দশটি বসন্ত ঝরে গেছে— নিঃশব্দে, কোনো শব্দ না তুলে। গাছেরা নতুন পাতা পেয়েছে, নদী বহুবার ভেঙেছে তার তীর, আকাশ অসংখ্য পূর্ণিমার আলোয় ভেসেছে; কেবল আমাদের দুটি চোখ আর একবারও একে অপরের দিকে ফিরে তাকায়নি।
সময় বড় নিষ্ঠুর, সখি। সে সবকিছু বদলে দেয়, শুধু কিছু অপেক্ষাকে অমর করে রাখে।
আটাশটি বছরের সংসার আমাদের— সে কোনো হিসেবের খাতা নয়, সে এক অনিঃশেষ মহাকাব্য; যার প্রতিটি পৃষ্ঠায় তোমার হাসির রোদ, তোমার অভিমানের বৃষ্টি, তোমার নীরবতার দীর্ঘ ছায়া আর আমার অবুঝ ভালোবাসার অসংখ্য স্বাক্ষর আঁকা আছে।
মনে পড়ে?
একটি হাত আরেকটি হাতকে ধরে কত দূরের পথকে ঘর বানিয়ে ফেলেছিলাম। একজোড়া ঠোঁট কত অনুচ্চারিত প্রতিশ্রুতির সাক্ষী হয়েছিল। একটি হৃদয়ের স্পন্দন অন্য হৃদয়ের প্রার্থনা হয়ে উঠেছিল।
সেই দিনগুলো আজ সময়ের যেন ধুলোমাখা জানালায় ঝুলে থাকা এক টুকরো রোদ্দুর— ছুঁতে গেলেই মিলিয়ে যায়, তবু আলো দিয়ে যায়।
আজও গভীর রাতের নিস্তব্ধতা আমার পাশে বসে তোমার গল্প বলে। বালিশের একপাশ আজও খালি থাকে, যেন সে-ও বিশ্বাস করতে শেখেনি তুমি আর ফিরবে না।
আমার ওষ্ঠ আজও অবচেতনেই তোমার ওষ্ঠের উষ্ণতা খুঁজে বেড়ায়। আমার আঙুলের ডগায় আজও লেগে আছে তোমার হাতের শেষ স্পর্শ— যেন সময় তাকে মুছে ফেলতে পারেনি।
আজও গভীর রাতের নিস্তব্ধতায় আমার ওষ্ঠ অবচেতনেই খুঁজে ফেরে তোমার স্পর্শের সেই চিরচেনা উষ্ণতা। আমার আঙুল আজও ভুলতে পারেনি তোমার হাতের কোমল আশ্রয়। চোখ বন্ধ করলেই মনে হয় তুমি খুব কাছে— আর চোখ খুলতেই বুঝি, সবচেয়ে বড় দূরত্বের নামই তুমি।
তোমার অনুপস্থিতি এখন আমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী। প্রতিটি ভোর তোমার নাম উচ্চারণ করেই আলো ফোটে, আর প্রতিটি সন্ধ্যা তোমার স্মৃতির কুয়াশা মেখে আমার বুকের ভেতর নেমে আসে।
মানুষ বলে, সময় নাকি সব ক্ষত শুকিয়ে দেয়। কিন্তু তারা জানে না— কিছু ক্ষত শুকায় না, বরং ফুল হয়ে ফোটে, আর তার সুবাসে সারাজীবন একজন মানুষ আরেকজনকে খুঁজে বেড়ায়।
আজও মাঝেমধ্যে মনে হয়— যদি হঠাৎ কোথাও তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে যায়! যদি এক মুহূর্তের জন্য তোমার হাতটা ধরতে ইচ্ছে করে ! যদি চোখের ভাষা ঠোঁটের সব নীরবতাকে ভেঙে দেয়!
