Image
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রতিবছর গড়ে পাচার হয় ১৬ বিলিয়ন ডলার

শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রতিবছর গড়ে পাচার হয় ১৬ বিলিয়ন ডলার

আর্থিক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

রোববার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রতিবেদনটি ড. ইউনূসের হাতে তুলে দেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, শ্বেতপত্রের প্রতিবেদনে অর্থনীতির প্রতিটি খাত ধরে ধরে আলাদা বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে, উন্নয়নের গল্প সাজাতে কীভাবে পরিসংখ্যানকে ম্যানুুপুলেট করা হয়েছে। উন্নয়নের গল্প শোনানো হলেও ভেতরে ভেতরে ছিল লুটপাটের এক মহাযজ্ঞ।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই প্রতিবেদন আমাদের জন্য একটা ঐতিহাসিক দলিল। আর্থিকখাতে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা ছিল একটা আতঙ্কিত হওয়ার বিষয়। আমাদের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে কিন্তু কেউ এটা নিয়ে কথা বলিনি।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস এই যুগান্তকারী কাজের জন্য কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটি চূড়ান্ত হওয়ার পর জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা উচিত এবং স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের পড়ানো উচিত।’

সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করেছে বলে জানান শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, ‘সমস্যাটি আমরা যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও গভীর। এই ৩০ অধ্যায়ের ৪০০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে কীভাবে ক্রোনি পুঁজিবাদ অলিগার্কদের জন্ম দিয়েছে, কীভাবে তারা নীতি প্রণয়নকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।’

কমিটির সদস্য ড. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, তারা ২৯টি প্রকল্পের মধ্যে সাতটি বড় প্রকল্প পরীক্ষা করে দেখেছেন প্রতিটিতে ১০ হাজার কোটি টাকা করে বেশি ব্যয় হয়েছে। ২৯টি বড় প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৮৭ বিলিয়ন ডলার বা ৭,৮০,০০০ কোটি টাকা।

পরীক্ষা করা সাতটি প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১,১৪,০০০ কোটি টাকা। অতিরিক্ত উপাদান যোগ করে, জমির দাম বেশি দেখিয়ে এবং ক্রয়ের ক্ষেত্রে হেরফের করে প্রকল্পের ব্যয় সংশোধিত করে ১,৯৫,০০০ কোটি টাকা করা হয়।

তিনি বলেন, ব্যয়ের সুবিধা বিশ্লেষণ না করেই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

অর্থপাচারে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে বিচারকাজ শুরুর পরামর্শও দেন তিনি।

কমিটির আরেক সদস্য অধ্যাপক এ কে এনামুল হক বলেন, গত ১৫ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে এবং এর ৪০ শতাংশ অর্থ আমলারা লুটপাট করেছে।

কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আবু ইউসুফ জানান, বিগত শাসনামলে কর অব্যাহতির পরিমাণ ছিল দেশের মোট জিডিপির ৬ শতাংশ। এটি অর্ধেকে নামিয়ে আনা গেলে শিক্ষা বাজেট দ্বিগুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট তিনগুণ করা যেতে পারত।

কমিটির আরেক সদস্য এম. তামিম বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। ১০ শতাংশ যদি অবৈধ লেনদেন ধরা হয় তাহলে এর পরিমাণ হবে কমপক্ষে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন সাথী, সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ।

প্রতিবেদনটি শিগগিরই সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

‘বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে শ্বেতপত্র’ শিরোনামের প্রতিবেদনে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ভারসাম্য, ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি, সরকারের ঋণ, পরিসংখ্যানের মান, বাণিজ্য, রাজস্ব, ব্যয়, মেগা প্রকল্প, ব্যবসার পরিবেশ, দারিদ্র্য ও সমতা, পুঁজিবাজার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও জলবায়ু ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

কমিটি পদ্মা সেতু, রেল সংযোগ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কর্ণফুলী টানেলের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর ওপর তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।

 

মন্তব্য / প্রেরক

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম গতিশীল করতে ১২ দফা নির্দেশনা

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম গতিশীল করতে ১২ দফা নির্দেশনা
ফটো: প্রতিনিধি

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আত্মসাৎকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর। সম্প্রতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এমন নির্দেশনা দেন। সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা বানু, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা, মহাব্যবস্থাপক এ বি এম জাহিদ হোসেন, মো. আলা উদ্দিন এবং সঞ্চয় ও ঋণ বিতরণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতা রুহুল আমীন উপস্থিত ছিলেন। সভায় মহাব্যবস্থাপক মো. আলা উদ্দিন ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সভার নির্দেশনাগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম আরো গতিশীল এবং সুশৃঙ্খল করতে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বৈঠকে একগুচ্ছ কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ

নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক কার্যালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি

শাখার কার্যক্রমের মনিটরিং জোরদার করতে জেলা বা আঞ্চলিক কার্যালয়ের জনবল বাড়াতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য আঞ্চলিক প্রশিক্ষক ও নির্দিষ্ট মডিউল তৈরি করে দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার

নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শৃঙ্খলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের অসততা ও অসদুপায় থেকে বিরত রাখতে দ্রুত নির্দেশনা প্রদান এবং সামাজিক

আমার বাড়ি আমার খামার

যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

ঋণ মনিটরিং ও জুম মিটিং

শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ কমাতে মনিটরিং ও সুপারভিশন জোরদার করতে হবে। সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি নিয়মিত জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে শাখা পর্যায়ে প্রয়োজনীয়

দিকনির্দেশনা দিতে হবে।

আইনগত ব্যবস্থা ও পুনর্গঠন

অনাদায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি শ্রেণিকৃত ঋণ হিসাবসমূহ চিহ্নিত করে ব্যাংকের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করে পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন, অবলোপন, মৃত্যুঝুঁকি আচ্ছাদন তহবিল ও মুনাফা মওকুফসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও মূল্যায়ন

