি, পানিবাহিত রোগ বেড়েছে। এই অবস্থায় পানি পরিশুদ্ধের কাজ করা হচ্ছে।
শুধু সিটি করপোরেশন এলাকায় নয় জেলা সদরগুলোতেও পানিবাহিত রোগের প্রার্দুভাব বেড়েছে। বিশেষ করে বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে ফি বছর আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, দূষিত পানি পান করলে সাধারণত টাইফয়েড, কলেরা, আমাশয়, হেপাটাইটিস, গিয়ার্ডিয়া, ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়। পটুয়াখালীতে বড় একটি সমস্যা দেখা দিয়েছে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েল পানি উঠছে না। এজন্য মানুষ দূষিত পানি পান করছে বিভিন্ন উৎস থেকে। তারা পানি বাহিত বিভিন্ন রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে।
এই চিকিৎসাবিদ মনে করেন, দৈবচয়নভিত্তিক হলেও বিভিন্ন উৎসের পানির গুণগত মান পরীক্ষা করে দেখা উচিত।
ভোলা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মু. মনিরুল ইসলাম বলেন, সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে পানিবাহিত প্রকোপ উপকূলীয় অঞ্চলে বেশি থাকে। শীতের সময়ে শিশুদের ডায়রিয়া বেশি হয়। এ ছাড়াও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে চরাঞ্চলে। এর প্রধান কারণ ওইসব অঞ্চলের মানুষ নদী, খালের পানি পান করেন। তারা দূষিত নাকি বিশুদ্ধ পানি পান করছেন তা জানে না।
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশালের সভাপতি টুনু রাণী কর্মকার বলেন, এটি দুঃখজনক ব্যাপার যে পানির মতো স্পর্শকাতর একটি মৌলিক চাহিদার বিষয়ে সিটি করপোরেশন উদাসীন। নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নগর কর্তৃপক্ষ তৎপর থাকার কথা। কিন্তু ল্যাব বন্ধ এজন্য পানি পরীক্ষা বন্ধ থাকবে সেটি যৌক্তিক নয়। প্রয়োজনে অন্য কোনো ল্যাবে নিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশন পানির বিল তো ঠিকই নিচ্ছে, তাহলে নিরাপদ পানি সরবরাহ করতে বাধা কোথায়? আমি মনে করি, পানি এবং স্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কারো অবহেলা করা উচিত না।
সচেতন নাগরিক কমিটি বরিশালের সভাপতি অধ্যাপক গাজী জাহিদ হোসেন বলেন, পাকিস্তান আমলে দেখেছি রাস্তার পাশের হাইড্রেন্ট থেকে মানুষ পানি নিতো। সেই পানি সরকারি উদ্যোগে পরীক্ষা করিয়েও দেখা হতো বিশুদ্ধ কিনা। এখন তো মানুষ প্রকৃতির ক্ষতি করে গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তুলছে। কিন্তু নগর কর্তৃপক্ষ বা সরকারি সংস্থার পরীক্ষা করে দেখা উচিত এই পানি সুপেয় কিনা। এই বিষয়ে সুশীল সমাজ, নগরবাসী, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর আরও সচেতনতা দরকার।
বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, পানির গুণগত মান পরীক্ষার যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় ল্যাবটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যন্ত্রপাতিগুলো চলে আসলে অচিরেই আমরা ল্যাবটি চালু করে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন পয়েন্টের পানি এনে গুণগত মান পরীক্ষা করতে পারবো।
উল্লেখ্য, জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২-এর তথ্য অনুসারে বরিশাল বিভাগে ৯৩ লাখ ২৫ হাজার ৮২০ জনসংখ্যা বসবাস করে। এই বিশাল জনসংখ্যার জন্য মাত্র একটি পানি পরীক্ষাগার।
Read_more
মন্তব্য / প্রেরক
বিরামপুরকে জেলা বাস্তাবায়ন ও নাগরিক দূর্ভোগ নিরসনে স্মারকলিপি প্রদান
-
বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
বিরামপুরকে জেলা বাস্তাবায়ন ও প্রথম শ্রেণির বিরামপুর পৌর নাগরিকদের দূর্ভোগ নিরসন ও শহরের শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবিতে সোমবার ২ নভেম্বর দুপুরে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বিরামপুর পেশাজীবি ঐক্য ফ্রন্টের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম সরকার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ তানজিনা খাতুনের নিকট এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় তার সাথে ছিলেন, বিরামপুর পেশাজীবি ঐক্য ফ্রন্টের সদস্য সচিব ও বিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাহমুদুল হক মানিক, দিনাজপুর দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোজাম্মেল হক, সাবেক ভিপি গোলাম মোর্শেদ সৈকত, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, হাফিজ উদ্দিন সরকার, মোবারক আলী, ফরিদ হোসেন, মানিক চৌধুরী, মাজহারুল ইসলাম তানিম।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, বিরামপুর শহরের উভয় পাশে এবং ঢাকামোড়ে অটোরিক্সা, মিশুক, টেম্পু, ভ্যান ও বাসের অবৈধ স্ট্যান্ড অপসারণ, যানজট নিরসন, অটোরিক্সার ভাড়া নির্ধারণ, শব্দ দুষন নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করণ, ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, এবং সপ্তাহে দু’দিন পৌর কার্যালয়ে প্রশাসকের কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
