Image
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

একদিনে চার পদোন্নতি: বিতর্কিত আমলা নজরুল ইসলাম ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের সুর

একদিনে চার পদোন্নতি: বিতর্কিত আমলা নজরুল ইসলাম ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের সুর
ফটো: সংগৃহিত

ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর নিজেকে ‘বৈষম্যের শিকার’ দাবি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে একদিনে চার দফায় পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম এখন বহুমুখী কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সিন্ডিকেট গঠন, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য এবং রাজউকের বিধি লঙ্ঘন করে রাজধানীতে বহুতল ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসন ও আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়া এই সাম্রাজ্যের জাল ছড়িয়ে রয়েছে ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচং জুড়ে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের সুযোগ নিয়ে নাটকীয়ভাবে সচিব পদে আসীন হন। অভিযোগ রয়েছে, সচিব হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন নামসর্বস্ব সমিতি ও সংগঠনের ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষ ব্যবহার করে সভা-মিলনমেলা চালিয়ে যান।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক মহলের দাবি, তাঁর পদোন্নতির প্রতিটি ধাপের আদেশ, গ্রেড এবং এর পেছনের প্রশাসনিক ভিত্তি কী ছিল—তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা জরুরি।

নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তাঁর কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত তোফায়েলকে ঘিরে রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর্টসের ছাত্র হয়েও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ উপায়ে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তোফায়েলের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আমলের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে আড্ডা এবং ক্ষমতার পালাবদলে খোলস পাল্টে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। বুড়িচংয়ে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় একটি হত্যাকাণ্ডে তোফায়েলের নাম এলেও পরবর্তীতে তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

এছাড়া শিক্ষা ভবনের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কবির আহমেদের মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি এবং নিজের এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বদলি করানোর ঘটনায় তো তোলপাড় শুরু হয়েছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকায় ২৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত বহুতল ভবনটিতে রাজউকের ‘ফার’ (FAR) এবং সেটব্যাক নীতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। অকুপেন্সি সনদ নেওয়ার আগেই বসবাস শুরু করার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালে রাজউক অভিযান চালিয়ে অবৈধ অংশ ভেঙে দিলেও নজরুল ইসলাম সচিব হওয়ার পর পুনরায় নির্মাণকাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ। ২০১৭ সাল থেকে দুদকের তদন্ত ও রাজউকের জরিমানা অমান্য করে পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে এই ভবনে।

অভিযোগ উঠেছে, নজরুল ইসলামকে ঘিরে গড়ে ওঠা বলয়ের সদস্যরা অল্প সময়ে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট পদে থেকেও নিয়ম ভেঙে ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ পেয়েছেন। ঘুষ দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক পদ বাগিয়ে নিয়ে উত্তরা, বসুন্ধরা ও কুমিল্লায় স্কুল, হাসপাতাল ও প্লটের মালিক হয়েছেন। খিলক্ষেতের স্টক এক্সচেঞ্জে চাকরি করলেও সাবেক সচিবের প্রভাব খাটিয়ে একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন এবং তদবির বাণিজ্য চালিয়েছেন। পাশাপাশি ‘কনটেক ডেভেলপার’, ‘কনফিডেন্স গ্রুপ’ এবং ‘বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’সহ বিভিন্ন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে আবাসন ব্যবসা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজউকের বিধি লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা। সাধারণ ক্রেতা ও সচেতন মহলের দাবি—রাজউকের বিতর্কিত ভবনগুলোর নকশা যাচাই, সম্পদ অর্জনের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রমাণিত অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জনস্বার্থে এই দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র দ্রুত জাতির সামনে আসুক—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

মন্তব্য / প্রেরক

যৌতুকের মামলার মধ্যেই স্বামীর গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ, সংসার ফিরে পেতে চান প্রথম স্ত্রী

যৌতুকের মামলার মধ্যেই স্বামীর গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ, সংসার ফিরে পেতে চান প্রথম স্ত্রী
ফটো: প্রতিনিধি