এই ভয়েই আমি দূরে সরে থাকি।
কারণ আমি জানি, একবার তোমার চোখের গভীরে তাকালে দশ বছরের সব সংযম এক ফোঁটা অশ্রু হয়ে ঝরে পড়বে।
তুমি হয়তো বুঝতেও পারবে না, কিন্তু আমি ভেঙে পড়ব শুকিয়ে যাওয়া বৃক্ষের মতো— যে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে দৃঢ়, ভেতরে ভেতরে প্রতিদিন একটু একটু করে মরে।
তবু তোমার বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। ভালোবাসার আদালতে অভিমানও একসময় নতজানু হয়ে যায়।
শুধু মনে হয়— কিছু স্মৃতি আমাদের জীবনে আসে চিরদিন পাশে থাকার জন্য নয়, চিরদিন হৃদয়ের ভেতর বেঁচে থাকার জন্য।
যদি কোনোদিন এই পৃথিবীর কোনো ব্যস্ত বিকেলে, হঠাৎ আবার দেখা হয়ে যায়— আমি কিছুই বলব না।
শুধু নিঃশব্দে একবার তোমার চোখের দিকে তাকাব, আর মনে মনে বলব— "দেখো, আমি এখনো তোমাকেই ভালোবাসি।"
আর যদি সেই দিন কোনোদিন না-ও আসে, তবু জেনে রেখো, আমার সমস্ত অপূর্ণ ভালোবাসা প্রতিদিন ধোঁয়ার সরু রেখা হয়ে আকাশের দিকে উড়ে যায়। হয়তো বাতাস সেই ধোঁয়াকে একদিন তোমার জানালার কাছে পৌঁছে দেবে।
হয়তো তুমি বুঝবেও না, কোন অচেনা গন্ধ হঠাৎ তোমার বুকের ভেতর একফোঁটা বিষণ্নতা নামিয়ে দিল। পৃথিবী হয়তো কোনোদিন আমার নাম মনে রাখবে না। আমার অপেক্ষার ইতিহাসও কেউ লিখে যাবে না।
তবু আমি যদি কোনোদিন ধোঁয়ার ভেতর একটি নাম ভেসে উঠতে দেখি, জানি—সে তুমি। তুমি আর কেউ নও— আমার ঠোঁটের নীরব চুম্বন, আমার আঙুলের ধীর দহন, আমার অনুপস্থিতির দীর্ঘশ্বাস, আমার স্মৃতির ছাই হয়ে নিঃশেষ হতে থাকা এক প্রেম।
তুমি সেই— ধোঁয়ার কুয়াশায় প্রতিদিন আমার নাম লিখে যেতে থাকা, নিভতে নিভতেও শেষ টান পর্যন্ত আমাকেই ভালোবেসে যাওয়া, আমার সিগারেট।
মন্তব্য / প্রেরক
দিনাজপুরে বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণে কবি নজরুল শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
-
দিনাজপুর প্রতিনিধি ঃ
দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সহযোগিতায় বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণে কবি নজরুল শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউট এর পরিচালক (উপসচিব) একেএম আল-আমিন।
জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস.এম হাবিবুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ মাজহারুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নজরুল পরিষদ দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নিজাম উদ্দিন আহমেদ রয়েল। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক লাল মিয়া। অনুষ্ঠানে বক্তারা কবি নজরুল এর জীবন ও কর্মের উপর ব্যাপক আলোচনা করেন।অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল কবি নজরুল ইনস্টিটিউট ঢাকা।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠানের অতিথিদের শুভেচ্ছা পুরস্কার ও সংগীত প্রশিক্ষণে অংশ অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ এবং সাহিত্য পাঠ প্রতিযোগিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শেষে একমনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন প্রভাষক মোঃ হারুন অর রশিদ।
মন্তব্য / প্রেরক
একজন আমলার স্মৃতি কথা
Memoirs of a Civil Servant
Dr. A K M Jahangir
লেখক পরিচিতি:
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর ১৯৮২ রেগুলার বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ১৫ ডিসেম্বর ১৯৮৩ তারিখে ময়মনসিংহ কালেক্টরেটে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগদান করেন। তিনি সহকারী কমিশনার ও অর্থ কর্মকর্তা এবং উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট -এিশাল উপজেলা, মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট- ঢাকা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার - সোনারগাঁও, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) - টাংগাইল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক - ঢাকা এবং জেলা প্রশাসক - ঝালকাঠি, নড়াইল ও পাবনা পদে চাকরি করেন।