দাবির প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ তানজিনা খাতুন বলেন, অচিরেই ঢাকামোড় ও হাসপাতাল মোড় সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
মন্তব্য / প্রেরক
নীলফামারীর ইজতেমায় লক্ষাধিক মুসল্লির জুমার নামাজ আদায় দারোয়ানি টেক্সটাইল মাঠে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা, শনিবার আখেরি মোনাজাত
-
প্রতিবেদন: ঢাকামোড়২৪.কম (DM24NEWS)
উত্তরের জেলা নীলফামারীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে চলছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে জুমার নামাজ আদায় করতে সমবেত হন লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
জেলার সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কসংলগ্ন দারোয়ানি টেক্সটাইল মাঠে আয়োজিত এ ইজতেমায় নীলফামারী ছাড়াও ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন। জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি মূল মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মুসল্লিদের অংশগ্রহণ
এবারের ইজতেমায় বিদেশি মুসল্লিদেরও অংশগ্রহণ রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, সুদান ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এতে অংশ নিয়েছেন।
ইজতেমায় দ্বীনের দাওয়াত, মানবকল্যাণ, ধর্মীয় জীবনযাপন এবং আখিরাতের প্রস্তুতি বিষয়ে বয়ান পেশ করা হচ্ছে।
নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সাদাপোশাকের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি মুসল্লিদের সার্বিক সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার আখেরি মোনাজাত
আয়োজকদের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ জেলা ইজতেমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আখেরি মোনাজাতে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি এবং মানবকল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য / প্রেরক
নবাবগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
-
মেহেদী হাসান, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
এ মাসিক সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফ উদ্দিন, নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুভ্রত্ব কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দীপক কুমার বণিক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়া,
মাদক, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ নানা সামাজিক সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় হয়। মাসিক সভায় বক্তারা উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
মন্তব্য / প্রেরক
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, ঘোড়াঘাটে যুবদলের ৫ শতাধিক তালবীজ রোপণ
-
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা যুবদল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে উপজেলার ২ নম্বর পালশা ইউনিয়নের পশ্চিম পালশা সড়কের পাশে পাঁচ শতাধিক তালবীজ রোপণ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এমন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
তালগাছ প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় তালগাছের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও জনসচেতনতা রয়েছে। সড়কের পাশে রোপণ করা এসব তালবীজ যথাযথ পরিচর্যায় বেড়ে উঠলে ভবিষ্যতে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।
ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মোফাজ্জল হোসেন প্রধান বলেন, ‘যুবসমাজ দেশের শক্তি। দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই যুবদলের অন্যতম অঙ্গীকার। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিম পালশা সড়কে পাঁচ শতাধিক তালবীজ রোপণের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা চাই, এ উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতন ও উদ্বুদ্ধ হোক।’
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জহরুল ইসলাম শান্ত বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইনি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সড়কে পাঁচ শতাধিক তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, গাছ লাগানো শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবনেতা বাবলু মিয়া, মাসুদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন প্রধান, ২নং পালশা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি
জোবায়ের হোসেন এবং স্বেচ্ছাসেবক নেতা সাইদুল এরশাদসহ যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য / প্রেরক
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