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রতিটি শাখার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকে মাসভিত্তিক ভাগ করে দিতে হবে এবং মাঠ সহকারীদের মধ্যে তা বণ্টন করতে হবে। মাঠকর্মী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে তা পরবর্তী মাসের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে এবং

এক্ষেত্রে শাখা ও জেলা কার্যালয়কে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

আত্মসাৎ রোধে কঠোর পদক্ষেপ

অভ্যাসগত অর্থ আত্মসাৎকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বছরভিত্তিক আত্মসাতের তথ্য, শ্রেণিকৃত ঋণের তথ্য ও সার্টিফিকেট মামলার তথ্য পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করতে হবে। আত্মসাৎকারীদের প্রতি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে বিশেষ সার্কুলার জারি করতে হবে।

সঠিক প্রতিবেদন দাখিল

দে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঠভিত্তিক পরিদর্শন সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল বন্ধ করে বাস্তব ও সঠিক তথ্যের মাধ্যমে মাঠের প্রকৃত চিত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন

নিশ্চিত করতে হবে।

ঋণ বিতরণ ও অডিট প্রক্রিয়া

ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে লিজেন্ড ও লোন ট্র্যাকিং সিস্টেমের সঠিক মনিটরিং এবং স্পেশালাইজড অডিট জোরদার করতে হবে। ঋণ বিতরণ, পুনর্গঠন, অবলোপন, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ অডিটের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা, সুশাসন ও যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

তথ্য সুরক্ষা ও এমআইএস

প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যাদির গোপনীয়তা রক্ষা, দৈনিক খাতের তথ্য এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা বানু আমার দেশকে বলেন, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশনার আলোকে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্তব্য / প্রেরক

টানা ৭ দিন হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু

টানা ৭ দিন হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু
ফটোঃ প্রতিনিধি

হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শ্বারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর আজ থেকে আবারও আমদানি রপ্তানি শুরু হয়েছে। আমদানি রপ্তানি শুরু হয় বন্দরে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। আসতে শুরু করেছে দূর দূরান্ত থেকে পাইকার পত্ররা।

আজ শনিবার বেলা ১২ টায় হিলি সীমান্ত দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করাই শুরু হয়েছে আমদানি রপ্তানি বানিজ্য।

হিলি আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, হিন্দু ধর্মালম্বীদের শ্বারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে হিলিস্থলবন্দর দিয়ে ১৭ অক্টোবর ( শনিবার) থেকে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার পর্যন্ত টানা ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ ছিল। আজ (শনিবার) থেকে যথারীতি নিয়ম অনুযায়ী আমদানি রপ্তানি চালু হয়েছে।

এদিকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দু-দেশের মাঝে পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক ছিল ।

 

মন্তব্য / প্রেরক

অর্থনৈতিক সংস্কারে নিজস্ব পরিকল্পনা তুলে ধরছে বাংলাদেশ, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে ব্যাংককে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল

অর্থনৈতিক সংস্কারে নিজস্ব পরিকল্পনা তুলে ধরছে বাংলাদেশ, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান  আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে ব্যাংককে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল
ফটো: সংগৃহিত

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিজস্ব সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরছে বাংলাদেশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভাকে কেন্দ্র করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এ সভায় অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধি দলে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।

নিজস্ব বাস্তবতার ভিত্তিতে সংস্কার পরিকল্পনা

অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও নীতিগত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরবে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে নীতিগত সমন্বয়ের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

সংস্কার আলোচনায় ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য

সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালু করা, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলার বিষয়ও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এসব পরিকল্পনার সুফল নির্ভর করবে বাস্তবায়নের অগ্রগতি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের ওপর।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা

অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা এবং জ্বালানি ব্যয়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিসংশ্লিষ্টরা।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দেশের অর্থনীতিতে সহায়ক হতে পারে। তবে ঋণ ও সংস্কারসংক্রান্ত শর্তের পাশাপাশি দেশের স্বার্থ, আর্থিক সক্ষমতা এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

ঢাকামোড়২৪.কম-এর পর্যবেক্ষণ: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নয়, বরং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকক বৈঠকের আলোচনাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন।

মন্তব্য / প্রেরক

ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, আর্থিক সংকট কাটাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের তাগিদ

ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, আর্থিক সংকট কাটাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের তাগিদ
ফটো: সংগৃহিত

দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং কাঠামোগত সংস্কারের জন্য আগামী পাঁচ থেকে আট বছর জাতীয় বাজেট থেকে বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

শনিবার রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। খবর জাগো নিউজের।

গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক অনিয়মের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে সামাজিক সহায়তা ও বড় অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।

অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

ব্যাংক খাতের আর্থিক দুর্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ঋণ বিতরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

অন্যদিকে, ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বিপুল সরকারি অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হলে জাতীয় বাজেটের অন্যান্য খাতের ব্যয় পরিকল্পনার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, খেলাপি ঋণ আদায় এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজন জবাবদিহি ও কার্যকর সংস্কার

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শুধু সরকারি অর্থের জোগান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

সব মিলিয়ে, ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাবিত অর্থের প্রয়োজনীয়তা, অর্থায়নের উৎস এবং পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে এ উদ্যোগের সম্ভাব্য প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।

সূত্র: জাগো নিউজ, ১০ অক্টোবর ২০২৬।

মন্তব্য / প্রেরক

সাথে সংযুক্ত থাকুন

নিউজলেটার

নিউজলেটার বিবরণ

আর্কাইভ

please_select_a_date