দিনাজপুরের খানসামায় স্ত্রী ও নয় বছরের কন্যাসন্তান থাকা সত্ত্বেও গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে আবু সাইদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও তা না পেয়ে প্রথম স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রীর দায়ের করা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযুক্ত আবু সাইদ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার লাটেরহাট তুলশীপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর প্রথম স্ত্রী আক্তারিনা (৩৪) খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের যুগীরঘোপা গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্ত্রী আক্তারিনার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন আবু সাইদ। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে ২০২৪ সালে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন আক্তারিনা। মামলাটি দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন আবু সাইদ। পরবর্তী সময়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিনি আদালতে হাজির হন। তবে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন তিনি।
বিষয়টি জানতে পেরে আক্তারিনা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে যান। সেখানে গিয়ে স্বামীকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। যদিও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন আবু সাইদ। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই বিয়ের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও রয়েছেন। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আবু সাইদ সেখান থেকে পালিয়ে যান এবং পরবর্তী সময়ে প্রথম স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আক্তারিনা বলেন, ‘আমি ও আমার স্বামী দুজনেই দুটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করি। আমাদের নয় বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমার স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে মারধর করেন। সংসার টিকিয়ে রাখতে অনেকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলার পর আমার স্বামী গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সংসার শুরু করেন। অথচ তিনি বিষয়টি অস্বীকার করছেন। তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও রয়েছে। আমরা সেখানে গিয়ে তাঁকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পাই। এরপর থেকে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এত কিছুর পরও আমি আমার স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সংসার করতে চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু সাইদের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী আক্তারিনা তাঁর ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের ও সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য / প্রেরক

ঢাকায় হত্যার পর নীলফামারীর ডিমলায় পুঁতে রাখা হয় কলেজছাত্রের মরদেহ। নিখোঁজের ২০ দিন পর উদ্ধার, এআই ভিডিও বানিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ

ঢাকায় হত্যার পর নীলফামারীর ডিমলায় পুঁতে রাখা হয় কলেজছাত্রের মরদেহ। নিখোঁজের ২০ দিন পর উদ্ধার, এআই ভিডিও বানিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ
ফটো: সংগৃহিত

ঢাকায় নিখোঁজের প্রায় ২০ দিন পর রাকিবুল ইসলাম (১৯) নামে এক কলেজছাত্রের মরদেহ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ঢাকায় হত্যার পর মরদেহটি নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, নিহত রাকিবুল ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুরের বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছিল।

পুলিশের দাবি, রাকিবুলকে হত্যার পর তার মরদেহ ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বসুনিয়াপাড়া গ্রামের একটি বসতভিটার এলাকায় মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিব জীবিত আছেন—এমন ভিডিও তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিও দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

পুলিশের তদন্তে ঢাকার ঘটনার সঙ্গে ডিমলায় মরদেহ গোপন করার যোগসূত্র বেরিয়ে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং মুক্তিপণের অর্থ কীভাবে নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনাটি নীলফামারীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: পুলিশ ও আজ ৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন।

মন্তব্য / প্রেরক

রংপুর শিক্ষা অফিস থেকে চার বস্তা সরকারি নথি সরানোর চেষ্টা স্থানীয়দের বাধায় অটোরিকশা আটক, নথিগুলো নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন

রংপুর শিক্ষা অফিস থেকে চার বস্তা সরকারি নথি সরানোর চেষ্টা স্থানীয়দের বাধায় অটোরিকশা আটক, নথিগুলো নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন
ফটো: কালেকটেড

রংপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্রভর্তি চারটি বড় বস্তা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের বাধায় বস্তাগুলো বহনকারী একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রংপুরের বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অফিসের পেছনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় মুখ সেলাই করা চারটি বড় বস্তা তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা অটোরিকশাটি আটকে দেন।

স্থানীয়দের দাবি, বস্তাগুলোর মধ্যে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রয়েছে। তবে এসব নথি কোথায়, কেন এবং কার নির্দেশে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি নথি সরানোর ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম ও অনুমোদন অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে নথিগুলো আসলে কী ধরনের, সেগুলো ধ্বংস বা স্থানান্তরের জন্য অনুমোদিত ছিল কি না এবং অটোরিকশায় করে কোথায় নেওয়া হচ্ছিল—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা জরুরি।

মন্তব্য / প্রেরক

বগুড়ায় শ্বশুরবাড়িতে যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, নিহতের পরিচয় নিয়ে চাঞ্চল্য

বগুড়ায় শ্বশুরবাড়িতে যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, নিহতের পরিচয় নিয়ে চাঞ্চল্য
ফটো: কালেকটেড

বগুড়া মহানগরের ঝোপগাড়ি ওলির বাজার এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে এক যুবককে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে ‘ল্যাংড়া বকুল’ নামে পরিচিত বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বকুল তার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি বা বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি প্রকাশ্যেই ঘটে। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত বকুলের বিরুদ্ধে বগুড়ার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে তিনি ঠিক কতটি মামলার আসামি এবং মামলাগুলোর ধরন কী—তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে। পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা নাকি অন্য কোনো কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে শ্বশুরবাড়িতে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date