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব - পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বানিজ্য মন্ত্রনালয়, উপসচিব ( বোর্ড) বস্র মন্ত্রনালয়, যুগ্ম সচিব ( উন্নয়ন) পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, যুগ্ম সচিব ( প্রশাসন) অর্থ বিভাগ এবং যুগ্ম সচিব এপিডি- সংস্থাপন মন্ত্রণালয় পদে চাকরি করেন। তিনি নভেম্বর ২০০৬- মার্চ ২০০৭ পর্যন্ত মহাপরিচালক এান ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর পদের দায়িত্ব পালন করেন। ৩১-০৩-২০০৭ তাঁকে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের ওএসডি হিসাবে বদলী করায় তিনি ৪ এপ্রিল ২০০৭ যোগদান করেন।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর ৪ এপ্রিল ২০০৭ থেকে ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ সময়ে ওএসডি ও পদোন্নতি বঞ্চিত অবস্হায় ছিলেন। তাঁর চাকরি ২৫ বছর হওয়ায় সরকারি কর্মচারী অবসর গ্রহন আইন -১৯৭৪ এর ৯(২) ধারা অনুসারে তাঁকে ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে বাধ্যতামূলক অবসর আদেশ করে।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স সহ এমএ ডিগ্রী অর্জন করেন ১৯৭৬ সালে। তিনি ১৯৯২ সালে নেদারল্যান্ডসের আইএসএস থেকে পোস্ট গ্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ডিগ্রী করেন। আমারিকার প্রেস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৯ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর এর লেখা, মাঠ প্রশাসন, ফৌজদারি বিচার প্রশাসন, চাকরির বিধি বিধান ( যৌথ প্রয়াস), Development Planning in Bangladesh, এলমে তরিকত ও মারেফত, আলোকিত মানব। দেশের বিভিন্ন জার্নালে তাঁর লেখা ৭ টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর এর স্ত্রী প্রফেসর হোসনে আরা বেগম, পুএ - প্রকৌশলী এ এইচ তাহজিব এবং কন্যা ডাক্তার ফাইকা তাবাসসুম। ৩ নাতি যথাক্রমে আযযান তেহজিব, আলীয়ান তেহজিব এবং আয়াদ শামস্।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশ এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে যোগদানের পূর্ব ১ লা জানুয়ারী ১৯৭৯ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৮১ পর্যন্ত "এসোসিয়েটেড সার্ভিসেস" আর্থ সামাজিক প্রতিষ্ঠানে গবেষণা কর্মকর্তা এবং ১১ ফেব্রুয়ারী ১৯৮১ থেকে ১৪ ডিসেম্বর ১৯৮৩ পরযন্ত শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রনালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা পরিকল্পনা পদে চাকরি করেন।
ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর এর লেখা বই প্রকাশের অপেক্ষায়, " পূর্ব বঙ্গে ইসলাম" এবং " কুমিল্লার অতীত ঐতিহ্য"।
মন্তব্য / প্রেরক
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত
-
বেলাল হোসেন, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি॥
মন্তব্য / প্রেরক
পাঁচবিবিতে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
-
পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নজরুল বর্ষ উদর্যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০ টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা পরিষদ হলরুমে নজরুল বর্ষ উদর্যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাশপিয়া তাসরিন।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ তামবিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির আহবায়ক আবু হাসনাত হেলাল মন্ডল ,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জসিম উদ্দিন, একাডেমী সুপারভাইজার জহুরুল ইসলাম, উপজেলা জামাতে ইসলামী আমির সুজাউল করিম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, পৌর প্রেসক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আহসান হাবিব, জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংগীতশিল্পী এম আই মিঠু, পৌর ছাত্র দলের আহবায়ক আর আই রকিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/ শিক্ষার্থী। পরে স্থানীয় সংঙ্গীত শিল্পীরা সম্মিলিত কন্ঠে নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান।
মন্তব্য / প্রেরক
সাম্প্রতিক
নিউজলেটার
নিউজলেটার বিবরণ